Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মাটি নিয়ে গবেষণা, বিশ্বের সেরা দশে বাঁকুড়ার ভূমিপুত্র অশোক

মাটির স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধারের উপায় বাতলে দিয়ে বিশ্বের দশজনের একজন হয়েছেন বাঁকুড়ার ভূমিপুত্র ডঃ অশোককুমার পাত্র।

মাটি নিয়ে গবেষণা, বিশ্বের সেরা দশে বাঁকুড়ার ভূমিপুত্র অশোক
  • ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: মাটির স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধারের উপায় বাতলে দিয়ে বিশ্বের দশজনের একজন হয়েছেন বাঁকুড়ার ভূমিপুত্র ডঃ অশোককুমার পাত্র। বাঁকুড়ার ইন্দপুর ব্লকের প্রত্যন্ত আড়ালডিহি গ্রামে এক কৃষক পরিবারে তাঁর জন্ম। কৃষিবিজ্ঞান নিয়েই পড়াশোনা। বর্তমানে তিনি নদীয়ার বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। বাঁকুড়ার লালমাটির ছেলে মাটি নিয়েই গবেষণা করেছেন। প্রচুর পরিমাণে রাসায়নিক ব্যবহারের ফলে মাটির স্বাস্থ্য যেভাবে ভেঙে পড়ছে, তাতে গোটা বিশ্ব উদ্বিগ্ন। সেই রুগ্ন মাটির স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধারই ডাঃ পাত্রের গবেষণার বিষয়। মাটির স্বাস্থ্য উদ্ধারে তাঁর দেখানো পথকে স্বীকৃতি দিয়েছে আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘রোজিটেক্স’। তাঁদের বিচারে পৃথিবীর প্রথম ১০ জন মৃত্তিকা গবেষকের তালিকায় স্থান করে নিয়েছেন অশোকবাবু। তাঁর এই স্বীকৃতি লাভে গর্বিত বিশ্ববিদ্যালয় সহ বাঁকুড়ার মানুষ।  অশোকবাবু বলেন, আমি শুরু থেকেই মাটি নিয়ে গবেষণা করছি। দীর্ঘ গবেষণার মাধ্যমে দেখা গিয়েছে, মাটিতে লক্ষ লক্ষ সূক্ষ্ম জীব রয়েছে। মাটির সুস্বাস্থ্য ধরে রাখতে তাদের ভুমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অত্যধিক রাসায়নিক ব্যবহারের ফলে মাটির পক্ষে উপকারী ওই সমস্ত জীবগুলির মৃত্যু হচ্ছে। তাদের রক্ষা করার জন্য রাসায়নিকের পরিবর্তে চাষিদের কম্পোস্ট সার প্রয়োগে জোর দিতে হবে। অশোকবাবুর নিজের গ্রামের প্রাইমারি স্কুলে প্রাথমিক শিক্ষা এবং আড়ালডিহি হাইস্কুলে পড়াশোনা শেষে দুবরাজপুর উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এগ্রিকালচার নিয়ে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেন। তারপর বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যাল থেকে কৃষিবিজ্ঞানে স্নাতক হন। দিল্লির ইন্ডিয়ান এগ্রিকালচার রিসার্চ ইনস্টিটিউট থেকে স্নাতকোত্তর এবং সেখান থেকেই পিএইচডি করেন। পরবর্তীতে সেখানেই চাকরিতে 

Advertisement

যোগ দেন। 
তারপর বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হন। গবেষণার শুরু থেকে তিনি মাটির জৈব কার্বন, নাইট্রোজেন, মাটির বাস্তুশাস্ত্র, জৈব বৈচিত্র ও মাটিতে ন্যানো সারের প্রয়োগ নিয়ে পর্যবেক্ষণ এবং বিশ্লেষণ করেছেন। যা নিয়ে তিনি ১৮টি বই সম্পাদনা করেছেন। ২০২১ সালে আইসিএআর-এর রফি আহমেদ কিদওয়াই পুরস্কার পেয়েছেন। ২০২২ সালে গ্লিঙ্কা বিশ্ব মৃত্তিকা পুরস্কার পেয়েছেন। এছাড়াও আইএআরআই-এর ‘হুকার’ সহ আন্তর্জাতিক স্তরের একাধিক পুরস্কার পান। এবার বিশ্বের সেরা ১০ মৃত্তিকা গবেষকের তালিকায় জায়গা পাওয়ায় গর্বিত বাঁকুড়াবাসী। তাঁর গবেষণা কৃষক সমাজের পক্ষে মঙ্গলময় হবে।   মৃত্তিকা গবেষক অশোককুমার পাত্র। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ