সঞ্জিত সেনগুপ্ত, শিলিগুড়ি: দশভুজা নয়, দুই বাহু দেখা যাবে মা দুর্গার। পরনে শাড়ির পরিবর্তে লেহেঙ্গা। এবার শিলিগুড়ির দুই প্রান্তে এমনই অভিনব দুর্গা প্রতিমার দর্শন মিলবে। দুর্গাপুজো মানেই এখন থিমের প্রতিযোগিতা। নতুন নতুন থিমে নজর কাড়তেই দুর্গার এই রূপ বদল। এবারও শিলিগুড়িতে দুর্গাপুজোতে থিমের ছড়াছড়ি। থিমের তুমুল প্রতিযোগিতায় দেবী রূপের এই পরিবর্তন নিয়ে মৃৎশিল্পীদের মধ্যেও রয়েছে উন্মাদনা। পুজো কমিটির প্রস্তাব পেতেই তাঁরা শুরু করে দেন থিমের মানানসই প্রতিমা তৈরির পরিকল্পনায়।
শিলিগুড়ি শহরের দুই প্রান্তে এবারের দু’টি পুজো কমিটির পুজোর থিম মায়াপুরের ইসকন মন্দির। দু’টি মণ্ডপেরই প্রতিমা তৈরির বরাত পেয়েছেন শিলিগুড়ি কুমোরটুলির পাপাই পাল। চম্পাসারি ও সাহুডাঙির পাগালুপাড়ার ইসকন মন্দিরের থিমের মণ্ডপে তিনি শ্রীকৃষ্ণের জীবনযাত্রার উপর ভিত্তি করে প্রতিমা তৈরি করছেন। সেই ভাবনাতেই দেবীমূর্তির পরিবর্তন আনা হচ্ছে বলে জানান শিলিগুড়ি কুমোরটুলি মৃৎশিল্পী পাপাই পাল।
শিলিগুড়ির চম্পাসারির দেবীমূর্তিতে বেশি পরিবর্তন ও চমক থাকছে। পাপাই বলেন, দু’জায়গাতেই দুর্গাকে মা যশোদার রূপে দেখা যাবে। ইসকন মন্দিরের আদলে মণ্ডপ তৈরি হচ্ছে। তারসঙ্গে মানানসই প্রতিমা তৈরির জন্য পুজো কমিটি আমাকে পূর্ণ স্বাধীনতা দেয়। মণ্ডপের সঙ্গে কী ধরনের প্রতিমা করলে ভালো হয়, সেটা আমাকেই তাঁরা ঠিক করতে বলেন। সেই মতো আমিই তাঁদের প্রস্তাব দিয়েছি বৃন্দাবনে শ্রীকৃষ্ণের জীবনযাত্রার অবলম্বনে প্রতিমা তৈরির। তাহলে থিমে চমক আসবে। পুজো কমিটি তা গ্রহণ করেছে। তারপরেই আমি সেই কাজে নেমে পড়েছি।
এখানে দেবী দুর্গাকে মা যশোদার রূপ দেওয়া হচ্ছে। তাই দশ হাতের পরিবর্তে দু’টি হাত থাকবে দেবীর। শাড়ির পরিবর্তে মা পরবেন লাল রঙের লেহেঙ্গা। পাপাই বলেন, সাজসজ্জাতেও মা যশোদার রূপ ফুটে উঠবে। দেবী দুর্গার প্রচলিত বা পরিচিত গয়না এই মূর্তিতে দেওয়া হবে না। মা যশোদার অলঙ্কারে সেজে উঠবে প্রতিমা।
এখানেই শেষ নয়। আরও চমক রয়েছে। ইসকন মন্দির। তাই এখানে কার্তিক, গণেশের রূপেও পরিবর্তন থাকছে। ইসকনের সন্ন্যাসীদের বৈষ্ণবীয় পোশাকে কার্তিক ও গণেশকে দেখা যাবে মা যশোদা অর্থাৎ দেবীদুর্গার পাশে। শিল্পী আশাবাদী, তাঁর এই অভিনব ভাবনার মূর্তি দু’জায়গাতেই দর্শকদের নজর কাড়বে, সাড়া ফেলবে। নিজস্ব চিত্র।