Bartaman Logo
২৯ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

অদম্য জেদ নিয়ে মাধ্যমিকে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন অর্কদীপ

অদম্য জেদ আর মনের জোর থাকলে যে কোনও শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করা যায়, তার উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে দাঁড়াল চন্দ্রকোণার অর্কদীপ জানা।

অদম্য জেদ নিয়ে মাধ্যমিকে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন অর্কদীপ
  • ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, ঘাটাল: অদম্য জেদ আর মনের জোর থাকলে যে কোনও শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করা যায়, তার উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে দাঁড়াল চন্দ্রকোণার অর্কদীপ জানা। জন্ম থেকেই শরীরের নানা জটিলতা ওর নিত্যসঙ্গী। শৈশব থেকেই লড়াই শুরু হয়েছে। এই অল্প বয়সেই দু-দুবার মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার হয়েছে অর্কদীপের। ঝাড়ুল রাখাল চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের এই ছাত্রের হাঁটাচলা এখনও টলোমলো। কথা বলতে পারলেও কলম ধরার মতো শারীরিক ক্ষমতা নেই তার। কিন্তু মনের কোণে জমে থাকা শিক্ষার আলো নিভতে দেয়নি সে। তাই রাইটারের সাহায্য নিয়েই এ বছর জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষা অর্থাৎ মাধ্যমিক দিচ্ছে অর্কদীপ।

Advertisement

পরীক্ষার কেন্দ্র পড়েছে চন্দ্রকোণা কল্যাণশ্রী জ্ঞানদা দেবী বালিকা বিদ্যালয়ে। সোমবার সকালে বাবা স্নেহাশিস জানা এবং মা সুচিত্রা জানার হাত ধরে যখন অর্কদীপ পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছাল, তখন তার চোখেমুখে লড়াইয়ের ছাপ স্পষ্ট। এই বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন পরীক্ষার্থীকে দেখে এগিয়ে এলেন পুলিশের চন্দ্রকোণা রোড সার্কেল ইনসপেক্টর রিফাজুল মণ্ডল। পুলিশ আধিকারিক নিজেই পরম স্নেহে অর্কদীপকে ধরে পৌঁছে দিলেন তার নির্দিষ্ট আসন পর্যন্ত। পুলিশের এই মানবিক মুখ দেখে আপ্লুত অভিভাবকরাও। রিফাজুলবাবুর এই উদ্যোগ উপস্থিত অন্যান্য পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে এক ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছে।

ছেলের এই কঠিন লড়াই দেখে মা সুচিত্রাদেবীর চোখে জল এলেও তা বিষাদের নয়, বরং গর্বের। তিনি জানালেন, ছেলেটার অনেক কষ্ট। পড়াশোনা করতে ভালোবাসে কিন্তু লিখতে পারে না। আমরা শুধু চেয়েছি ও সবার মতো পরীক্ষাটা দিক। বাবা স্নেহাশিসবাবুও আশায় বুক বেঁধেছেন, সমস্ত বাধা অতিক্রম করে অর্কদীপ সাফল্যের সঙ্গে এই পরীক্ষায় পাস করতে করবে। শারীরিক অক্ষমতা যে মেধাকে দমিয়ে রাখতে পারে না, চন্দ্রকোণার এই স্কুলছাত্রের লড়াই আজ সেই শিক্ষাই দিচ্ছে সমাজকে। জীবনের এই অগ্নিপরীক্ষায় অর্কদীপের জয় হোক, এটাই এখন প্রার্থনা গোটা এলাকার মানুষের।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ