


নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: প্রেমিকের সঙ্গে যোগসাজশে নিজের ছেলেকে অপহরণের নাটক সাজিয়েছিল ডোমজুড়ের মহিলা সঙ্গীতা। শনিবার বিকেলে দাশনগর থানা এলাকার ওই ঘটনায় পুলিস তাকে গ্রেপ্তারের মাসখানেক আগে ঘোলা থানার পুলিসও তাকে পাকড়াও করেছিল। সেক্ষেত্রেও তারা একই কায়দায় নিজেদের গাড়িচালকের মেয়েকে অপহরণের চিত্রনাট্য সাজিয়েছিল। আর ফাঁসানোর চেষ্টা করেছিল এক সেনা জওয়ানকে। পুলিস জানিয়েছে, ওই মহিলাই হাওড়ার মাকড়দহের সঙ্গীতা সিং। পুলিস এই চক্রে যুক্ত সঙ্গীতার প্রেমিক কৌশিক বসু ও উদ্ধার হওয়া নাবালিকার বাবার খোঁজ শুরু করেছে। সোমবার ধৃতকে বারাকপুর মহকুমা আদালত সাতদিনের পুলিস হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। মহিলার গোপন জবানবন্দিও রেকর্ড করা হয়েছে।পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৯ মে ঘোলা থানায় বছর দশেকের এক নাবালিকা নিখোঁজের অভিযোগ দায়ের হয়। নাবালিকার মা থানায় জানিয়েছিলেন, রিষড়ার এক ব্যক্তি তাঁদের পরিবারের পরিচিত। তিনি বাড়িতে এসে লজেন্স দেওয়ার নাম করে নাবালিকাকে গাড়িতে তুলে নিয়ে গিয়েছে। পুলিস ওই অপহরণের ঘটনার তদন্তে নেমে জানতে পারে, রিষড়ার যে ব্যক্তির নামে অভিযোগ করা হয়েছে, তিনি সেনাবাহিনীর জওয়ান। ফোর্ট উইলিয়ামে কর্মরত। তিনি ঘটনার বিন্দুবিসর্গ জানেন না। পুলিস নাবালিকার পরিবারকে চেপে ধরে। ওই পরিস্থিতিতে কামারকুণ্ডু স্টেশন থেকে ৪ জুন উদ্ধার করা হয় নাবালিকাকে। এরপর নাবালিকার সঙ্গে কথা বলে পুলিস হাওড়ার মাকড়দহের বাসিন্দা সঙ্গীতা সিং ও তার প্রেমিক কৌশিক বসুর পরিকল্পনার কথা জানতে পারে। এরমধ্যে হাওড়ার দাশনগরে সঙ্গীতা সিংয়ের নিজের ছেলেকে অপহরণের নাটক প্রকাশ্যে আসে। সেখানেও কৌশিকের সঙ্গে মিলে সে এই পরিকল্পনা সাজিয়েছিল। রবিবার রাতে পুলিস সঙ্গীতাকে গ্রেপ্তার করে। পুলিস জানিয়েছে, কৌশিকের গাড়িচালক ছিল ওই নাবালিকার বাবা রাহুল ভৌতকর। কৌশিক ও সঙ্গীতা ওই সেনা জওয়ানকে ফাঁসাতেই গাড়িচালকের মেয়েকে অপহরণের মিথ্যা নাটক সাজিয়ে ঘোলা থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিল। এই পরিকল্পনায় গাড়িচালককেও তারা শামিল করেছিল। কেন তারা এই ছক সাজিয়েছিল, ধৃতকে জেরা করে তা জানার চেষ্টা করছে পুলিস।