


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রমন্ত্রীরা কি নিছকই ‘টেকেন ফর গ্রান্টেড’? আদতে গুরুত্বহীন? এই প্রশ্নকে কেন্দ্র করে তুমুল জল্পনার সৃষ্টি হয়েছে। তুঙ্গে উঠেছে চর্চাও। কারণ বিজেপির সাম্প্রতিক একটি পরিকল্পনা এই ইস্যুতে বিতর্কের ইন্ধন জুগিয়েছে। শুধুই মন্ত্রকের কাজকর্ম নয়। বিভিন্ন মন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রীদের এবার সামলাতে হবে বিজেপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের দায়িত্বও। সপ্তাহে পাঁচ দিন অন্তত ছ’ঘণ্টা পার্টির কার্যালয়গুলিতে বসতে হবে তাঁদের। কথা বলতে হবে দলীয় নেতা, কর্মী এবং সমর্থকদের সঙ্গে। তৈরি করতে হবে নেতা, কর্মী, সমর্থকদের মধ্যে সমন্বয়। রাজ্যে রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের আগে এমনই নয়া পরিকল্পনা করছে গেরুয়া শিবির। আর বিজেপির এহেন ‘আজব’ নিদানেই প্রশ্নচিহ্ন উঠতে শুরু করেছে। রাজনৈতিক তথ্যাভিজ্ঞ মহল প্রশ্ন তুলছে, যদি ‘রোটেশন’ পদ্ধতিতেও নিয়মিতভাবে দলীয় কার্যালয়ের ভার রাষ্ট্রমন্ত্রীদের সামলাতে হয়, তাহলেও কি কোনও প্রভাব পড়বে না মন্ত্রকের কাজকর্মে?
এই ব্যাপারে মুখে কুলুপ এঁটেছে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বও। আনুষ্ঠানিকভাবে এই ইস্যুতে বিজেপি শিবির কোনও মন্তব্য করেনি। তবে দলের নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক নেতাদের একাংশের ব্যাখ্যা, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিংবা রাষ্ট্রমন্ত্রী - তাঁরা আদতে দলেরই অংশ। ফলে সংগঠনে সময় তো তাঁদের দিতেই হবে। মন্ত্রকের কাজকর্ম সামলে তবেই তাঁরা দলীয় কার্যালয়ে সময় দেবেন। সেইমতোই প্রত্যেককে দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হবে। এর আগেও এমন হয়েছে। বিজেপির অন্দরের খবর, প্রতি সোম থেকে শুক্রবার কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রমন্ত্রীদের বিভিন্ন দলীয় কার্যালয়ে বসতে হবে। অন্তত সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত তাঁরা সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে বসবেন। নেতা-কর্মী, সমর্থকদের সঙ্গে কথা বলবেন। কোনও অভাব-অভিযোগ থাকলে সেগুলির সুরাহার চেষ্টা করবেন। চলতি বছরের শেষে বিহারে গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা নির্বাচন রয়েছে। আগামী বছর পশ্চিমবঙ্গ, কেরল, তামিলনাড়ুর মতো একাধিক রাজ্যে ভোট। বিভিন্ন রাজ্যে দলের সভাপতি নির্বাচন এখনও বাকি। তারপর সর্বভারতীয় সভাপতি বাছাই করবে বিজেপি।