Bartaman Logo
২৭ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রেল, সেইল, ইসিএল সহ ১৭০০ সংস্থাকে নোটিস! পরিষেবা বন্ধের হুঁশিয়ারি আসানসোল পুরসভার

আসানসোল পুলিশ লাইনের সামনে বিলাসবহুল হোটেল। একদা শহরের হোটেল ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রক ছিলেন এই হোটেলের মালিক।

রেল, সেইল, ইসিএল সহ ১৭০০ সংস্থাকে নোটিস! পরিষেবা বন্ধের হুঁশিয়ারি আসানসোল পুরসভার
  • ২৭ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: আসানসোল পুলিশ লাইনের সামনে বিলাসবহুল হোটেল। একদা শহরের হোটেল ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রক ছিলেন এই হোটেলের মালিক। তৃণমূল জমানায় জেলার শীর্ষ নেতাদের তাঁর ছিল বেশ দহরম-মহরম। ফলে, ‘প্রভাবশালী’ বলে তকমাও জুটেছিল অচিরেই। সেই হোটেলের বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি কর বাকি! এখন আবার বিজেপির এক নেতাকে ধরে কর বাঁচাতে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ। চিত্রা মোড়ের কাছে রয়েছে অত্যাধুনিক শপিং মল। তার একাংশজুড়ে আবার শৌখিন হোটেল। সেই হোটেলের সম্পত্তি কর বাকি এক কোটি টাকারও বেশি। আসানসোল এডিডিএ অফিসের অদূরে শহরের সবচেয়ে বড় শপিং মল। সেটিরও বিপুল কর বাকি। একটি অভিজাত ব্যাঙ্কোয়েট হলের সম্পত্তি কর বাকি প্রায় দু’কোটি টাকা। এগুলি কয়েকটি উদাহরণ মাত্র। তালিকায় রয়েছে রেল, সেইল, ইসিএলের মতো কেন্দ্রের লাভজনক সংস্থাও। তাদের কাছেও প্রচুর টাকা বকেয়া পড়ে পুরসভার। প্রভাবশালী ব্যবসায়ীদের একটা বড় অংশও কয়েক দশক ধরে মেটাচ্ছে না সম্পত্তি কর। মাঝে মধ্যেই কর আদায়ে পুরসভা উদ্যোগী হয়। কর-খেলাপিরা চলে যান রাজনৈতিক দাদাদের আশ্রয়ে। আশ্চর্যজনকভাবে চাপা পড়ে যায় পুরসভার তৎপরতা। স্বাভাবিকভাবেই পুরসভার কোষাগারের হাল বেহাল। অন্যদিকে, রাস্তা, খাসজমি দখল করে কর ফাঁকি দিয়ে ফুলে ফেঁপে উঠেছে অসাধু ব্য‌বসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলি। জানা গিয়েছে, পালাবদলের পর একসব সুবিধাভোগী ব্যবসায়ীদের অনেকেই রাতারাতি শিবির বদল করে বিজেপি নেতাদের ঘনিষ্ঠ  হতে মরিয়া। ইতিমধ্যেই কারও কারও সঙ্গে বিজেপি নেতাদের সখ্য হয়ে উঠেছেন। 

Advertisement

এই পরিস্থিতিতে ফের বকেয়া সম্পত্তি কর আদায়ে তৎপর হয়েছে আসানসোল পুরসভা। চলতি সপ্তাহের মধ্যে ১ হাজার ৭০০’র বেশি সংস্থাকে নোটিস  ধরানো হচ্ছে। নোটিস পাওয়ার সাত দিনের মধ্যেই সব বকেয়া কর মেটানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নোটিসে এটাও পরিস্কার জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, এবার কর না দিলে পুরসভার নিয়ন্ত্রণে থাকা সব পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হবে। আসানসোলে রয়েছে রেলের ডিভিশন, রেল কলোনি সহ রেলের বহু অফিস। পুরসভার দাবি, সার্ভিস কর বাবদ ২৭ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে রেলের কাছে। সেইল কর্তৃপক্ষের কাছে পুরসভার পাওনা ১২.৫০ কোটি টাকা। ইসিএলের কাছে বকেয়া প্রায় এক কোটি টাকা। এই তিন কেন্দ্রীয় সংস্থাকেও নোটিস করেছে পুরসভা।  মাথার উপর এত পরিমাণ কর বকেয়া থাকায় শহরের উন্নয়নও কার্যত থমকে। পুরসভার ঠিকাদাররা দীর্ঘদিন ধরে পেমেন্ট পাচ্ছেন না। ফলে নতুন কাজ তাঁরা করতে চাইছেন না। মঙ্গলবারই আসানসোল পুরসভার কমিশনার তথা প্রশাসক দিলীপ মিশ্রা সব ইঞ্জিনিয়ারদের ডেকে ঠিকাদারদের সঙ্গে  বৈঠক করেন। কার পেমেন্টে কী সমস্য রয়েছে, তা দু’পক্ষকে নিয়ে আলোচনা করে বোঝার চেষ্টা করেন দিলীপবাবু। তিনি চাইছেন, বকেয়া কর আদায় করে শহরের উন্নয়নে নতুন গতি আনতে। দিলীপবাবু এদিন বলেন, ‘সম্পত্তি কর আদায়ে ১ হাজার ৭০০ বেশি সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানকে নোটিস করা হয়েছে। নিয়ম মেনে পুরসভারকে কর দিতেই হবে। বৈঠকে ঠিকাদারদের পাওনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ