নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: শুরু হয়েছিল অনলাইন ক্যাম্পেন রূপে। সেটাই কি নতুন এক রাজনৈতিক আন্দোলন হতে চলেছে? সোমবার এই জল্পনা উসকে দিলেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। অনলাইন এই প্রতিবাদী মঞ্চের নেতা ঘোষণা করেছেন, আমেরিকা থেকে দেশে ফিরছেন। তারপর সোজা দিল্লির যন্তরমন্তরে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে শুরু হবে অহিংস অবস্থান আন্দোলন। তাতে যোগদানের জন্য যুবসমাজকে দিল্লি আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। অর্থাৎ যা ছিল অনলাইন প্রচার, তা এবার রাস্তায় আছড়ে পড়তে চলেছে। যদিও আদৌ এই জমায়েতে দিল্লি পুলিশ তথা কেন্দ্র অনুমোদন দেবে কিনা সংশয় রয়েছে।
দেশে একের পর এক প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হচ্ছে, দুর্নীতি ধরা পড়ছে। লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ সঙ্কটে। এই অভিযোগ করে নিট, সিবিএসই, এসএসসি, সিইউইটি পরীক্ষার ব্যর্থতার দায় মাথায় নিয়ে প্রধানের ইস্তফার দাবিতে এই আন্দোলন শুরু হয়েছিল মূলত সোস্যাল মিডিয়ায়। মোদি সরকারের রক্তচাপ বাড়িয়ে জেনারেশন জেডের অনলাইন আন্দোলনে পরিণত হয়। কারণ, কয়েকদিনের মধ্যে আড়াই কোটিতে পৌঁছে যায় এই ককরোচ জনতা পার্টির ইনস্টাগ্রাম পেজের অনুগামীর সংখ্যা। এতটাই অস্বস্তিতে পড়ে কেন্দ্র যে, এক্স হ্যান্ডলের পেজ ব্লক করে দেওয়া হয়। ইতিমধ্যেই এই ককরোচ জনতা পার্টির ব্যানারে কয়েকটি রাজ্যে আন্দোলন করছে যুবসমাজ। নিট, এসএসসি, সিবিএসই পরীক্ষায় দুর্নীতির অভিযোগ কেন্দ্রকে দায় নিতে হবে বলে দাবি করেছে তারা। সোমবারই তামিলনাড়ুতে সাংবাদিক সম্মেলন করে বলা হয় ককরোচ জনতা পার্টি নামক একটি রাজনৈতিক দল তৈরি হচ্ছে। আর পাশাপাশি অভিজিৎ দীপকে অনলাইনে ভিডিও বার্তায় বলেছেন, আমি আসছি দেশে। দিল্লি এয়ারপোর্ট থেকে সোজা সংসদ মার্গ থানায় যাব। সেখানে আমরা যন্তরমন্তরে অবস্থানের অনুমতি চাইব। কিন্তু জানি না আমাকে এয়ারপোর্টেই গ্রেপ্তার করা হবে কিনা। প্রসঙ্গত এই অভিজিৎ দীপকে আগে ছিলেন আম আদমি পার্টির ইন্ডিয়া এগেনস্ট করাপশন আন্দোলনে। অর্থাৎ আন্না হাজারে ও অরবিন্দ কেজরিওয়ালের সেই দিল্লি আন্দোলন। সেই আন্দোলনও শুরু হয়েছিল যন্তর মন্তরে। সেই ধাঁচেই কি ককরোচ জনতা পার্টির যাত্রা শুরু হচ্ছে? -ফাইল চিত্র