নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: জল্পনা ছিলই। অবশেষে সেই জল্পনায় সিলমোহর দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্বয়ং। শনিবার তিনি বিধানসভায় জানিয়ে দিলেন, পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা কেন্দ্রের সংখ্যা ২৯৪ থেকে বেড়ে হবে ৪০০ বা তারও বেশি। স্বাভাবিকভাবে বাড়বে বিধায়কের সংখ্যা। কিন্তু বর্তমান বিধানসভা ভবনে একসঙ্গে এতজন বিধায়কের বসার বন্দোবস্ত করা কার্যত অসম্ভব। তাই নতুন বিধানসভা ভবন তৈরি হবে বলে এদিনই ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সংসদে ডিলিমিটেশন বিল এবং মহিলা সংরক্ষণ বিল পাশ করাতে মরিয়া কেন্দ্রের মোদি সরকার। বিল দু’টি পাশ হলে দেশের মোট লোকসভা কেন্দ্রের সংখ্যাও বাড়বে। সেই সঙ্গে বৃদ্ধি পাবে বিধানসভার সংখ্যা। এই প্রসঙ্গ উল্লেখ করে শুভেন্দু বলেন, ‘ডিলিমিটেশন এবং মহিলা সংরক্ষণের পর আসন বাড়বে। বিধানসভায় চারশোর বেশি সদস্য হবে। তখন আর এখানে বসা যাবে না। নতুন বিধানসভা ভবন তৈরি করতে হবে, যেমন নতুন সংসদ ভবন হয়েছে। নতুন ভবনের জন্য জমিও দেখা আছে। আমি অনুরোধ করব, প্রয়োজনে সর্বদলীয় প্রতিনিধিদের নিয়ে জমি পরিদর্শন করে আসুন। অর্থমন্ত্রীকে সাক্ষী রেখে বলছি, টাকার কোনো সমস্যা হবে না। বর্তমান বিধানসভা ভবন হেরিটেজ বিল্ডিং। এখানে কী হবে, তা পরে ঠিক করা হবে।’ সূত্রের খবর, নয়া বিধানসভা ভবনের জন্য রাজারহাট-নিউটাউনে জমি চিহ্নিত করা আছে।
নতুন বিধানসভা ভবন গড়া নিয়ে হঠাৎ এই তৎপরতার কারণ কী? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কেন্দ্রে বিজেপি সরকার ডিলিমিটেশন বিল পাশ করিয়ে নিতে পারবে বলেই মনে করছে এ রাজ্যের ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার। সেক্ষেত্রে জনগণনার পর্ব মিটলেই বিধানসভা এলাকা পুনর্বিন্যাসের কাজ শুরু হতে পরে। তাই ভবিষ্যতে বিধানসভার কাজকর্ম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার স্বার্থে এখন থেকেই পরিকল্পনা প্রয়োজন বলে মনে করছেন মুখ্যমন্ত্রী।
বাজেট অধিবেশনের শেষ দিনে তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যদের উদ্দেশে কড়া বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। অন্তত সাতজন মন্ত্রী সদনে উপস্থিত না থাকলে অধ্যক্ষকে অধিবেশন স্থগিত করে দেওয়ার আবেদন করেন তিনি। তাঁর সাফ কথা, ‘বিধানসভায় মন্ত্রীদের ঘর দেওয়া হয়েছে শুধু মাত্র নেমপ্লেট লাগিয়ে রাখার জন্য নয়। বিধানসভা অধিবেশন চলাকালীন বিধায়কদের সঙ্গে দেখা করে মন্ত্রীদের এলাকার সমস্যার সমাধান করতে হবে।’ অধিবেশন চললে প্রতি বুধবার তিনি নিজেও স্বরাষ্ট্র দপ্তর নিয়ে আলোচনার জন্য উপস্থিত থাকবেন বলে জানিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘আমাকে প্রশ্ন করবেন, আমি উত্তর দেব। পুলিশ নিয়ে প্রশ্ন হবে না, এমনটা নয়। সংবিধানে আস্থা থাকলে সামনে থাকবেন।’ দ্রুত বিধানসভার সমস্ত কমিটি গড়ে ফেলার প্রস্তাবও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর মতে, বছরে অন্তত ৮০ থেকে ১০০ দিন বিধানসভা অধিবেশন চলা উচিত। সেক্ষেত্রে বিধায়করা নিজ নিজ এলাকার সমস্যার কথা বেশি করে তুলে ধরার সুযোগ পাবেন। এক্ষেত্রে আইএসএফ বিধায়ক নৌশাদ সিদ্দিকি ‘এগিয়ে রয়েছেন’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এছাড়া, বিধানসভায় স্লিপে ভোটের বদলে ইলেকট্রনিক ভোটিং ব্যবস্থা, নতুন বিধায়ক আবাস নির্মাণ, বিধানসভার ক্যান্টিনের মানোন্নয়নের কথাও বলেন মুখ্যমন্ত্রী। বিরোধী দলনেতা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তৃণমূল বিধায়কদের সই জাল-কাণ্ডের নিন্দায় এদিনও সরব ছিলেন তিনি।