হাত কাটা প্র্যাকটিস জার্সির উপর গেরুয়া রংয়ের বিব। বল তাঁর পায়ের ভৃত্য। আপন মনেই জাগল চলল কিছুক্ষণ। কোচ স্কালোনি এসে কিছু জানতে চাইলে হাতের ইশারায় বোঝালেন, ‘অল ইজ ওয়েল’। আসলে সুইৎজারল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচে ডান চোখের কোণে চোট পেয়েছিলেন লায়োনেল মেসি। ভ্রু’র নীচে ছিল রক্তের ছিটে। তবে ইংল্যান্ড ম্যাচের আগে তা নিয়ে বিন্দুমাত্র বিচলিত নন বাঁ পায়ের জাদুকর। বরং কেরিয়ারে প্রথমবার থ্রি লায়ন্সের বিরুদ্ধে যুদ্ধ জিতে টানা দ্বিতীয়বার দেশকে ফাইনালের টিকিট এনে দিতে বদ্ধপরিকর এলএমটেন। মঙ্গলবার আটালান্টায় চূড়ান্ত মহড়াতেও তাই তিনি বাধ্য ছাত্র। আর মেসিকে সামনে রেখেই ব্রিটিশ বধের ব্লু প্রিন্ট সাজাচ্ছেন কোচ স্কালোনি।
চলতি বিশ্বকাপে নক-আউটে এখনো পর্যন্ত আর্জেন্তিনার দু’টি ম্যাচ গড়িয়েছে ১২০ মিনিটে। নরওয়ের বিরুদ্ধে ইংল্যান্ডের জয়ও এসেছিল অতিরিক্ত সময়ে। তাই দু’দলই চাইবে ৯০ মিনিটে ম্যাচ শেষ করতে। তারপরেও অতিরিক্ত সময় কিংবা টাই-ব্রেকারে খেলা গড়ালে তার প্রস্তুতিও সেরে রাখলেন আলভারেজরা। সেমি-ফাইনালের চূড়ান্ত মহড়ায় দীর্ঘক্ষণ চলল পেনাল্টি অনুশীলন। আর সতীর্থদের শট আটকেই চেনা ঢংয়ে কোমর দোলালেন ‘ডিবু’ মার্তিনেজ। বুধবার ম্যাচেও হ্যারি কেনদের বিরুদ্ধে সেই ছন্দ ধরে রাখতে চাইবেন আর্জেন্তাইন অনুরাগীদের প্রিয় ডিবু।
বিশ্বকাপ আসরে আর্জেন্তিনা বনাম ইংল্যান্ড মানেই বিতর্কের ঘনঘটা। তাছাড়া দু’দলের সমর্থকরাও বেশ উগ্র। ফলে গ্যালরিতে ঝামেলা অবশ্যম্ভাবী। তবে আর্জেন্তিনার কোচ স্কালোনির ফোকাস শুধুই মাঠের মধ্যে। তাঁর কথায়, ‘দল বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালে খেলতে নামছে। সুযোগ রয়েছে টানা দ্বিতীয়বার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিতের। ইংল্যান্ড যথেষ্ট ভালো দল। গত কয়েক বছর ধরে তারা দারুণ ছন্দে। তবে আমি বিপক্ষকে নিয়ে খুব বেশি সময় নষ্ট করতে চাই না। ছেলেরা নিজেদের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন। মাঠে পরিকল্পনামাফিক ফুটবল মেলে ধরলে ইতিবাচক ফল আসবেই।’ পরিসংখ্যান বলছে, কাতারে প্রথম ম্যাচে সৌদি আরবের কাছে হারের পর বিশ্বকাপে টানা ১২ ম্যাচ জিতেছেন মেসিরা। শুধু তাই নয়, প্রতি ম্যাচে অন্তত দুবার বিপক্ষের জাল কাঁপিয়েছেন তাঁরা। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের আগে যা আর্জেন্তিনা শিবিরকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস জোগাবে।
সোমবার কানসাস সিটিতে অনুশীলন সেরে বিকালের বিমানে আটালান্টায় পা রাখেন মেসিরা। মঙ্গলবার আটালান্টা ইউনাইটেড ট্রেনিং সেন্টারে চূড়ান্ত প্রস্তুতি সারেন তাঁরা। সুইৎজারল্যান্ড ম্যাচের প্রথম একাদশ পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম। পছন্দের ৪-১-৩-২ ফর্মেশনেই দল সাজাবেন স্কালোনি। তবে মাঝমাঠে বল হোল্ড করে খেলার লোকের অভাবে বারবার ভুগছে তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। সেই দুর্বলতা ঘোচাতে ডে পলের জায়গায় বার্কো সেরা বিকল্প হতে পারেন। তবে বেলিংহ্যাম-গর্ডনদের শান্ত রাখতে ডে পলের ‘রাফ অ্যান্ড টাফ’ ফুটবলকে হাতিয়ার করতে চান স্কালোনি।