সুকান্ত বসু, কলকাতা: গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি থাকা ‘পলাতক’ এক অভিযুক্তকে ধরার ক্ষেত্রে গড়িমসির অভিযোগ ওঠে নিউ মার্কেট থানার পুলিশের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ ব্যাঙ্কশালের বিশেষ আদালতের বিচারক লীনা গোলদার নিউ মার্কেট থানার ওসি প্রবীর কুমার মণ্ডলের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করলেন। ওই পরোয়ানা কার্যকর করার জন্য বিচারক ডিসি’কে (সেন্ট্রাল) প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়েছেন। সোমবার আদালত সূত্রে এ কথা জানা গিয়েছে। এদিকে, খোদ শহরের বুকে এক ওসির বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারিকে ঘিরে পুলিশ মহলে ব্যাপক শোরগোল সৃষ্টি হয়। আদালত সূত্রের খবর, ২০১৮ সালে এক আর্থিক প্রতারণার মামলায় এক অভিযুক্ত পলাতক রয়েছে। সেবির এই মামলায় আদালত অভিযুক্তের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। কিন্তু অভিযোগ ওঠে, দীর্ঘ সময় পরেও সেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করতে পুলিশ ব্যর্থ হয়। ফলে বার বার আদালত নতুন করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। কিন্তু তারপরেও অভিযুক্তকে ধরতে ব্যর্থ হয় পুলিশ। এরপরই বিচারক নিউ মার্কেট থানার ওসিকে আদালতে হাজির হয়ে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেন। কেন অভিযুক্তকে ধরা যাচ্ছে না, সেই মর্মে ব্যাখা দেওয়ার কথা বলে। কিন্তু অভিযোগ ওঠে, আদালতের নির্দেশের পরেও সংশ্লিষ্ট থানার ওসি কোর্টে হাজির হননি। বেশ কয়েকবার তিনি হাজিরা এড়িয়ে গিয়ে স্রেফ কোর্টে রিপোর্ট পাঠিয়ে দায় সেরেছেন। আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিবারই এই পুলিশ অফিসার আইন শৃঙ্খলার প্রশ্ন তুলে কোর্টে হাজিরা এড়িয়েছেন। এমনকী সম্প্রতি ফের একটি রিপোর্ট পাঠিয়ে একই বক্তব্য পেশ করেছেন। এরপরই ক্ষুব্ধ বিচারক চরম উদ্বেগ প্রকাশ করে সংশ্লিষ্ট থানার ওসি প্রবীরকুমার মণ্ডলের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত ধরা না পড়ায় সেবির দায়ের করা এই আর্থিক প্রতারণার মামলার শুনানি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সব মিলিয়ে আদালতের এই কড়া পদক্ষেপে পুলিশ কী অবস্থান নেয়, এখন সেটাই দেখার।



