Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

লোকাল ট্রেনে ডাবল ইঞ্জিনের বিহার থেকে বাংলায় অস্ত্র পাচার অব্যাহত

সেইমতো বুধবার দুপুরে আসানসোল স্টেশনের দু’ নম্বর প্লাটফর্মে গয়া-আসানসোল মেমু থামতেই তৎপর হয়ে ওঠে জিআরপি

লোকাল ট্রেনে ডাবল ইঞ্জিনের বিহার থেকে বাংলায় অস্ত্র পাচার অব্যাহত
  • ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: খবর ছিল আগেই। সেইমতো বুধবার দুপুরে আসানসোল স্টেশনের দু’ নম্বর প্লাটফর্মে গয়া-আসানসোল মেমু থামতেই তৎপর হয়ে ওঠে জিআরপি। প্রতিটি কামরায় তারা তল্লাশি চালায়। কিন্তু তল্লাশিই সার। একের পর এক কামরা থেকে বিফল হয়ে ফিরতে হয় তাদের। হতাশ জিআরপি যখন হাল দেওয়ার মুখে, তখনই নজরে আসে একটি পরিত্যক্ত কালো রঙের ব্যাগ। সেটি একেবারে নতুন। সন্দেহ হতে সেটি খুলে দেখতেই চোখ কপালে ওঠে জিআরপির। ব্যাগের ভেতর থেকে বের হয় দু’টি সেভেন এমএম পিস্তল। ফাঁকা দু’টি ম্যাগাজিন ও ১৪ রাউন্ড কার্তুজ। বিষয়টি গোপনে রেখে হন্যে হয়ে ব্যাগের মালিককে খুঁজতে থাকে জিআরপি। কিন্তু শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কোনও সন্ধান মেলেনি। 

Advertisement

গত মাসেই লোকাল ট্রেনে করে অস্ত্র পাচার ভেস্তে দিয়েছিল রাজ্য এসটিএফ। বিহারের কুখ্যাত অস্ত্র কারবারি অণ্ডাল স্টেশনে নামার সঙ্গে সঙ্গেই এসটিএফ অফিসাররা তাকে ঘিরে ফেলে ন’টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করে। সেবারও জানা গিয়েছিল, বিহার থেকেই আনা হচ্ছিল অস্ত্রগুলি। তার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের অস্ত্র কারবারের হদিশ। এবার সাফল্য‌ ঩পেল জিআরপি। যদিও চক্রের কাউকে তাঁরা এখনও ধরতে পারেনি। তদন্তে উঠে এসেছে বিহার থেকে অস্ত্রগুলি বাংলায় পাচার করা হচ্ছিল। 
বিজেপি ও তাঁর জোটসঙ্গী নিতিশ কুমারের জেডিইউ বিহার শাসন করছে। ডবল ইঞ্জিন সরকার নিয়ে বার বার ঢাক পেটায় বিজেপি। সেই ডবল ইঞ্জিন রাজ্য থেকে কীভাবে বার বার বাংলায় অস্ত্র পাচার হচ্ছে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বাংলার পুলিসই এই অস্ত্রপাচার বার বার ভেস্তে দিচ্ছে। কেন এনডিএ সরকারের নিয়ন্ত্রাধীন বিহার পুলিস বা কেন্দ্রর অধীনে থাকা আরপিএফ এই অস্ত্র কারবারের হদিশ পাচ্ছে না, উঠছে সেই প্রশ্ন। অনেকেই এর মধ্যে ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছেন। বছর ঘুর঩লেই বাংলায় বিধানসভা নির্বাচন, তার আগে ইউপি, বিহার থেকে বাংলায় অস্ত্র ঢুকিয়ে বাংলাকে অশান্ত করার অভিযোগ আগেই তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। এবার পর পর লোকাল ট্রেনে করে অস্ত্র পাচার বিষয়টি সামনে আসতেই ফের তারা সরব হয়েছে। 
যাত্রী নিরাপত্তার দিক থেকেও বিষয়টি যথেষ্ট উদ্বেগজনক। ভিড়ে ঠাসা লোকাল ট্রেনগুলিতে যে কোনও সময়ে অঘটন ঘটে যেতে পারে। অস্ত্র কারবারিরা যাত্রীদের মানব ঢাল বানিয়ে পালিয়ে যেতেই পারে। দু’টি ক্ষে঩ত্রেই যাত্রীদের আতঙ্কিত হওয়ার কারণ রয়েছে। 
পশ্চিম বর্ধমান জেলা পরিষদের মেন্টর ভি শিবদাসন দাসু বলেন, বিজেপি পরিকল্পনা করে বাংলাকে অশান্ত করে তুলতে চাইছে। কেন বিহার থেকে বার বার বাংলায় অস্ত্র পাচার হচ্ছে। এটাই বিহারের সুশাসন, যেখানের অস্ত্র অন্য রা঩জ্যের অশান্তি সৃষ্টি করবে। বিজেপি জেলা সহসভাপতি প্রশান্ত চক্রবর্তী বলেন, বিজেপি হিংসার রাজনীতি করে না। ওটা তৃণমূলের কালচার। আসানসোল জিআরপির আইসি গোপিকা সুন্দর দত্ত বলেন, দু’টি আগ্নেয়াস্ত্র ও প্রচুর কার্তুজ পাওয়া গিয়েছে। মামলা রুজু করে তদন্ত চলছে। নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ