Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

পশ্চিমবঙ্গের ১৩৬ ডি-ফার্ম কলেজের অনুমোদন বাতিল

পশ্চিমবঙ্গের ১৩৬ ডি-ফার্ম কলেজের অনুমোদন বাতিল
  • ১৪ মার্চ, ২০২৫ ১৬:০৫
Prefer us on Google

অর্পণ সেনগুপ্ত, কলকাতা: ওষুধ শিল্পে দুঃসময় চলছে রাজ্যে। একের পর এক বাজার চলতি ওষুধ ফেল করেছে ড্রাগ কন্ট্রোলের পরীক্ষায়। এমন পরিস্থিতিতেই এল আর এক দুঃসংবাদ। এবার রাজ্যজুড়ে ফার্মেসিতে ডিপ্লোমা (ডি-ফার্ম) কোর্স চালানো ১৩৬টি কলেজের অনুমোদন বাতিল করল পশ্চিমবঙ্গ কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং দক্ষতা উন্নয়ন সংসদ। এই কোর্সের শংসাপত্র দিয়েই ফার্মাসিস্ট হিসেবে খোলা যায় ওষুধের দোকান। সরকারি এই সিদ্ধান্তের ফলে অন্তত ১২ হাজার ছাত্রছাত্রীর এ রাজ্যে ডি-ফার্ম পড়ার স্বপ্ন শেষ হল। 

Advertisement

ফার্মেসির ডিপ্লোমা কোর্সের অনুমোদন দিয়ে থাকে সংসদ। আর কলেজের স্বীকৃতি দেয় ফার্মেসি কাউন্সিল অব ইন্ডিয়া (পিসিআই)। সংসদ রীতিমতো পরিদর্শন করে, পরিকাঠামো ও শিক্ষকের অভাব দেখিয়ে এই ১৩৬টি কলেজের অনুমোদন বাতিল করেছে। সূত্রের খবর, পিসিআইয়ের নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি ডি-ফার্ম কলেজে ৫০ বর্গমিটার করে পাঁচটি ল্যাবরেটরি (কলেজ ২০২০ সালের পরে তৈরি হলে ৭৫ বর্গমিটার করে), ১০০ বর্গমিটারের মেশিন রুম, ২৫ বর্গমিটারের অ্যাসেপটিক রুম, ২০ বর্গমিটারের স্টোর রুম প্রয়োজন। অধ্যক্ষের রুম হবে ২০ বর্গমিটারের। ফ্যাকাল্টি রুম, অফিস স্পেস, লাইব্রেরি, মিউজিয়াম নিয়ে আরও ২০০ বর্গমিটার জায়গা। সব মিলিয়ে কমবেশি আড়াই একরের ক্যাম্পাস হতে হবে। আর একই পরিকাঠামোয় অন্য কোনও কোর্স চালানো যাবে না। জমিও থাকতে হবে কলেজের পরিচালন ট্রাস্টের নামে। কলেজ ভবন কোনও ব্যক্তিগত মালিকানাধীন জমিতে থাকলেও অনুমোদন মিলবে না। মূলত একই ভবনে ডিএলএড, বিএড প্রভৃতি কোর্স চালানোর কারণেই আটকে গিয়েছে রাজ্যের কলেজগুলির অনুমোদন। এর আগে বি-ফার্ম এবং বিএড একই ভবনে চলায় একটি কলেজের অনুমোদন বাতিল করেছিল বাবা সাহেব আম্বেদকর এডুকেশন ইউনিভার্সিটি। একই পরিণতি হল ডি-ফার্ম কলেজগুলির। যদিও সংসদের আধিকারিকদের দাবি, সিংহভাগ কলেজেই প্রয়োজনীয় শিক্ষক সংখ্যা, যোগ্যতাসম্পন্ন অধ্যক্ষ সহ কোনও পরিকাঠামো নেই।
সূত্রের খবর, ২০২৩ সালের আগে পর্যন্ত সরকারি ১১টি এবং বেসরকারি ২৭টি মিলিয়ে মোট ৩৮টি ডি-ফার্ম কলেজ ছিল রাজ্যে। কিন্তু তারপর ঢালাও অনুমোদনের জেরে এই সংখ্যা এখন বেড়ে ২০০-রও বেশি। অভিযোগ, নতুন অনেক কলেজই খোলা হয়েছে ডিএলএড, বিএড কলেজের পরিকাঠামোয়। কিছু কলেজ খোলা হয়েছে বি-ফার্ম ক্যাম্পাসে। অন্যান্য পরিকাঠামোও তথৈবচ। কারিগরি শিক্ষামন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন সাফ বলেন, ‘পরিকাঠামো না থাকলে কলেজের অনুমোদন বাতিল হবেই।’
কলেজ প্রশাসকদের একাংশের বক্তব্য, পরিকাঠামো থাকা সত্ত্বেও নানা অজুহাতে অনুমোদন বাতিল করা হয়েছে। আর যদি কোনও খামতি থাকেও, সেটা শুধরে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত ছিল। সরাসরি অনুমোদন বাতিল করা কোনও সমস্যার সমাধান হতে পারে না। এর ফলে ভিনরাজ্যের কলেজগুলিতে চলে যেতে বাধ্য হবেন বাংলার পড়ুয়ারা। শুধু তা-ই নয়, এই সিদ্ধান্তের ফলে বহু শিক্ষক, শিক্ষাকর্মীর ভবিষ্যৎ অন্ধকারে চলে গেল।
বিপদ অবশ্য এখানেই শেষ হচ্ছে না। এবার পিসিআই’ও পরিদর্শন শুরু করতে চলেছে। সম্প্রতি চিঠি তারা একথা জানিয়েছে কলেজগুলিকে। পিসিআই পরিদর্শনে এসে কোনও খামতি খুঁজে পেলে কলেজের স্বীকৃতিই বাতিল হতে পারে। তাদের মাপকাঠি আরও কড়া। ফলে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসতে পারে আরও বেশি সংখ্যক কলেজ। এই আশঙ্কাতেই এখন দিন গুনছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠাগুলি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ