Bartaman Logo
২৪ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

আসাদ-বিদায়ে কোন পথে সিরিয়া, অঙ্ক কষছে ভারত

প্রায় ৬৭ বছর আগের কথা। ১৯৫৭ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পথে সিরিয়ার রাজধানী দামাস্কাসে পা রাখেন জওহরলাল নেহরু। দু’দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের বয়স তখন মাত্র সাত বছর। বয়সে নবীন হলেও তৎকালীন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর সফরে নতুন মাত্রা পায় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক।

আসাদ-বিদায়ে কোন পথে সিরিয়া, অঙ্ক কষছে ভারত
  • ১০ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
Prefer us on Google
নয়াদিল্লি: প্রায় ৬৭ বছর আগের কথা। ১৯৫৭ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পথে সিরিয়ার রাজধানী দামাস্কাসে পা রাখেন জওহরলাল নেহরু। দু’দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের বয়স তখন মাত্র সাত বছর। বয়সে নবীন হলেও তৎকালীন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর সফরে নতুন মাত্রা পায় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক। বন্ধুত্বপূর্ণ সেই সম্পর্ককে সম্মান জানাতে বিশেষ পদক্ষেপ নেয় সিরিয়া। দামাস্কাসের ঐতিহাসিক উম্মায়াদ স্কোয়ারের একটি রাস্তার নাম বদলে রাখা হয় ‘জওহরলাল নেহরু স্ট্রিট’। সেই শুরু। এর পর থেকে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ক্রমেই শক্তিশালী হয়েছে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক। একদিন আগে পতন হয়েছে বাশার আল-আসাদ সরকারের। তার পরেই নয়াদিল্লির চিন্তা, এবার কোন খাতে গড়াবে দুই ‘বন্ধু’ দেশের সম্পর্ক!
Advertisement
বাশার আল-আসাদকে সরিয়ে সিরিয়ার ক্ষমতা দখল করেছে বিদ্রোহীরা। আসাদ পরবর্তী অধ্যায়ে গোটা পরিস্থিতির উপর সতর্ক নজর রেখেছে ভারত। সোমবার বিদেশ মন্ত্রকের তরফে এক বিবৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, ‘সিরিয়ার বর্তমান পরিস্থিতির উপর আমরা নজর রাখছি। আমরা সেদেশের ঐক্য, সার্বভৌমত্ব এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষার জন্য সমস্ত দলের একযোগে কাজ করার বিষয়ে জোর দিচ্ছি।’ পাশাপাশি, বিদেশ মন্ত্রকের তরফে আরও জানানো হয়েছে, দূতাবাসের তরফে সেদেশে বাসরত ভারতীয়দের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। তাঁদের সুরক্ষা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে দামাস্কাসের ভারতীয় দূতাবাস।
সিরিয়ায় সরকার বদল বিদেশ মন্ত্রকের বিবৃতি ও কেন্দ্রের তৎপরতা প্রসঙ্গে উঠে আসছে একটাই প্রশ্ন—দামাস্কাসের পালাবদল নিয়ে ভারতের এত চিন্তা কেন? কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র একটা দেশের সরকার বদলের মতো বিষয়ের সঙ্গে আসাদ যুগের অবসানকে মেলালে ভুল হবে। কারণ, জওহরলাল নেহরুর আমল থেকেই ভারতের সঙ্গে সিরিয়ার সম্পর্ক অত্যন্ত মজবুত। একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে বরাবর আসাদ পরিবারের সমর্থন ছিল নয়াদিল্লির দিকেই। বিশেষ করে কাশ্মীরের মতো ‘অতি স্পর্শকাতর’ ইস্যুতে একাধিক ইসলামি রাষ্ট্র পাকিস্তানের পাশে থাকলেও সিরিয়া বরাবরই নয়াদিল্লির পাশে দাঁড়িয়ে ভারতের অখণ্ডতার পক্ষে সওয়াল করেছে। এমনকী, ২০১৯ সালে ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের সিদ্ধান্তকেও ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে জানায় তারা। এবার সিরিয়ায় আসাদ পর্বের শেষে বিদ্রোহীদের হাত ধরে ফের একাধিক জঙ্গিগোষ্ঠী মাথাচাড়া দিতে পারে। আইএসের মতো জঙ্গি সংগঠন আরব দুনিয়ার পাশাপাশি বড় বিপদ হয়ে দেখা দিতে পারে ভারতের কাছেও। সেই কারণেই গোটা পরিস্থিতির উপর সতর্ক নজর রেখে অঙ্ক কষছে নয়াদিল্লি।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ