নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পুজোর আগে শেষ মুহূর্তের কেনাকাটায় মজেছে শহরবাসী। উত্তরে হাতিবাগান থেকে নিউ মার্কেট, দক্ষিণে গড়িয়াহাট— সর্বত্র ভিড়ে ঠাসা। দরদাম করে সাজসরঞ্জাম, পোশাক কিনতে ভিড় জমাচ্ছেন মহিলারা। প্রতিবারের মতো এবারও সেই ভিড়ের মধ্যে আতঙ্ক বাড়াচ্ছে পকেটমাররা। কেনাকাটার ভিড়ে ক্রেতা সেজে লুকিয়ে তারা। গত শনিবার গড়িয়াহাটে কেনাকাটি করতে গিয়ে এক মহিলার ব্যাগ খোয়া গিয়েছে। তাঁর অভিযোগ, ব্যাগের মধ্যে একটি সোনার লকেট লাগানো চেন ছিল। তা খোয়া গিয়েছে। এরপরেই গড়িয়াহাট চত্বরে নিরাপত্তা পুলিশি নিরাপত্তা বাড়ানো হচ্ছে বলে লালবাজার সূত্রে খবর। অন্যদিকে, নিউ মার্কেটে হগ মার্কেটের সামনে পুলিশের একটি বুথ তৈরি করা হয়েছে। তা থেকেই চলছে নজরদারি।
খিদিরপুরের কার্ল মার্কস সরণির বাসিন্দা সুনীতা প্রসাদ। ৪৫ বছর বয়সি ওই মহিলা দুই মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে গড়িয়াহাটে গিয়েছিলেন গত শনিবার। মহিলার কাঁধে একটি বড়ো ব্যাগ ছিল। কিছুক্ষণ পরে একটি স্বর্ণবিপণিতে গিয়ে সেই ব্যাগটি খোলেন। মহিলার দাবি, ব্যাগের ভিতরে ছোটো একটি ব্যাগ ছিল। তিনি দেখেন, সেই ছোটো ব্যাগটি গায়েব। অনেক খুঁজেও সেই ব্যাগ মেলেনি। এরপর গড়িয়াহাট থানায় লিখিত অভিযোগ করেন সুনীতা। মামলা রুজু করে তদন্তে নেমেছে পুলিশ। আশপাশের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে তদন্তকারী আধিকারিক সূত্রে জানা গিয়েছে।
এই ঘটনার পরই গড়িয়াহাট চত্বরে থানার পাশাপাশি গোয়েন্দা বিভাগের নজরদারি চালানো শুরু হয়েছে। লালবাজার জানিয়েছে, সাদা পোশাকে মহিলা ও পুরুষ পুলিশের টিম গড়িয়াহাট চত্বরে টহল দেবে। একইসঙ্গে, নিউ মার্কেটেও পুলিশ বুথ তৈরি করেছে কলকাতা পুলিশ। শনি, রবিবারে ব্যাপক ভিড় হচ্ছে নিউ মার্কেটে। একইসঙ্গে, পুজো কাছে এসে যাওয়ায় সন্ধ্যাতেও ভিড় জমাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। হগ মার্কেটের সামনে প্রায় ১৫ ফুট উচ্চতায় একটি ওয়াচ-বুথ তৈরি করেছে কলকাতা পুলিশ। সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ওই ওয়াচ-বুথ থেকে নজরদারি চালাচ্ছেন নিউ মার্কেট থানা আধিকারিকরা। যদিও পুলিশ সূত্রে খবর, সেখানে এখনও পর্যন্ত পকেটমারির কোনো অভিযোগ জমা পড়েনি। একইসঙ্গে, কেনাকাটি করতে গিয়ে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হলে বা কোনো অভিযোগ থাকলে ওই ওয়াচ-বুথে গিয়ে অভিযোগ করতে পারবেন আম জনতা। নিজস্ব চিত্র