নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: তৃণমূলের সুসময়ে দেশের বহু সেলিব্রিটি যোগ দিয়েছিলেন ঘাসফুল শিবিরে। তার মধ্যে অবশ্যই সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য নাম শত্রুঘ্ন সিনহা। বলিউডের এই মহাতারকা রাজনীতিতেও সফল। অটলবিহারী বাজপেয়ীর মন্ত্রিসভায় স্বাস্থ্য ও জাহাজ মন্ত্রী থাকা শত্রুঘ্নই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলে যোগ দিয়েছিলেন। একইভাবে একাধিকবার বিজেপির সাংসদ ছিলেন ভারতীয় দলের প্রাক্তন ক্রিকেটার কীর্তি আজাদ ঝাঁ। তিনিও যোগ দেন তৃণমূলে। ঘটনাক্রমে দু’জনই বর্তমানে শিল্পাঞ্চলের তৃণমূলের সাংসদ। বিধাসভায় তৃণমূলের পরাজয়ের পর রাজপাট বদলে যেতেই নিজেদের সংসদীয় এলাকায় আসছেন না দুই অবাঙালি সাংসদ। তৃণমূলের বিধায়ক দলের ভাঙনের পর এখন সবার নজর সাংসদদের দিকে। এই আবহে এই দুই তারকা কী করেন, সেদিকেই নজর জেলাবাসীর।
আসানসোল লোকসভায় ২০২২ সালের আগে কোনোদিন জেতেনি তৃণমূল। শত্রুঘ্ন সিনহাই প্রথমবার তৃণমূলের প্রতীকে প্রথমবার আসানসোলে জয়লাভ করেন। ২০২৪ সালেও তিনি জিতে এমপি হন। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থীদের হয়ে টানা প্রচারও করেছিলেন বলিউডের ‘বিহারি বাবু’। ভোটপ্রচারে তীব্র ভাষায় আক্রমণ শানিয়েছেন নরেন্দ্র মোদিকে। যদিও ভোটে তৃণমূলের বিপর্যয়ের পর আর এলাকায় আসেননি। যদিও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিগ্রহের ঘটনা নিয়ে নিজের এক্স হ্যান্ডেলে প্রতিবাদ করেছেন শত্রুঘ্ন। কিন্তু পরবর্তী পরিস্থিতিতে তিনি কী অবস্থান নেন সেদিকেই নজর রয়েছে সবার।
যদিও এক্স হ্যান্ডেলে নিজের পোস্ট থেকে এখনও জোরালো ভাবে বিজেপি বিরোধিতা চালিয়ে যাচ্ছেন। তেমনই কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর প্রশংসা করতেও পিছপা হচ্ছেন না। অনেকের মতে, সোমবার দিল্লিতে রাজনৈতিক ঝড় উঠতে পারে। বিশেষ করে সেদিনই ইন্ডি জোটের বৈঠকে যোগ দিতে দিল্লিতে থাকার কথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। অন্যদিকে, এমন সম্ভাবনা শোনা যাচ্ছে ওদিনই তৃণমূলের এমপিদের বড় অংশ প্রকাশ্যে দলের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করতে পারেন। জানা গিয়েছে, সেই সময়ে দিল্লিতে না থাকার সম্ভাবনা রয়েছে শত্রুঘ্নর। তিনি বর্তমানে মুম্বাইয়ে রয়েছেন। সেই সময়ে তাঁর আপ্ত সহায়কের ছেলের বিয়েতে কেরলে থাকার কথা। যদিও তাঁর ঘনিষ্ট মহল সূত্রে খবর, তিনি বিজেপি বিরোধীই রয়েছেন। কিন্তু তাঁর মতো তারকাকে যে ভাবে দেশের মঞ্চে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ব্যবহার করতে পারতেন সেভাবে তিনি করেননি। এমনকী বিহারে যখন ইন্ডি জোটের বৈঠক হয় সেখানেও মমতা তাঁকে প্রতিনিধি হিসাবে ডাকতে পারতেন। যা নিয়ে বিহারীবাবুরও খানিক অভিমান আছে।
অন্যদিকে, কীর্তি আদাজকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথমে গোয়ায় তৃণমূল কংগ্রেসের ইনচার্জ করেন। পরে বর্ধমান-দুর্গাপুর লোকসভা কেন্দ্রের টিকিট দেন। লোকসভায় সেখানে তিনি জয়লাভ করেন। সাংসদ হিসাবে এলাকায় যথেষ্ট সক্রিয় ভূমিকা নিতে দেখা গিয়েছিল কীর্তিকে। সাংগঠনিক ভাবেও নেত্রী তাঁকে বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছিলেন। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে পরাজয়ের পরপরই তৃণমূল কর্মীদের উপর আক্রমণের প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে চিঠিও লেখেন কীর্তি। গত ১৬ মে কর্মীদের মনোবল মজবুত থাকার শেষ বার্তা দিয়েছিলেন তিনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় সেটিই ছিল তাঁর শেষ রাজনৈতিক বার্তা। এরপর তিনি না এলাকায় এসেছেন না সোশ্যাল মিডিয়ায় দলীয় শীর্ষ নেতাদের হেনস্তার প্রতিবাদ করেছেন। তাঁকে নিয়ে তাই জোর জল্পনা। কীর্তিও কি বিক্ষুব্ধ শিবিরে! যদিও তাঁর আপ্ত সহায়ক সূত্রে পাওয়া খবর অনুযায়ী, তিনি বর্তমানে অসুস্থ রয়েছেন।