নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী। মেয়ের দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষার পরই গিয়েছিলেন কাশ্মীর। মেয়ের আবদার মিটিয়ে আর ফেরা হয়নি। বৈসরণ ভ্যালিতে জঙ্গিদের টার্গেটের সামনে পড়ে গুলিবিদ্ধ হন বেহালা সখেরবাজারের সমীর গুহ। স্বামীর মৃত্যুর পর এবার মুখ খুললেন তাঁর স্ত্রী শর্বরী গুহ। তিনি বলেন, ‘আমরা ভ্যালিতে ঘুরছিলাম, ছবি তুলছিলাম। হঠাৎ কিছু গুলির শব্দ কানে এল। আমার স্বামী ওখানের একজন দোকানদারকে জিজ্ঞেস করলেন, কী হয়েছে? উনি জানালেন, এখানে বাঁদরদের তাড়াতে শূন্যে গুলি ছোড়া হয়। কিন্তু তারপরও গুলির শব্দ চলতে থাকে। অনেকক্ষণ ধরেই গুলি চলেছে। কিন্তু, পাহাড়ের কাছেই সেনার ক্যাম্প, এতক্ষণ ধরে গুলি চলার শব্দ পেয়েও কেউ এল না কেন?’
১২ দিন কেটে গিয়েছে। চোখের সামনে বাড়ির একমাত্র রোজগেরে সদস্যের এমন পরিণতিতে প্রাথমিক ধাক্কা কাটিয়ে এখন বাঁচার লড়াই মূল চিন্তার বিষয় হয়ে উঠেছে বেহালার গুহ পরিবারে। এদিন সখেরবাজারের বাড়িতে বসে তাঁর কথায় এই বিষয়টি স্পষ্ট। তাঁর বক্তব্য, ‘জঙ্গিরা আমাদের বলল, হিন্দু-মুসলমান আলাদা হয়ে যাও। যারা মুসলমান, তারা কলমা পড়ো।’ তখন আমাদের পাশেই থাকা মুসলিমরা কলমা পড়তে শুরু করল। তারপর হিন্দুদের বেছে বেছে গুলি চালাল। আমার স্বামীর সামনে একজন এসে গুলি করল। তারপর বলল, ‘মোদি কা আদমি হ্যায়।’ আমি ওই অবস্থাতেও খুব অবাক হয়ে গিয়েছিলাম যে আমার স্বামী যে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী, ওরা জানল কীভাবে?’
অন্যদিকে, আইএসসি পরীক্ষা শেষ করেই কাশ্মীর ঘুরতে গিয়েছিল সমীরবাবুর মেয়ে শুভাঙ্গী গুহ। সম্প্রতি তার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। শর্বরীদেবী জানিয়েছেন, বাবা চলে যাওয়ার জেরে শোকার্ত মেয়ে। তার মধ্যেই ফলাফল প্রকাশ হয়েছে। ৮৭ শতাংশ নম্বর পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে কিশোরী। সাইকোলজি নিয়ে স্নাতক স্তরে ভর্তি হচ্ছে শুভাঙ্গী। লরেটো কলেজে পড়াশোনার করবে সে। কিশোরীর সঙ্গে কথা বলা যায়নি। তাঁর মা জানিয়েছেন, সমীরের ইচ্ছা ছিল মেয়ে সাইকোলজি নিয়ে পড়াশোনা করুক। সেইমতোই প্রস্তুতি নিচ্ছিল মেয়ে। বাবার স্বপ্নকেই এবার বাস্তব করার পথে শুভাঙ্গী। নিজস্ব চিত্র