নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: জোড়াফুল প্রতীক দখলের খোয়াব অধরাই! ‘আসল তৃণমূল’ আর হতে পারলেন না কাকলি ঘোষ দস্তিদাররা। বরং পদ বাঁচাতে রবিবার শেষপর্যন্ত লোকসভার ২০ জন বিদ্রোহী তৃণমূল এমপির ঠিকানা হল ‘অস্তিত্বহীন’ একটি রাজনৈতিক দল। নতুন সেই দলের নাম—‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অব ইন্ডিয়া’ (এনসিপিআই)। নির্বাচন কমিশনের খাতায় ২০২২ সাল থেকে ‘আনরেজিস্টার্ড পলিটিক্যাল পার্টি’ হিসাবে নথিভুক্ত সেই দলের সদর দপ্তর হাওড়ার সাঁকরাইলের হাটগাছা গ্রামে। ২০২৩ সালে ত্রিপুরার বিধানসভা ভোটে মাত্র তিনটি আসনে তারা প্রার্থী দেয়। ভোট জুটেছিল সামান্যই। বর্তমানে তারা অস্তিত্বহীন। আইনি মারপ্যাঁচ এড়াতে তৃণমূলের ‘বিদ্রোহী’ এমপিরা সেই দলে যোগ দিলেন বলে সূত্রের খবর।
কথা ছিল আজ, সোমবার লোকসভার স্পিকারের সঙ্গে দেখা করবেন কাকলিদেবীরা। কিন্তু রবিবার বিকালেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের চিঠি নিয়ে স্পিকারের কাছে পৌঁছে যান মমতাপন্থী দুই সাংসদ কীর্তি আজাদ ও সাগরিকা ঘোষ। তাই আর অপেক্ষা করেননি ‘বিদ্রোহী’রা। এদিন রাতেই স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করে তাঁরা আনুষ্ঠানিকভাবে তৃণমূল থেকে নিজেদের আলাদা করার কথা জানিয়ে দেন। যদিও এই কাজ বেআইনি বলেই দাবি করেছেন বিশিষ্ট আইনজীবী কপিল সিবাল এবং সংবিধান বিশেষজ্ঞ তথা লোকসভার প্রাক্তন সেক্রেটারি জেনারেল পি ডি টি আচারিয়া। দু’জনেই জানিয়েছেন, কোনো একটি নির্দিষ্ট দলের প্রতীকে নির্বাচিত সাংসদরা এভাবে নিজে থেকে অন্য দলে মিশে যেতে পারেন না। তা হতে পারে একমাত্র যদি মূল রাজনৈতিক দল (সংসদীয় দল নয়) অন্য কোনো দলে মিশে যায়। সিবালের দাবি, ‘বিক্ষুব্ধ তৃণমূলিদের এই উদ্যোগ নিছক তামাশা। এঁদের সাংসদ পদ খারিজ হওয়া উচিত।’
এদিন বিকালেই মোট ১৭ জন বিদ্রোহী তৃণমূল এমপি পৌঁছে যান কেন্দ্রীয় পরিবেশ মন্ত্রী তথা অমিত শাহর অতি ঘনিষ্ঠ ভূপেন্দ্র যাদবের দিল্লির বাসভবনে। পরে তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন আবু তাহের খান এবং খলিলুর রহমান। ভূপেন্দ্রর বাড়িতে যখন বিক্ষুব্ধরা বৈঠক করছেন, তখনই কীর্তি ও সাগরিকা হাজির হন স্পিকারের বাসভবনে। সঙ্গে দলের তরফে স্পিকারকে লেখা লোকসভার দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের তিন পাতার চিঠি। তাতে লেখা, ‘তৃণমূল একটি অখণ্ড রাজনৈতিক দল। তাই বিক্ষুব্ধ তৃণমূল সাংসদদের যেন কোনোভাবেই পৃথক ব্লকের মর্যাদা না দেওয়া হয়।’ যদিও স্পিকারের সঙ্গে সাগরিকাদের দেখা হয়নি।
সোমবার স্পিকার দিল্লিতে থাকবেন না। সেই কারণে এদিন রাতেই তাঁর বাসভবনে কাকলিদেবীদের ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে উপস্থিত হন ১৯ জন। কারণ, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় বিদেশে। তাই তাঁর স্বাক্ষর ইমেলে আনানো হয়, যাতে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যা দেখিয়ে দলবিরোধী আইনের কোপ এড়ানো যায়। বিশ্বস্ত সূত্রে খবর, তৃণমূলের কাউকে এই মুহূর্তে দলে নিতে রাজি নয় বিজেপি। সেই কারণে এই মধ্যপন্থা। কাকলিদেবী এদিন সকালে দাবি করেছিলেন, ‘২০ নয়, ২২ জন আমাদের সঙ্গে রয়েছেন।’ যদিও বাকি দু’জন কে, তা জানা যায়নি। তৃণমূলের সঙ্গত্যাগ উদযাপন করতে দিল্লির বঙ্গভবনে বিজলি গ্রিলের রেস্তরাঁয় চলে নৈশভোজ। ‘বিদ্রোহী’দের পাতে পড়ল ভাত, রুটি, লুচি, মুগডাল, ঝুরি আলুভাজা, আলুর দম, পটলের দোলমা, ইলিশ ভাপা, মাটন কষা, চাটনি, পাঁপড়। শেষ পাতে মিষ্টি দই, সন্দেশ আর রাজভোগ।