সংবাদদাতা, বালুরঘাট: আগামী তিন দিনের মধ্যে দক্ষিণ দিনাজপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে সাতটি নতুন বিষয়ের অনুমোদনের ব্যাপারে আশ্বাস দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দক্ষিণ দিনাজপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ভবন নেই। অন্যের ভবনই ভরসা। চলতি শিক্ষাবর্ষে নতুন বিষয় চালু করতে চাইলেও এখনও পর্যন্ত তার অনুমোদন মেলেনি। এই আবহে বালুরঘাটে এসে বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে বড় ঘোষণা করলেন শুভেন্দু অধিকারী। জন্মাষ্টমীর আগে দক্ষিণ দিনাজপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন সাতটি বিষয়ের অনুমোদন দেবে উচ্চশিক্ষা দপ্তর। শুধু তাই নয়, ভর্তি প্রক্রিয়ায় অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় এগিয়ে গেলেও দক্ষিণ দিনাজপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে বাড়তি এক মাস সময় দেওয়া হবে বলে মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন। এই ঘোষণার পর দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার শিক্ষা মহলে খুশির হাওয়া ছড়িয়েছে।
বুধবার দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার প্রশাসনিক বৈঠকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রণব ঘোষ মুখ্যমন্ত্রীর কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্যা সংক্রান্ত বিষয়গুলি সবিস্তারে তুলে ধরেন। এরপর মুখ্যমন্ত্রী নিজে বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে আশার বাণী শুনিয়েছেন।
শুভেন্দু বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় মাত্র তিনটি বিষয় নিয়ে একটি পুরনো বাড়িতে চলছে। সাতটি নতুন বিষয়ের আবেদন উচ্চশিক্ষা দপ্তরে পড়ে রয়েছে। এখানকার উপাচার্য খুবই ডায়নামিক মানুষ। আমি উচ্চশিক্ষা দপ্তরের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত অনুমোদনের ব্যবস্থা করব। আমি বৃহস্পতিবার কলকাতায় ফিরে এই কাজটি করব। পরশু জন্মাষ্টমী। তার আগেই বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন বিষয়ের অনুমোদন হয়ে যাবে। ৩০ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির শেষ দিন। প্রয়োজনে এখানে আরও একমাস সময় বাড়িয়ে দেওয়া হবে। বালুরঘাটের মাহিনগরে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বরাদ্দ ১১ একর জমি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কিন্তু ওই জমির পাশে এয়ারপোর্ট রয়েছে। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবন নিয়ে আগামীতে সমস্যা হতে পারে। তাই এই ব্যাপারগুলি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী এ প্রসঙ্গে বলেন, যেখানে জায়গা রয়েছে তার পাশেই এয়ারপোর্ট রয়েছে। ভবনের উচ্চতার ক্ষেত্রে যাতে পরবর্তীতে এয়ারপোর্টের কোনো সমস্যা না হয় সে কথা মাথায় রেখে সব কিছু করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য প্রায় ২০০ কোটি টাকা প্রয়োজন। আমরা রাজ্য সরকার থেকে টাকা দেব। পাশাপাশি আমাদের রাজ্যসভার সাংসদদের কাছে টাকা চাইবো। যাতে বিশ্ববিদ্যালয় পুরোপুরি ভাবে চলতে পারে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রণব ঘোষ বলেন, আমার কথা মুখ্যমন্ত্রী মন দিয়ে শুনেছেন। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন। আমরা খুবই আনন্দিত।