Bartaman Logo
৮ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

গলায় ওড়না পেঁচিয়ে অশোকনগরের বধূকে খুন, জেরায় স্বীকার প্রেমিকের

অশোকনগরে প্রেমিকের হাতে খুন হলেন রিঙ্কু দাস। তদন্তে প্রেমিক কুতুবউদ্দিনের স্বীকারোক্তি। বিস্তারিত জানুন।

গলায় ওড়না পেঁচিয়ে অশোকনগরের বধূকে খুন, জেরায় স্বীকার প্রেমিকের
  • ৮ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: গৃহবধূর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল যুবকের। সকাল সকাল প্রেমিকাকে বাইকে চাপিয়ে নৈহাটির বড়মা মন্দিরে পুজো দিতে নিয়ে গিয়েছিল প্রেমিক। মন্দির থেকে বেরিয়ে রাত পর্যন্ত লং ড্রাইভে ছিল তারা। রেস্টুরেন্টে খাবার খেয়ে রাতে অশোকনগর থানার তাজপুরের নির্জন জায়গা দেখে দাঁড়িয়েছিল দু’জনে। সুযোগ বুঝে পিছন থেকে ওড়নার ফাঁস গলায় চেপে যুবক খুন করে অশোকনগরের গৃহবধূ তথা প্রেমিকাকে। খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া কুতুবউদ্দিন দফাদার ওরফে বাবলুকে জেরা করে এমন তথ্য পেয়েছেন তদন্তকারীরা। ধৃতকে হেপাজতে নিয়ে খুনের প্রকৃত কারণ জানার চেষ্টা করছে পুলিশ। 

Advertisement

সোমবার তাজপুরের একটি পুকুর থেকে রিঙ্কু দাসের (৩৫) পচাগলা দেহ উদ্ধার হয়েছিল। তাঁর বাড়ি অশোকনগরের কল্যাণগড়। রিঙ্কুদেবীর মোবাইল ফোন সহ বিভিন্ন সূত্র ধরে রাতেই পুলিশ কুতুবউদ্দিন দফাদার ওরফে বাবলুকে গ্রেপ্তার করে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, রিঙ্কুদেবীর সঙ্গে অশোকনগরের বাসিন্দা সুজন দাসের বিয়ে হয়েছিল। কিন্তু বিয়ের পর স্বামীর সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় রিঙ্কু শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে চলে আসেন। এরপর প্রায় ছ’বছর তিনি অশোকনগরের কল্যাণগড় বাজার এলাকার ভাড়া বাড়িতে ছিলেন। ওই ভাড়া বাড়িতে থাকার সময় কুতুবউদ্দিনের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি হয়। তার বাড়ি গুমা-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের দোগাছিয়া গ্রামে। সেও বিবাহিত। সম্প্রতি কুতুবউদ্দিনের পরিবার পরকীয়ার কথা জেনে গিয়েছিল। ফলে তাঁর বাড়িতে অশান্তি শুরু হয়েছিল। তার জেরে রিঙ্কু ও কুতুবউদ্দিনের সম্পর্কে টানাপোড়েন শুরু হয়। কয়েক দিন আগে তাদের মধ্যে তুমুল অশান্তি হয়েছিল। তদন্তকারীদের অনুমান, এরপরই ঠান্ডা মাথায় কুতুবউদ্দিন খুনের ছক কষে। খুনের দিন অর্থাৎ ৩ তারিখ সকালে সে রিঙ্কুকে নিয়ে বড়মা মন্দিরে পৌঁছে দিয়েছিল পুজো দেওয়ার জন্য। এরপর বাইকে লং ড্রাইভে বেরিয়েছিল। শেষে রাত সাড়ে দশটায় প্রেমিকাকে নিয়ে গুমা ২ পঞ্চায়েতের তাজপুর এলাকার নির্জন জায়গায় পৌঁছয়। এরপর তাঁরা দু’জনে বাইক থেকে নেমে রাস্তার ধারে দাঁড়ায়। খুনের পর মৃতদেহ পুকুরে ফেলে সে চম্পট দেয়। পুলিশের প্রাথমিক জেরায় সে খুনের কথা স্বীকার করেছে। কুতুবউদ্দিনকে এদিন বারাসত জেলা আদালতে তোলা হলে বিচারক পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ