Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

মাদক মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দিয়ে ডিউটিতেই তোলাবাজি এএসআইয়ের, এসটিএফের ঘরে বসে ইডি-সিবিআইয়ের নথি জাল

কখনও তিনি দিল্লি পুলিসের ক্রাইম ব্রাঞ্চের অফিসার, আবার কখনও  ইডি-সিবিআই আধিকারিক! অফিসারদের সই, কেন্দ্রীয় এজেন্সির স্ট্যাম্প জাল করে ভিন্ন ভিন্ন পরিচয়ে পাঠাতেন নোটিস।

মাদক মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দিয়ে ডিউটিতেই তোলাবাজি এএসআইয়ের, এসটিএফের ঘরে বসে ইডি-সিবিআইয়ের নথি জাল
  • ২৪ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

শুভ্র চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: কখনও তিনি দিল্লি পুলিসের ক্রাইম ব্রাঞ্চের অফিসার, আবার কখনও  ইডি-সিবিআই আধিকারিক! অফিসারদের সই, কেন্দ্রীয় এজেন্সির স্ট্যাম্প জাল করে ভিন্ন ভিন্ন পরিচয়ে পাঠাতেন নোটিস। কাউকে মাদক মামলা, তো কাউকে গেমিং অ্যাপ প্রতারণায়। ভয় দেখাতেন টাকার বিনিময়ে ‘সেটিং’ করার জন্য। রাজি না হলে ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি। খোদ এসটিএফের অফিসে বসে ডিউটি চলাকালীনই রমরমিয়ে তোলাবাজির কারবার চালাচ্ছিলেন এক এএসআই। এমনকী টাকা হাতাতে এসটিএফের এসআই সাজতেও দু’বার ভাবেননি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এক ব্যবসায়ীর কাছে টাকা নেওয়াই কাল হল। নদীয়ার হরিণঘাটা থানায় এফআইআর হতেই বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয় শান্তনু মণ্ডল নামে ওই পুলিস কর্মীর বিরুদ্ধে। প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সারবত্তা প্রমাণিত হতেই তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তদন্ত শুরু হতেই হাওড়ার বাড়ি ছেড়ে বেপাত্তা শান্তনু। তাঁর খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিস।

Advertisement

রাণাঘাট পুলিস জেলা সূত্রে খবর, ২০২৪ সালেই এএসআই শান্তনু মণ্ডলের বিরুদ্ধে হরিণঘাটা থানায় লিখিতভাবে অভিযোগ করেন মসিউর মল্লিক নামে এক ব্যবসায়ী। তার ভিত্তিতে গত ২২ নভেম্বর জালিয়াতি, প্রতারণা সহ একাধিক ধারায় মামলাও (কেস নম্বর ৬১৯) দায়ের হয়। মসিউরের দাবি, গত বছর জানুয়ারি মাসে তাঁর কাছে দিল্লি পুলিসের ইকনমিক অফেন্স উইংয়ের একটি নোটিস আসে। তাতে উল্লেখ করা হয়, দিল্লিতে নিষিদ্ধ মাদকের একটি কনসাইনমেন্ট ধরা পড়েছে। সেই মামলার তদন্তে মসিউরের নাম উঠে এসেছে। সেই কারণে তাঁকে হাজিরা দিতে তলব করা হচ্ছে। নোটিসে থাকা ফোন নম্বরে যোগাযোগ করলে এক ব্যক্তি নিজেকে দিল্লি পুলিসের ইকনমিক অফেন্স উইংয়ের অফিসার হিসেবে পরিচয় দেন। বলেন, দিল্লিতে আসতেই হবে। একইসঙ্গে মামলা থেকে অব্যাহতি পেতে এক আইনজীবীর দ্বারস্থ হওয়ারও পরামর্শ দেন তিনি। সেই আইনজীবী দিল্লির কিছু অফিসে নিয়ে যান মসিউরকে। এবং কয়েকদিন পর জানান, কেস মিটে গিয়েছে। কিন্তু বিপদ শেষ হয়নি। মাস খানেকের মধ্যেই মসিউর একই বিষয় নিয়ে আবার নোটিস পান। এবার এসটিএফের তরফে। অভিযোগকারীর ভাই মেহমুদ নোটিসে থাকা নম্বরে ফোন করলে জানানো  হয়, ১০ লক্ষ টাকা দিলে কেস মিটে যাবে। ২০২৪ এপ্রিলে সল্টলেকের একটি জায়গায় এসে দাবিমতো টাকা দেন মসিউর। তারপরও নোটিস আসা থামেনি। এরপরই থানার দ্বারস্থ হন ওই ব্যবসায়ী। 
কল্যাণী আদালত সূত্রে খবর, তদন্তে নেমে নোটিসগুলিতে নাম থাকা অফিসারদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পুলিস। জানা যায়, তাঁদের সই নকল করা হয়েছে। অভিযোগকারীর ফোন কলের সূত্র ধরে একজনকে চিহ্নিত করা হয়। তদন্তে সামনে আসে ওই ব্যক্তি খোদ এসটিএফের এক এএসআই। এরপরই রাজ্য পুলিসের শীর্ষস্তরে বিষয়টি জানানো হয়। রাণাঘাট পুলিস জেলার তদন্তে উঠে আসে, দত্তপুকুরের এক ব্যবসায়ী সহ একাধিক ব্যক্তির কাছে এভাবে সিবিআই ও  ইডি নোটিস পাঠিয়ে টাকা তুলেছেন অভিযুক্ত শান্তনু। এফআইআর হওয়ার খবর পেয়েই তিনি আগাম জামিনের আবেদন করেন হাইকোর্টে। আদালত তা বাতিল করে। এরপর থেকেই ওই পুলিসকর্মী বেপাত্তা। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ