Bartaman Logo
৬ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

আশাকর্মীদের বাধা, রায়গঞ্জ স্টেশন, থানা চত্বরে ধুন্ধুমার

একাধিক দাবিদাওয়া নিয়ে কলকাতা যাওয়ার পথে আশাকর্মীদের বাধা দেওয়ার অভিযোগ।

আশাকর্মীদের বাধা, রায়গঞ্জ স্টেশন, থানা চত্বরে ধুন্ধুমার
  • ২২ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, রায়গঞ্জ: একাধিক দাবিদাওয়া নিয়ে কলকাতা যাওয়ার পথে আশাকর্মীদের বাধা দেওয়ার অভিযোগ। আর এরই প্রতিবাদে বুধবার দফায় দফায় রায়গঞ্জ শহরে প্রতিবাদ মিছিল, থানার সামনে বিক্ষোভ, রায়গঞ্জ স্টেশনে অবস্থান বিক্ষোভ করলেন পশ্চিমবঙ্গ আশাকর্মী ইউনিয়নের সদস্যরা। যার জেরে এদিন কার্যত ধুন্ধুমার বেঁধে যায় থানার সামনে। থানার মূল গেটের কাছে পুলিশের সঙ্গে তীব্র বচসায় জড়িয়ে পড়েন বিক্ষোভকারীরা। থানার গেট ভাঙারও চেষ্টা করা হয়। পাঁচিল টপকে কয়েকজন আন্দোলনকারী আশাকর্মীকে থানার ভিতরে ঢুকে যেতে দেখা যায়। আবার সেখান থেকে রায়গঞ্জ স্টেশন চত্বরে মিছিল করে এসে আরপিএফের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন আন্দোলনকারীরা। শেষপর্যন্ত আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দেয় পুলিশ। তবে তাঁদের হুঁশিয়ারি, প্রয়োজনে রায়গঞ্জ থানার পুলিশের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হবেন তাঁরা।

Advertisement

এ দিকে আশাকর্মীদের আন্দোলন কর্মসূচি নিয়ে রায়গঞ্জ পুলিশ জেলা কর্তারা কোনও মন্তব্য করতে চাননি। আশাকর্মীদের অভিযোগ, বুধবার কলকাতায় তাঁদের কর্মসূচি ছিল। সেই কর্মসূচির জন্য যাতে অনেক সংখ্যক আশাকর্মী কলকাতায় যেতে না পারেন, তার জন্য পুলিশ একাংশকে আটকানোর প্রচেষ্টা চালিয়েছে। আন্দোলনরত আশাকর্মীদের প্রাথমিকভাবে অনুরোধও করা হয়েছিল। কারণ, কলকাতায় যাতে কোনও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি না হয়।

মঙ্গলবার রাতে রায়গঞ্জ থানার পুলিশের ভূমিকায় বেজায় ক্ষুব্ধ আশাকর্মীদের সংগঠনটি। সদস্যাদের দাবি, আমরা ভাতা বৃদ্ধি, বকেয়া মেটানোর মতো একগুচ্ছ দাবি পূরণের চেষ্টায় ছিলাম। কিন্তু পুলিশ নজিরবিহীনভাবে আমাদের কলকাতায় যেতে বাধা দেয়। পশ্চিমবঙ্গ আশাকর্মী ইউনিয়নের উত্তর দিনাজপুর জেলার সম্পাদিকা মিনতি সরকার বলেন, আমাদের ডেকেছিলেন রাজ্যের স্বাস্থ্যসচিব। তাই কলকাতা পৌঁছনোর জন্য মঙ্গলবার রাতে আমরা রাধিকাপুর এক্সপ্রেসে করে কলকাতায় যাওয়ার জন্য উদ্যোগী হই। কিন্তু ওইদিন রাত আটটার পর আচমকা আমার বাড়ি ও আমাদের সংগঠনের জেলা সভাপতি মাধবীলতা পালের বাড়িতে বিশাল পুলিশ বাহিনী পৌঁছয়। আমরা যাতে কলকাতার উদ্দেশে রওনা হতে না পারি।

মিনতির বক্তব্য, আমি বাড়ি থেকে বেরতে না পারলেও সংগঠনের সভাপতি কোনওক্রমে রায়গঞ্জ স্টেশনে পৌঁছন। আরও কয়েকজন আশাকর্মী পৌঁছন। বিশাল পুলিশ বাহিনী আমাদের বাধা দিতে স্টেশনেও পৌঁছয়।

রাতে ২০ জন আশাকর্মী ও মাধবীলতা পাল ট্রেনে উঠে পড়েন। অভিযোগ, রেল পুলিশের সামনেই রায়গঞ্জ পুলিশ আশাকর্মীদের জোর করে ট্রেন থেকে নামিয়ে দেয়। ফলে আশাকর্মীরা চেষ্টা করেও কলকাতা যেতে পারেননি। পুলিশের অতিসক্রিয়তায় এবং কলকাতা যেতে বাধা দেওয়ায় এদিন প্রতিবাদে রাস্তায় নামেন সংগঠনের সদস্যরা। পশ্চিমবঙ্গ আশাকর্মী ইউনিয়নের উত্তর দিনাজপুর জেলা সম্পাদিকা বলেন, কেন্দ্র ও রাজ্যের পুলিশ একসঙ্গে আমাদের আন্দোলন আটকেছে।  • রায়গঞ্জে আশাকর্মীদের আন্দোলন ঘিরে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি। - নিজস্ব চিত্র।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ