Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

ধাওয়ানকে ইনিংস উৎসর্গ আশুতোষের

ধাওয়ানকে ইনিংস উৎসর্গ আশুতোষের
  • ২৬ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০১
Prefer us on Google

বিশাখাপত্তনম: অবিশ্বাস্য ইনিংস একেই বলে! সোমবার রাতে লখনউ সুপার জায়ান্টসের বিরুদ্ধে ২১০ তাড়া করতে নেমে ৬৫ রানে পাঁচ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল দিল্লি ক্যাপিটালস। তখনই মুকেশ কুমারের পরিবর্তে ইমপ্যাক্ট সাব হিসেবে ব্যাট হাতে বাইশ গজে আসা আশুতোষ শর্মার। ৮০ বলে চাই ১৪৫, সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ। ক্রমশ কঠিন হয়েছে পরিস্থিতি। একের পর এক, উল্টোদিকে পড়েছে উইকেট। চর্চা শুরু হয়েছে, ম্যাচটা কুড়ি ওভার পর্যন্ত টিকবে তো? কল্পনাও করা যায়নি, ছক্কা মেরে দিল্লিকে অসম্ভব দেখানো জয় উপহার দেবেন আশুতোষ। আর থ্রিলারের মতো ম্যাচে তিন বল বাকি থাকতে নাটকীয়ভাবে এক উইকেটে পড়বে যবনিকা! 

Advertisement

নিশ্চিত পরাজয়কে জয়ে বদলে দেওয়া ২৬ বছর বয়সি অবশ্য প্রাথমিক উচ্ছ্বাসের ঘোর কাটিয়ে দ্রুত স্বাভাবিক। গতবছরের আইপিএলে পাঞ্জাব কিংসের হয়েও বেশ কিছু স্মরণীয় ইনিংস খেলেছিলেন। কিন্তু সবসময় দলকে জেতাতে পারেননি। সেই আক্ষেপ সঙ্গী হয়েছিল তাঁর। লখনউয়ের বিরুদ্ধে ৩১ বলে অপরাজিত ৬৬ সেজন্যই তৃপ্তি আনছে। তাঁর কথায়, ‘আগের মরশুমে অনেকবার জিতিয়ে ফিরতে পারিনি। বছরভর আমি সেটা নিয়েই চিন্তাভাবনা করেছি। ভিসুয়ালাইজ করেছি, কী উচিত ছিল। নিজের উপর বিশ্বাস ছিল যে শেষ ওভার পর্যন্ত থাকতে পারলে জয় সম্ভব। গত মরশুমেও ভালো খেলেছিলাম। তবে এখন তা আমার কাছে অতীত। ইতিবাচক দিকগুলো মাথায় রেখেছি। উন্নতির জন্য খেটেছি। ভুল শুধরে নেওয়ার চেষ্টা করেছি। ঘরোয়া ক্রিকেটের শিক্ষা কাজে লাগিয়েছি এই ইনিংসে। মেন্টর শিখর ধাওয়ানকে এই সাফল্য উৎসর্গ করছি।’
সতীর্থ বিপরাজ নিগমকেও কৃতিত্ব দিয়েছেন আশুতোষ। আইপিএল অভিষেকেই চাপের মুখে ১৫ বলে ৩৯ করেন ২০ বছর বয়সি। বিপরাজ যখন নেমেছিলেন তখন ১১৩ রানে পড়ে গিয়েছিল ছয় উইকেট। আশুতোষের কথায়, ‘বিপরাজকে বলেছিলাম বড় শট নিতে। ও কিন্তু একেবারেই ঘাবড়ে যায়নি। চাপেও ঠান্ডা মাথায় দারুণ ব্যাট করেছে।’ 
মধ্যপ্রদেশে জন্মানো আশুতোষ ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলেন রেলওয়েজের হয়ে। ইমপ্যাক্ট প্লেয়ারের নিয়ম না থাকলে হয়তো কোটিপতি লিগের মঞ্চে নজর কাড়ার সুযোগই পেতেন না তিনি। শেষ ওভারে ১১ নম্বর ব্যাটসম্যান মোহিত শর্মা ক্রিজে থাকলেও তাঁর অবিচল থাকা প্রশংসা কাড়ছে ক্রিকেট মহলের। আশুতোষ যদিও নির্বিকার, ‘নিজের ক্ষমতায় আস্থা ছিল। জানতাম ও যদি একরান নিয়ে আমাকে স্ট্রাইক নেওয়ার সুযোগ করে দেয়, ঠিকই ছক্কা মারব।’
অথচ, ম্যাচের দু’দিন আগে আঙুল কেটে গিয়েছিল আশুতোষের। কোচ হেমাঙ্গ বাদানি জানতে চেয়েছিলেন, ‘খেলতে পারবে?’ উত্তর এসেছিলে, ‘যাই ঘটুক না কেন, খেলব।’ আশুতোষ শুধু খেলেনইনি, চোখধাঁধানো ইনিংসে করেছেন বাজিমাত।

সম্পর্কিত সংবাদ