নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মহাকরণের সামনের রাস্তা ধরে লালবাজারের দিকে যাচ্ছিল সেনাবাহিনীর একটি গাড়ি। আচমকাই গাড়িটি বাম দিকের লেন থেকে ডানদিকে ঢুকতে যায়। অথচ সেখানে ট্রাফিক পুলিসের তরফে লাগানো বোর্ডে জ্বলজ্বল করছে ‘নো রাইট টার্ন’ সূচক চিহ্ন। ঠিক তখনই পিছন থেকে আসছিল কলকাতার পুলিস কমিশনার মনোজকুমার ভার্মার গাড়ি। মাত্র কয়েক ফুটের ব্যবধানে দুর্ঘটনা এড়ান সিপির গাড়ির চালক।
কাজের দিনের ব্যস্ত সময়ে, সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে বিবাদী বাগ (উত্তর) রোড ও ওল্ড কোর্ট হাউস স্ট্রিটের সংযোগস্থলে। হেড কোয়ার্টার ট্রাফিক গার্ডের তরফে প্রাথমিকভাবে আটক করা হয় সেনার গাড়িটি। পরে হেয়ার স্ট্রিট থানাকে খবর দেওয়া হয়। ট্রাফিক বিধি ভেঙে রাস্তায় বিপজ্জনকভাবে গাড়ি চালানোর অভিযোগে মোটর ভেহিকলস আইন অনুযায়ী মামলা দায়ের করে হেড কোয়ার্টার ট্রাফিক গার্ড। এরপর গাড়িটি ফোর্ট উইলিয়ামে ফেরত যায়।
মহাকরণের সামনের রাস্তাটি বিবাদী বাগ (উত্তর) রোড ও ওল্ড কোর্ট হাউস স্ট্রিট ক্রসিং পর্যন্ত দুই ভাগে বিভক্ত। লোহার রেলিং দিয়ে আলাদা করা হয়েছে দু’টি লেন। কলকাতা পুলিসের ট্রাফিক বিভাগ জানিয়েছে, বাঁদিকের লেনটি ব্যবহার করা হয় সোজা লালবাজারের দিকে যাওয়ার জন্য। মহাকরণের সামনে যেখানে রাস্তাটি বিভক্ত হচ্ছে, সেখানেই এই দিগনির্দেশ স্পষ্ট করা আছে। রাস্তার মাঝেও রয়েছে দিগনির্দেশক সাইনেজ।
অভিযোগ, এরপও বিধি ভঙ্গ করেছে সেনার গাড়ি। লালবাজারের দিকে যাওয়ার লেনের একেবারে বাঁদিকে ছিল গাড়িটি। সেই সময়েই বাসভবন থেকে লালবাজার যাচ্ছিলেন কলকাতা পুলিসের শীর্ষকর্তা। সেনার গাড়ির ডানদিক দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে সিপির গাড়ি। ক্রসিংয়ের কাছে আচমকাই সেনার গাড়ি ‘রাইট টার্ন’ নিয়ে ডালহৌসির দিকে মোড় নিতে যায়। কোনওক্রমে সেনার গাড়িকে কাটিয়ে বেরিয়ে যান সিপির গাড়ির চালক। অল্পের জন্য রক্ষা পান তাঁরা। অভিযুক্ত গাড়িচালক তথা সেনাবাহিনীর জওয়ান বলেন, ‘ওই রাস্তয় ট্রাফিকবিধি সম্পর্কে অবহিত ছিলাম না। ক্রসিং থেকে ডানদিকে যাওয়া যায় না, জানতাম না।’ ডিসি (ট্রাফিক) শ্রীকাম্ত জগন্নাথরাও বলেন, ‘লেনের বিধি ভাঙা ও বিপজ্জনকভাবে গাড়ি চালানোর অভিযোগে চালকের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা ও মোটর ভেহিকলস আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’