নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ইডির হাতে ধৃত একটি বেআইনি অর্থলগ্নি সংস্থার কর্তা দীপক মাইতি বাজার থেকে এক হাজার কোটি টাকা তুলেছেন। তাঁকে এই কাজে সাহায্য করেছেন এজেন্ট মহম্মদ আনারুল ইসলাম। পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড, মুম্বই ও পুনের অসংখ্য আমানতকারী এই সংস্থায় টাকা রেখে প্রতারিত হয়েছেন। তদন্তে নেমে এই তথ্য হাতে এসেছে কেন্দ্রীয় এজেন্সির। আমানতকারীর টাকায় অভিযুক্তরা যেসব সম্পত্তি কিনেছিলেন, সেগুলি চিহ্নিত করার কাজ শুরু হয়েছে।
ইডি সূত্রে খবর, সারদা-রোজভ্যালি নিয়ে তুমুল হইচইয়ের মধ্যেই ২০১৭ সালে বেআইনি অর্থলগ্নি সংস্থাটি খোলেন জিয়াজুর রহমান ও দীপক মাইতি। সংস্থার মূল এজেন্ট ছিলেন আনারুল। তাঁরা সাধারণ মানুষকে বোঝাতেন, শেয়ারে টাকা খাটালে দ্বিগুণ লাভ হবে। সেই সঙ্গে তাঁদের কোম্পানির মাধ্যমে টাকা বিনিয়োগ হওয়ায় ২ শতাংশ হারে সুদও মিলবে। অর্থাৎ, দু’ভাবে লাভের মুখ দেখবেন আমানতকারী। এই টোপ গিলে অনেকেই টাকা রাখতে শুরু করেন। বছর খানেকের মধ্যে ফুলেফেঁপে ওঠে কোম্পানি। পশ্চিমবঙ্গের বাইরে বিভিন্ন রাজ্য থেকে টাকা তুলতে শুরু করে বলে অভিযোগ। প্রথমে আমানতাকারীরা কিছু টাকা ফেরতও পান। বাড়তি লাভের আশায় তাঁরা আরও বিনিয়োগ করলে আর কিছুই মেলেনি। এরপরই অভিযোগ দায়ের হয়। তখন কারবার গুটিয়ে বেপাত্তা হয়ে যান সংস্থার দুই কর্ণধার। পরে জিয়াজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে ওড়িশা পুলিস। সংস্থার আর এক কর্তা দীপক জেরায় ইডি আধিকারিকদের জানিয়েছেন, বছর পাঁচেকের মধ্যেই তাঁরা বাজার থেকে হাজার কোটির বেশি টাকা তুলে ফেলেন। আমানতকারীদের আস্থা অর্জনে ভুয়ো বিনিয়োগ দেখানো হয় শেয়ার বাজারে। প্রতিদিন কোটি কোটি টাকা নগদ জমা পড়ত সংস্থার অফিসগুলিতে। বাজার থেকে টাকা তোলার জন্য একাধিক এজেন্ট নিয়োগ করেছিলেন তাঁরা। আমানতকারীদের কাছ থেকে সংগৃহীত অর্থ সারদা- রোজভ্যালির মতোই ভুয়ো লেনদেন দেখিয়ে বাইরে পাচার করে দিয়েছেন। সেই সঙ্গে নিজেদের নামে বিপুল সম্পত্তি কিনেছেন বাংলা সহ নানা রাজ্যে।