Bartaman Logo
৪ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও ভিআইপিদের গতিবিধির ছবি তুলে পাঠাত ধৃত অর্পিতা

পাক গুপ্তচর জ্যোতি মালহোত্রার মতোই ট্রাভেল ভ্লগার ছিল ঝাড়খণ্ডের অর্পিতা সরকার। সে দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থান এবং ভিআইপিদের গতিবিধির ছবি তুলে পাঠাত।

দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও ভিআইপিদের গতিবিধির ছবি তুলে পাঠাত ধৃত অর্পিতা
  • ৪ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: পাক গুপ্তচর জ্যোতি মালহোত্রার মতোই ট্রাভেল ভ্লগার ছিল ঝাড়খণ্ডের অর্পিতা সরকার। সে দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থান এবং ভিআইপিদের গতিবিধির ছবি তুলে পাঠাত। জয়েশ-ই-মহম্মদ জঙ্গি হামিমের বান্ধবী অর্পিতা কলকাতার অলিগলি ঘুরে বেড়িয়েছে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ সমস্ত জায়গায় ভিডিও তার কাছে রয়েছে। সে পূর্ব মেদিনীপুরেও গিয়েছিল। ঝাড়খণ্ড, বিহারের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে গিয়ে সে ভিডিও শ্যুট করেছে। নিজে ইভেন্টম্যানেজমেন্ট সংস্থার সঙ্গে যুক্ত ছিল। ভিআইপিদের কাছে পৌঁছাতেই সে এই পেশা বেছে নেয়।

Advertisement

এসটিএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, অর্পিতা পড়াশোনায় বরাবরই মেধাবী। সে ইংরেজি অনার্স নিয়ে বারহাড়োয়ার একটি কলেজে পড়াশোনা করছিল। তার মাঝেই ভ্লগিং শুরু করে। নিজে বাইক চালিয়ে ঝাড়খণ্ডের বিভিন্ন জায়গা ঘুরে বেড়িয়েছে। সেরাজ্যেরও কয়েকজন ব্যবসায়ী এবং প্রভাবশালীকে হানিট্র্যাপে জড়ানো উদ্দেশ্য ছিল তার। অর্পিতার এক বান্ধবীও গোয়েন্দাদের নজরে রয়েছে। মালদহের ওই ছাত্রীর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। ওই ছাত্রীর কথা অর্পিতার পরিবারের লোকজন গোয়েন্দাদের জানিয়েছে। অর্পিতা অনেককেই গ্রুপে টানার চেষ্টা করে। তাদের বেশিরভাগই বিপদ বুঝে গ্রুপ থেকে দ্রুত বেরিয়ে যায়।  মূলত টাকার প্রলোভন দেখিয়েই তাদের অর্পিতা টানার চেষ্টা করে। 
অর্পিতা মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে। তারা দুই বোন। বড় বোনের বিয়ে হয়ে গিয়েছে। মা কয়েক বছর আগে মারা যান। বাবা তাকে পড়াশোনা শিখিয়ে নিজের পায়ে দাঁড় করানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু সে জঙ্গি জালে জড়িয়ে যাবে, এমনটা ভাবতে পারেননি। অর্পিতার এক আত্মীয় পুলিশকে জানিয়েছেন, ওর ফটোগ্রাফির নেশা ছিল। রিলস বানানোর নাম করে মাঝেমধ্যে ঘুরতে যেত। তিন-চারদিন পর বাড়ি ফিরত। সোশ্যাল মিডিয়া থেকে সে আয় করছিল বলে পরিবারের অনুমান ছিল। দেড় বছর ধরে তার জীবনযাপন বদলে যায়। নিজেই দামি মোবাইল কেনে। এছাড়া যখন যা ইচ্ছে হত, সেটাই সে কিনত।
গোয়েন্দা সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, পাকিস্তানি গ্যাংস্টার তথা জঙ্গি  শাহজাদ ভাট্টির সঙ্গে তার কোনোদিন সরাসরি কথা হয়নি। কিন্তু ভাট্টি ঘনিষ্ঠ রানা হুসেন সহ কয়েকজনের সঙ্গে তার সুসম্পর্ক ছিল। ভাট্টি তার গ্যাংয়ে ‘জেন জি’দের টানত। সুন্দরী যুবতীদের গ্যাংয়ে ধরে রাখতে মোটা টাকা পাঠানো হত। তবে সেই টাকা কখনোই সরাসরি অ্যাকাউন্টে আসেনি। ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে হাত ঘুরে তার কাছে টাকা পৌঁছাত বলে গোয়েন্দাদের অনুমান। অর্পিতার ভ্লগিংয়ের যাবতীয় খরচ ভাট্টি গ্যাংই জোগাত।  

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ