


সুব্রত ধর, শিলিগুড়ি: নুহ থেকে বিহার। এটিএম লুট থেকে ডাকাতি। সংশ্লিষ্ট গ্যাংগুলির আরও সদস্য ঘাপটি মেরে আছে শিলিগুড়ি সহ উত্তরবঙ্গে? পরপর এটিএম লুট ও জুয়েলারি দোকানে ডাকাতির ঘটনার পর এমন অনুমান করছেন গোয়েন্দারা। তাদের সন্দেহ, বিভিন্ন ছদ্মবেশে বাড়ি ভাড়া নিয়ে আছে গ্যাংয়ের সদস্যরা। এ ব্যাপারে নড়েচড়ে বসেছে পুলিস। তারা টেনেন্ট ভেরিফিকেশন নিয়ে আরও বেশি তৎপর হয়ে উঠছে। এ বিষয়ে সহযোগিতা না করলে বাড়ির মালিকদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলে খবর। পুলিসের শীর্ষ অফিসাররা জানান, নাগরিকদের নিরাপত্তার স্বার্থেই এমন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
জলপাইগুড়ি জেলার ময়নাগুড়ি এবং শিলিগুড়ির চম্পাসারিতে পরপর দু’টি জোড়া এটিএম লুটের ঘটনা ঘটে। সেগুলির সঙ্গে হরিয়ানার নুহ গ্যাংয়ের সংস্রব মিলেছে। ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট দু’টি ঘটনায় নুহের কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করেছে পুলিস। ঘটনাগুলির সঙ্গে জড়িত আরও দু’জন দুষ্কৃতী অধরা। ঘটনাগুলি পর্যালোচনা করে গোয়েন্দারা চাঞ্চল্যকর কিছু তথ্য হাতে পেয়েছে। গোয়েন্দা সূত্রে খবর, নুহ গ্যাং মূলত এটিএম লুটের সঙ্গে জড়িত। গত কয়েক মাসে হাওড়া, মেদিনীপুর, রায়গঞ্জ সহ শিলিগুড়ি ও ময়নাগুড়িতে অপারেশন চালায়। এদের পরবর্তী টার্গেট ছিল আলিপুরদুয়ার ও অসমে। কাজেই সংশ্লিষ্ট গ্যাংয়ের আরও কিছু সদস্য লরিচালক ও খালাসির বেশে বিভিন্ন এলাকায় ঘাপটি মেরে আছে বলেই সন্দেহ।
উত্তরবঙ্গ পুলিসের এক শীর্ষ অফিসার বলেন, কোচবিহার থেকে মালদহ পর্যন্ত প্রতিটি জেলার পুলিস অফিসারদের সংশ্লিষ্ট গ্যাং সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছে। ইতিমধ্যে কিছু জেলা ব্যাঙ্কগুলির সঙ্গে বৈঠক করে এটিএম কাউন্টারগুলির নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনা করেছে। পাশাপাশি আন্তঃজেলা ও আন্তঃরাজ্য সীমান্ত, ট্রাক স্ট্যান্ড, লাইন হোটেল, ধাবা প্রভৃতি এলাকার উপর নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে।
শুধু নুহ নয়, শিলিগুড়ি সহ উত্তরবঙ্গে ডাকাতির গ্যাংও সক্রিয় বলেই পুলিসের একাংশের সন্দেহ। কয়েকদিন আগে শিলিগুড়ি শহরের হিলকার্ট রোডে একটি সোনার দোকানে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনার সঙ্গে বিহার, রাজস্থান, ঝাড়খণ্ড ও উত্তরপ্রদেশের দুষ্কৃতীরা জড়িত। নয়া এই গ্যাংয়ের মূল ঘাঁটি বিহারে। ওই ডাকাতির ঘটনায় জড়িত সব দুষ্কৃতী এখনও অধরা। গোয়েন্দাদের সন্দেহ, সশস্ত্র ওই ডাকাত দলের সদস্যরা নির্মাণ শ্রমিক, জাতীয় সড়ক তৈরির ঠিকা শ্রমিক, সেলসম্যান, খাবার ডেলিভারি বয় প্রভৃতির বেশে বিভিন্ন জেলায় বাড়ি ভাড়া নিয়ে লুকিয়ে আছে বলেই মনে হচ্ছে। সুযোগ পেলেই তারা স্বমূর্তি ধারণ করে অপারেশন চালাতে পারে।
প্রসঙ্গত, হিলকার্ট রোডে সোনার দোকানে ডাকাতির ঘটনার সঙ্গে জড়িতরা বিধাননগরে বাড়ি ভাড়া নিয়েছিল। কয়েক বছর আগে ওসব এলাকাতেই বাড়ি ভাড়া নিয়েছিল বিহারের আরএকটি ডাকাত দল। কাজেই সংশ্লিষ্ট ঘটনাগুলির পর গোয়েন্দাদের ওই অনুমান উড়িয়ে দিচ্ছেন না পুলিস অফিসাররা। এজন্য তাঁরা প্রতিটি জেলা পুলিসকে ভাড়াটিয়াদের উপর নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
শিলিগুড়ির ডেপুটি পুলিস কমিশনার (পূর্ব) রাকেশ সিং বলেন, বাড়ির মালিকদের একাংশ ভাড়াটিয়াদের সম্পর্কে তথ্য থানায় দাখিল করছেন। কিন্তু শহরের অধিকাংশ বাড়ির মালিক এ বিষয়ে নির্বিকার। এ বিষয়ে সকলকে সচেতন করতে প্রচার অভিযানে নামা হয়েছে। শহরের নিরাপত্তার স্বার্থে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরপরও কোনও বাড়ির মালিক এই নির্দেশ না মানলে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দার্জিলিং জেলা পুলিসও একইরকম পদক্ষেপ নিয়েছে।