Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

এসআইআরে বিএলওর সঙ্গে থাকছেন তো দলের বিএলএরা? নজর রাখছে জোড়াফুল

এসআইআরে নজরদারি বাড়াতে বাঁকুড়া শহরে কন্ট্রোল রুম খুলল তৃণমূল কংগ্রেস।

এসআইআরে বিএলওর সঙ্গে থাকছেন তো দলের বিএলএরা? নজর রাখছে জোড়াফুল
  • ১০ নভেম্বর, ২০২৫ ১৬:১১
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: এসআইআরে নজরদারি বাড়াতে বাঁকুড়া শহরে কন্ট্রোল রুম খুলল তৃণমূল কংগ্রেস। রবিবার শহরের নতুনচটি এলাকায় ওই কন্ট্রোল রুমের উদ্বোধন করা হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলার চেয়ারম্যান তথা পুরসভার চেয়ারপার্সন অলকা সেনমজুমদার, শহর সভাপতি শিবাজি বন্দ্যোপাধ্যায়, সহ-সভাপতি গৌতম দাস সহ অন্যান্যরা। শহরে বিএলও-র সঙ্গে দলের এজেন্টরা তথা বিএলএ-টু নিয়মিত থাকছেন কি না, তা নজরে রাখতেই এই উদ্যোগ বলে তৃণমূল নেতৃত্ব জানিয়েছে। 

Advertisement

উল্লেখ্য, বাঁকুড়ায় বিএলও-দের সঙ্গে তৃণমূলের বিএলএ-রা থাকছেন না বলে দলেরই একাংশ অভিযোগ তোলে। বাঁকুড়া-২ সহ অন্যান্য ব্লকে গিয়ে বিএলওদের একাকী ভোটারদের দরজায় দরজায় ইনিউমারেশন ফর্ম বিলি করতে দেখা যায়। বেশ কিছু জায়গায় বুথস্তরের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা না করেই বিএলএ-টু ঠিক করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অঞ্চল নেতৃত্ব এজেন্ট বাছাই করে বুথ সভাপতিদের উপর তাঁদের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিচ্ছেন  বলে অভিযোগ। সেই কারণে সমস্যার সূত্রপাত হয়। সমন্বয়ের অভাবেই এলাকায় এজেন্টদের কাজ করতে সমস্যা হচ্ছে। ফলে অনেকেই বাড়িতে বসে থাকছেন।  
জেলা তৃণমূল চেয়ারম্যান বলেন, আমরাও চাই সুষ্ঠুভাবে এসআইআর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হোক। কোনওভাবেই যাতে বৈধ ভোটারের নাম বাদ না যায়, তা নির্বাচন কমিশনকে নিশ্চিত করতে হবে। বিএলওদের সঙ্গে দলের এজেন্টদের থাকতেই হবে। এর অন্যথা হলে চলবে না। কন্ট্রোল রুমে দলের নেতা-কর্মীরা প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে দিনভর কাজ করবেন। তাঁরা বাঁকুড়া শহরের ২৪টি ওয়ার্ডেরই বিএলএ-দের সঙ্গে যোগাযোগ রাখবেন। ওয়ার্ডে এসআইআরের কাজের অগ্রগতি কতটা হল, তা কন্ট্রোল রুমে থাকা দলের নেতা-কর্মীদের দৈনিক জানাতে হবে। এজেন্টরা ওই তথ্য পাঠাবেন। কন্ট্রোল রুম থেকে তা শহর তৃণমূল নেতৃত্বকে জানানো হবে। কোনও এলাকায় কাজের সমস্যা হলেও দলকে বিষয়টি জানাতে হবে। 
বাঁকুড়ায় এসআইআর নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলির সক্রিয়তা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেইসঙ্গে বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপও। প্রথমদিন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা বিএলও-র সঙ্গে ফর্ম বিলির সময় উপস্থিত ছিলেন। প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে বিএলওরা বিশেষ কিছু বলতে পারেননি। তবে বিপক্ষ শিবিরের তরফে বিষয়টি নিয়ে আপত্তি তোলায় নেতা-নেত্রীরা সতর্ক হয়ে যান। রাজনৈতিক দলগুলির তরফেও নেতানেত্রী ও জনপ্রতিনিধিদের বিএলওদের সঙ্গে না থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। শুধুমাত্র বিএলএ-রাই যাতে বিএলওদের সঙ্গে থাকেন, তা প্রশাসন যেন নিশ্চিত করে। ফলে রাজনৈতিক দলগুলি কন্ট্রোল রুম খুলে বিএলএদের মাধ্যমে সামগ্রিক পরিস্থিতির উপর নজর রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। সেই কারণেই এদিন বাঁকুড়া শহরে তৃণমূলের তরফে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ