Bartaman Logo
১৯ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

মেসি ম্যাজিকেই আস্থা আর্জেন্তিনার, আশায় ইংল্যান্ডও, তাল ঠুকছেন কেন-বেলিংহ্যামরা

গোল অব দ্য সেঞ্চুরি...। ১৯৮৬’র এমনই এক জুলাই

মেসি ম্যাজিকেই আস্থা আর্জেন্তিনার, আশায় ইংল্যান্ডও, তাল ঠুকছেন কেন-বেলিংহ্যামরা
  • ১৫ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

গোল অব দ্য সেঞ্চুরি...। ১৯৮৬’র এমনই এক জুলাই। মেক্সিকোর অ্যাজটেকা স্টেডিয়াম। মাঝমাঠে বল ধরলেন নীল জার্সি পরা খর্বকায় এক আর্জেন্তাইন ফুটবলার। সবুজ ঘাসের বুক চিরে তাঁর সেই দৌড় দেখে বিখ্যাত ধারাভাষ্যকার ভিক্টর উগো মোরালেস বলে ফেলেছিলেন, ‘মহাজাগতিক ঘুড়ি। আপনি কোন গ্রহ থেকে এসেছেন?’ সেই ঘুড়ি অর্থাৎ ডিয়েগো আর্মান্দো মারাদোনা ভোকাট্টা করেছিলেন পিটার রিড, পিটার বিয়ার্ডসলে, টেরি বুচার ও পিটার শিলটনকে। জাল কাঁপার পর অ্যাজটেকায় কান পাতা দায়। মিনিট চারেক আগে তাঁরই ‘হ্যান্ড অব গড’ গোলের বিতর্ক তখন ধুয়েমুছে একাকার। 

Advertisement

চল্লিশ বছর পর আবার এক জুলাই। এরমধ্যে বিশ্বকাপে আরও দু’বার মুখোমুখি হয়েছে আর্জেন্তিনা-ইংল্যান্ড। ৯৮’তে বাতিস্তুতারা জিতেছিলেন। আর ২০০২’এ বেকহ্যামরা। তবুও ফকল্যান্ড যুদ্ধের কথা উঠলেই মনের কোণে ধরা পড়ে সেই অ্যাজটেকাই। বুধবার ফের ইংল্যান্ড বধের আশায় প্রহর গুনছে আর্জেন্তিনা। সৌজন্যে লায়োনেল মেসি। পয়া নীল জার্সি গায়ে চাপিয়ে তিনি কি হয়ে উঠবেন এ যুগের মারাদোনা? অ্যান্ডারসন, স্টোন্সদের পিছনে ফেলে তিনি হার মানাবেন গোলরক্ষক পিকফোর্ডকে, এমন আশায় কোচ স্কালোনি থেকে শুরু করে বিশ্বব্যাপী মেসি ভক্তরা। 
ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে এই প্রথম খেলবেন বাঁ পায়ের জাদুকর। তবে তাদের ফুটবল সম্পর্কে তিনি যথেষ্ট ওয়াকিবহাল। ২০০৯ সালে প্রথম চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয় ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডকে হারিয়ে। রায়ো ফার্দিনান্দ-এভরাদের তিনি সেদিন বশ মানিয়েছিলেন। এরপর প্রিমিয়ার লিগের বহু দলের রক্ষণ ভেঙেছেন স্বমহিমায়। বয়স ৩৯ হলেও মেসি এখনও ভয়ংকর সুন্দর। রিফ্লেক্স কমলেও বেড়েছে অভিজ্ঞতা। আলভারেজ-ম্যাক অ্যালিস্টারদের নিয়ে দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জেতাই এখন তাঁর লক্ষ্য। 
হ্যারি কেন, জুড বেলিংহ্যাম, বুকায়ো সাকারা কোয়ার্টার-ফাইনালে থামিয়ে দিয়েছেন হালান্ডের নরওয়েকে। তাল ঠুকছেন তাঁরা। আর ঢক্কানিনাদে ব্যস্ত ব্রিটিশ মিডিয়া। রাতারাতি কেনের সঙ্গে তুলনা টানা হচ্ছে জিওফ হার্স্টের। স্টোন্স হয়ে উঠেছেন ববি মুর। ১৯৬৬ নাকি আবার ফিরবে ২০২৬’এ। কিন্তু ইংল্যান্ডের স্বপ্ন ও বাস্তবের মধ্যে দাঁড়িয়ে ৫ ফুট ৭ ইঞ্চির এক জিনিয়াস। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুটো দলেরই রক্ষণ অবিন্যস্ত। তবে মেসির জন্যই আপফ্রন্টে এগিয়ে স্কালোনি-ব্রিগেড। চলতি প্রতিযোগিতায় ইংল্যান্ড ও আর্জেন্তিনা এ পর্যন্ত ৬টি গোল হজম করেছে। কিন্তু মেসিদের গোলসংখ্যা ১৭, যা ইংল্যান্ডের থেকে ৪টি বেশি। 
গত দু’দিনের অনুশীলনে চার ডিফেন্ডার ও দুই ডিফেন্সিভ মিডিও পারাদেস ও ডে পলের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনা করেছেন কোচ স্কালোনি। পক্ষান্তরে, টুচেল শুধুই আপফ্রন্টকে আরও ধারালো করতে উদ্যোগী। তবে টিম স্পিরিটে অনেকটাই এগিয়ে আর্জেন্তিনা। কারণ, মেসির জন্য মাঠে জান বাজি রাখতে প্রস্তুত বাকিরা। গত তিনটি ম্যাচ দেখলে যা ফুটবলপ্রেমীরা বিশ্বাস করতে বাধ্য। 
তাহলে আর্জেন্তিনা বনাম ইংল্যান্ড ম্যাচের ক্যাচলাইন— ‘মহাজাগতিক ঘুড়ি বনাম ব্রিটিশ ঔদ্ধত্য’। আপনি কোন দিকে? 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ