নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: হুগলির শ্রীরামপুর মহকুমায় বর্তমানে আবাসন শিল্পের রমরমা। নির্মাণ শিল্পের এই ‘উর্বর’ জমির লোভেই নির্জীব হয়ে পড়া গ্যাংস্টাররা ফের সক্রিয় হয়ে উঠছে। কোন্নগরে খুনের ঘটনার পর এমন ইঙ্গিতই স্পষ্ট হয়েছে। কিছুদিন আগে কোন্নগরের বেশ কয়েকটি ঘটনার প্রেক্ষিতে গ্যাংস্টার রমেশ মাহাতর তৎপরতা প্রকাশ্যে এসেছিল। এই রমেশ অতীতে দাপিয়ে বেড়ালেও বর্তমানে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছিল। এবার কানাইপুরে তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য খুনের ঘটনায় উঠে এল পুরনো গ্যাংস্টার বাঘার (ভোলানাথ দাস) নাম। আচমকা কেন তারা ‘শীতঘুম’ ভেঙে জেগে উঠল? এর পিছনে জমি, প্রেমোটারি, আবাসন শিল্পের বাড়বাড়ন্ত উস্কানি দিচ্ছে কি না, তা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে বাসিন্দাদের মধ্যে। বিষয়টি ভাবাচ্ছে পুলিস প্রশাসনকেও।
সদ্য কানাইপুরে খুন হয়েছেন তৃণমূল নেতা তথা স্থানীয় পঞ্চায়েতের সঞ্চালক পিন্টু চক্রবর্তী। এই ঘটনায় পুলিস অতীতের দুই কুখ্যাত দুষ্কৃতী বাঘা ও তার ভাই কুখ্যাত বিশাকে গ্রেপ্তার করেছে। দুই ভাই বেশ কিছু বছর হল অপরাধের জগতের তেমন সক্রিয় নয়। সোমবার বাঘাকে আদালতে তোলা হয়। সে এদিন জমি বিবাদের প্রসঙ্গ উস্কে দিয়েছে নিজেই। যা তৈরি করেছে বিতর্ক। এদিন আদালতে যাওয়ার পথে বাঘা বলে, পিন্টু (সদ্য খুন হওয়া নেতা) ও কানাইপুর পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান আচ্ছালাল যাদব, দু’জনেই ‘জমি হাঙড়’। আমার জমি কেড়ে নিয়েছে। সেই কারণেই কি খুন? তার উত্তর দেয়নি বাঘা। খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটতে হাঁটতে প্রিজন ভ্যানে উঠে যায়। তার নিজের জমি হাতছাড়া হয়েছে, নাকি জমি দখলের লড়াইয়ে সে হেরেছে, তার উত্তর মেলেনি। যদিও ওয়াকিবহাল মহল বলছে, শ্রীরামপুর থেকে রিষড়া, কোন্নগর থেকে উত্তরপাড়া— জমি নিয়ে যাবতীয় কারবার আবাসন শিল্পকে সামনে রেখেই। ফলে, পুরনো গ্যাংস্টারদের ফের ময়দানে নামার পিছনে সেই শিল্পের বিরাট লাভের দিকেই আঙুল উঠছে।
এদিকে বাঘা, তাঁর নাম নেওয়ায় তৃণমূলের দাপুটে নেতা আচ্ছালাল যাদব বলেন, একজন কুখ্যাত দুষ্কৃতীর ওই উক্তি প্রমাণ করে কিছু একটা আড়াল করা হচ্ছে। পুলিসের সঙ্গে সিবিআই তদন্তও হোক। আমি তৈরি। বিজেপির রাজ্য নেতা স্বপন পাল সরাসরি বলেন, আবাসন শিল্পের টানেই সক্রিয় হচ্ছে পুরনো দুষ্কৃতীরা। কখনও নিজেদের স্বার্থে, কখনও শাসকদলের নেতাদের স্বার্থে তারা মাঠে নামছে। এ নিয়ে তৃণমূলের জেলা নেতা তথা জেলা পরিষদের মেন্টর সুবীর মুখোপাধ্যায় বলেন, নতুন টাকা বাজারে এনে কেন্দ্রীয় সরকার কি জাল টাকা রুখে দিতে পেরেছে? সমাজে কিছু বিকৃতি থাকেই। তারজন্য শিল্পের সম্ভাবনাকে জলাঞ্জলি দেওয়া যায় না। দুষ্কৃতীদের বিষয়টি পুলিসের দেখার কথা, তারা দেখবে।
শ্রীরামপুর থেকে উত্তরপাড়া পর্যন্ত গ্রাম থেকে শহর, একের বড় এক আবাসন তৈরি হচ্ছে। বদলে যাচ্ছে নাগরিক বসতির চেহারা। সেই বদলের টান নিষ্ক্রিয় গ্যাংস্টারদের টানছে কি না, সেটাই এখন চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে। বিশেষত সাম্প্রতিক একাধিক ঘটনার প্রেক্ষিতে এই আলোচনা এখন প্রাসঙ্গিক।