Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বীরভূমে গ্রেপ্তার জঙ্গি আজমলের কাছে সৌদি থেকে টাকা হাওলায়

বীরভূমে গ্রেপ্তার জঙ্গি আজমলের কাছে সৌদি থেকে টাকা হাওলায়
  • ১২ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বীরভূম থেকে ধৃত জেএমবি জঙ্গি আজমল হোসেনের কাছে হাওলার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্য থেকে টাকা এসেছে। এই টাকা পাকিস্তান থেকে ঘুরপথে পৌঁছেছে সৌদিতে। পাশাপাশি সংগঠন বাড়ানোর জন্য স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে টাকা তুলছিল এই জঙ্গি। তাকে জেরা করে এই তথ্যই পেয়েছেন বেঙ্গল এসটিএফের তদন্তকারীরা। সূত্রের খবর, পাশাপাশি বিস্ফোরক কেনার জন্য ঝড়খ঩ণ্ডে লাইসেন্সপ্রাপ্ত অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট এবং জিলেটিন স্টিক কারবারিদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল।

Advertisement

রাজ্যে ভেঙে পড়া জেএমবি সংগঠনকে অনেকদিন ধরেই চাঙ্গা করতে মরিয়া বাংলাদেশে থাকা এই সংগঠনের শীর্ষ নেতারা। ওই কারণে নতুন সদস্য নিয়োগের উপর জোর দিয়েছে তারা। আজমলকে জেরা করে তদন্তকারীরা আরও জেনেছেন, নতুন সদস্য অনলাইনে নিয়োগের পর তাদের দাওয়াত দিত বীরভূমের নলহাটিতে। সেখানে জেহাদি ভাবধারা নিয়ে আলোচনা চলত। তাদের প্রশিক্ষণের জন্য ঝাড়খণ্ড ও বাংলা সীমানা লাগোয়া এলাকায় খারিজি মাদ্রাসা খুলেছিল। একইসঙ্গে মুর্শিদাবাদ, মালদা-সহ বিভিন্ন জেলায় গিয়ে ‘দাওয়াত’-এর আয়োজন করত।  সেখানে জলসার আয়োজন করে তার আড়ালে জেহাদি ভাবধারা প্রচার করেছে বলে অভিযোগ। জেরায় তদন্তকারীদের আফজল জানিয়েছে, আগ্নেয়াস্ত্র চালাতে এবং বিস্ফোরক তৈরিতে পারদর্শী সদস্য বৃদ্ধির জন্য তার কাছে বাংলাদেশ থেকে নির্দেশ আসে। প্রতিটি জায়গায় আলাদা আলাদা করে বিস্ফোরক তৈরির ইউনিট খোলার উপর জোর দেওয়া হয়।
তাই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র তৈরির জন্য বীরভূম ও মুর্শিদাবাদের বিভিন্ন জায়গায় জমি খুঁজছিল তারা। এজন্য বিভিন্ন লোকের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ আরম্ভ হয়। স্লিপার সেলে কাজে অভিজ্ঞ জেহাদিদের ভালো পরিমাণ টাকা দিতে চাইছিল আজমল, যাতে টাকার লোভে তরুণ প্রজন্ম জঙ্গি কার্যকলাপে উৎসাহিত হয়। বেঙ্গল এসটিএফের তদন্তে প্রকাশ, বাংলাদেশে থাকা পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই কর্তারা তার সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছিল। সেনাবাহিনীতে কর্মরত লোজকনের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর জন্য আইএসআই তাকে নির্দেশ দেয়। তাদের মাধ্যমে ভারতীয় সেনার গতিবিধি ও কাজকর্ম সম্পর্কে তথ্য জোগাড়ই তাদের লক্ষ্য। 
তদন্তকারীরা জানতে পারছেন, রাজ্যে জেএমবির কার্যকলাপ বাড়ানোর জন্য আইএসআই টাকা ঢালছে। এই টাকা বাংলাদেশে আসার পর তা যাচ্ছে সৌদি আরবে। সেখান থেকে হাওলা করে ভারতে আসছে। সূত্রের খবর, আজমলের কাছে এই পথেই টাকা এসেছিল। পাশাপাশি দুবাইতে  কর্মরত বীরভূম ও মুর্শিদাবাদ জেলার কিছু বাসিন্দার মাধ্যমে অর্থ আসছিল। তদন্তকারীরা নিশ্চিত যে, এইভাবে বিপুল টাকাই এসেছে এই জেএমবি জঙ্গির কাছে। এই টাকা দিয়েই বিস্ফোরক কেনার জন্য বিভিন্ন ব্যবসায়ীর সঙ্গে যোগাযোগ করে এই জঙ্গি। পাশাপাশি অবৈধ খাদান চালানো ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সেখান থেকেও বিস্ফোরক জোগাড়ের চেষ্টা করছিল। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ