Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

প্রথা মেনে ভাইফোঁটা পর্যন্ত দুর্গাপ্রতিমা রাখা হয় ময়নাপুরের দেওয়ান বাড়িতে

মল্লরাজার অপেক্ষায় থেকে ভাইফোঁটা পর্যন্ত প্রতিমা রেখে দেওয়া হয়েছিল। সেই প্রথা আজও চলে আসছে জয়পুরের ময়নাপুরের দেওয়ান বাড়িতে।

প্রথা মেনে ভাইফোঁটা পর্যন্ত দুর্গাপ্রতিমা রাখা  হয় ময়নাপুরের দেওয়ান বাড়িতে
  • ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: মল্লরাজার অপেক্ষায় থেকে ভাইফোঁটা পর্যন্ত প্রতিমা রেখে দেওয়া হয়েছিল। সেই প্রথা আজও চলে আসছে জয়পুরের ময়নাপুরের দেওয়ান বাড়িতে। ৩৭০বছরের প্রাচীন পুজোয় আজও দুর্গা অভয়া (দুই হাত বিশিষ্ট) রূপে পূজিতা হন। দেওয়ানবাড়ির দেবী খুবই জাগ্রত। তিনি রাতে আলোর ঝলকানি সহ্য করেন না। সেজন্য মন্দিরের আশপাশে কোনও অনুষ্ঠান হলে রাত দশটার মধ্যে তা নিভিয়ে দিতে হয়। অথবা আলোর মুখ ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। 

Advertisement

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ময়নাপুরের দেওয়ানবাড়ির পূর্বপুরুষ শরোত্তর রায় বর্ধমানের বীজপুরে জন্মেছিলেন। পরবর্তীকালে তিনি বর্ধমান রাজার দেওয়ান নিযুক্ত হন।তখন বিষ্ণুপুর করদ রাজ্য ছিল। কর না দেওয়ায় বর্ধমানের রাজা বিষ্ণুপুরের রাজাকে চিঠি লেখেন। সেই চিঠির প্রত্যুত্তরে বিষ্ণুপুরের রাজা একটি সাদা চিঠি পাঠান। এতে বর্ধমানের রাজা প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হন। এরপরেই তিনি বিষ্ণুপুর আক্রমণের প্রস্তুতি নিতে থাকেন। ওই সময় শরোত্তর রায় বর্ধমানের রাজাকে সাদা চিঠি পাঠানোর রহস্য খোঁজার কথা বলে তাঁকে নিরস্ত্র করেন। তখনশরোত্তরবাবু খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, বিষ্ণুপুর খুবই দুর্ভিক্ষের মধ্যে পড়েছিল। সেজন্য তাঁরা কর দিতে পারেননি। বিষয়টি তিনি বর্ধমানের রাজাকে বুঝিয়ে তখনকার মতো বিষ্ণুপুরকে আক্রমণের হাত থেকে রক্ষা করেন এই শরোত্তর রায়। তখন থেকে তাঁর সঙ্গে বিষ্ণুপুরের রাজার সখ্য গড়ে ওঠে। এমনকী, বিষ্ণুপুরের রাজার এক দেওয়ান নিধিকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে মেয়ের বিয়েও দেন শরোত্তর রায়। এরপরেই মল্লরাজা শরোত্তর রায়কে ৬৫টি মৌজার অধিকারী করে দেন। তার মধ্যে ময়নাপুর ছিল। তখন থেকেই ময়নাপুরে বসবাস শুরু করেন শরোত্তর রায়।১৬৫৩সালে তিনিই প্রথম তালপাতার ছাউনি তৈরি করে দুর্গাপুজো করেন। 
পরিবারের সদস্যরা বলেন, শরোত্তর রায় প্রথম বছরেই পুজো দেখতে আসার জন্য মল্লরাজাকে নিমন্ত্রণ জানান। কিন্তু মল্লরাজা কোনও কারণে আসতে পারেননি। এদিকে,রাজার অপেক্ষায় দশমী পেরলেও মণ্ডপে মূর্তি রেখে দেওয়া হয়। কিন্তু একদিন, দু’দিন করেকালীপুজোও পার হয়েযায়। সেই খবর পেয়ে মল্লরাজা আসতে না পারার জন্য একটি আক্ষেপবার্তা পাঠান।এরপরে ভাইফোঁটার দিন প্রতিমার বিসর্জন হয়। সেই থেকে আজও এই ধারা বহাল রয়েছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ