নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ভোট নাকি যুদ্ধ? শহরবাসীর মনে এ প্রশ্ন জেগেছিল আগেই। নির্বাচনের দিনক্ষণ যত এগিয়ে আসছে, নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নামে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ‘রণসাজ’ সেই প্রশ্নকে কার্যত আরও প্রাসঙ্গিক করে তুলছে। সকালে বাজারের ব্যাগ হাতে বেরিয়ে সাঁজোয়া গাড়ির টহল দেখে ভিরমি খেয়ে পড়ার মতো অবস্থা হচ্ছে শহরবাসীর। অতীতে কখনও কোনো ভোটে এমন দৃশ্য দেখা গিয়েছে কি না, মনে করতে পারছেন না পাড়ার প্রবীণ বাসিন্দারা। পথেঘাটে এমন ‘যুদ্ধ যুদ্ধ’ ভাব দেখে রীতিমতো তাজ্জব শহরবাসী।
সম্পূর্ণ লোহার তৈরি গাড়ি। সেই গাড়ির ছাদ থেকে বেরিয়ে রয়েছে আধাসেনার হেলমেট পরিহিত মাথা। ধীর গতিতে এগিয়ে চলেছে সেই সাঁজোয়া গাড়ি। তীক্ষ্ণ নজরে চারপাশ ছানবিন করে নিচ্ছেন বাহিনীর সেই জওয়ান। পর্ণশ্রী থানার পাশে এঁদো গলিতে এমন গাড়ি দেখলে যে কারও মনে হতে পারে, সিনেমার শ্যুটিং চলছে! বালিগঞ্জ ফাঁড়ির কাছেও একই দৃশ্য। সাঁজোয়া গাড়ির জানালা ও বনেট লোহার গ্রিল দিয়ে ঘেরা। গাড়িতে লেখা ‘সিআরপিএফ’। কেন্দ্রীয় বাহিনীর এক জওয়ান হাতে একে-৪৭ নিয়ে কলকাতার রাজপথে টহল দিচ্ছেন সেই গাড়িতে।
তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থার কর্মী সনৎ কর্মকার বলছিলেন, ‘এবারের ভোটে তো চেনা কলকাতাই অচেনা হয়ে উঠেছে। মনে হচ্ছে ভোটের শহর নয়, যুদ্ধক্ষেত্রে আছি।’ রাস্তায় রাস্তায় টহল দিচ্ছেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। এখন আবার জেলা নির্বাচনি আধিকারিকরা পুলিশ ও বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে টহল দিচ্ছেন। উদ্দেশ্য ভোটারদের মনোবল চাঙা করা। ভয়হীন ভোট করাতে বদ্ধপরিকর কমিশন।
পর্ণশ্রী পল্লির ৭৩ ছুঁইছুঁই বৃদ্ধা শান্তি দাস বলেন, ‘এত বছর ধরে ভোট দিচ্ছি। কিন্তু এমন দৃশ্য দেখিনি। সাঁজোয়া গাড়ি ঘুরছে। কেন্দ্রীয় বাহিনী ভোটের প্রায় দেড় মাস আগে থেকে বন্দুক হাতে টহল দিচ্ছে। অথচ আমাদের পর্ণশ্রীতে ভোটে কখনও বড়ো কোনো অশান্তি হয়নি। এ বছর কি হঠাৎ করে কলকাতা স্পর্শকাতর হয়ে পড়ল?’ তবে শুধু সাঁজোয়া গাড়ি নয়, কলকাতাবাসী তাজ্জব আরও এক নজিরবিহীন ছবি দেখে! ২০১৪-১৫ সাল থেকে শহরের রাস্তায় অ্যাপ ক্যাবের চলাচল বেড়েছে। তখন থেকে তিনটি লোকসভা ভোট, দু’টি বিধানসভা ভোট দেখেছে শহরবাসী। কিন্তু কখনও পি টি জেড ক্যামেরা লাগানো অ্যাপ ক্যাব দেখা যায়নি। গাড়ির মাথায় লাগানো রয়েছে এই ক্যামেরা। অলিগলিতে ঘুরছে সেই গাড়ি। প্রত্যেকটি গাড়িতে থাকছেন নির্বাচন কমিশনের একজন আধিকারিক, কলকাতা পুলিশের এক কর্মী ও দু’জন আধাসেনা জওয়ান। সিংহভাগ শহরবাসীর বক্তব্য, ‘নজরদারি চালানোর এমন ব্যবস্থা আগে দেখিনি।’