নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: দীর্ঘ জটিলতার অবসান। এবার ‘চিকেনস নেক’ শিলিগুড়িতে সম্প্রসারণ করা হবে ৩২৭ জাতীয় সড়কের ৩১.০২ কিলোমিটার অংশ। তাতে তিনটি বড়ো সেতু, একটি রোডওভার ব্রিজ (আরওবি), হাতি করিডর এবং সার্ভিস রোড করা হবে। এজন্য কেন্দ্রীয় সড়ক ও পরিবহণ মন্ত্রক অনুমোদন করেছে ২০৭৭.১৮ কোটি টাকা। বৃহস্পতিবার সোশ্যাল মিডিয়ায় একথা জানান কেন্দ্রীয় সড়ক ও পরিবহণমন্ত্রী নীতিন গাদকারি। তাঁর দাবি, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হওয়ার পর শিলিগুড়ির সঙ্গে উত্তর-পূর্ব ভারতের এবং প্রতিবেশী রাষ্ট্র নেপাল, ভুটান ও বাংলাদেশের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা সুগম হবে। এজন্য কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারকে ধন্যবাদ জানান বিজেপির দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তা।
কৌশলগত দিক দিয়ে দেশের আভ্যন্তরীণ নিরাপত্তায় শিলিগুড়ি করিডরের গুরুত্ব অপরিসীম। এজন্যই বাগডোগরা থেকে বিহারের গলগলিয়া সীমানা পর্যন্ত ৩২৭ নম্বর জাতীয় সড়কের অংশ সম্প্রসারণ করার দাবি বহুদিনের। জমি চিহ্নিত ও সার্ভের পরও বিভিন্ন কারণে ওই দাবি দীর্ঘদিন ধরে ঝুলছিল বলে অভিযোগ। এবার সেই জটিলতা কেটেছে। রাস্তাটি ফোর লেন করার জন্য অর্থ অনুমোদনের কথা ঘোষণা করেছেন কেন্দ্রীয় সড়ক ও পরিবহণমন্ত্রী।
সোশ্যাল মিডিয়ায় কেন্দ্রীয় সড়ক ও পরিবহণমন্ত্রী জানিয়েছেন, দার্জিলিং জেলায় ৩২৭ নম্বর জাতীয় সড়কের অংশ ফোর লেনে উন্নীতকরণে ২,০৭৭.১৮ কোটি টাকা অনুমোদন করেছেন তিনি। সড়কটি বাগডোগরা থেকে পানিট্যাঙ্কি, খড়িবাড়ি হয়ে বিহারের গলগলিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত। সংশ্লিষ্ট অংশের দৈর্ঘ্য ৩১.০২ কিমি। এই প্রকল্পে ৩টি বড়ো সেতু, ১টি আরওবি, ৫টি হাতি চলাচলের আন্ডারপাস এবং দুই পাশে সার্ভিস রোড নির্মাণ করা হবে। যা মানুষ ও বন্যপ্রাণী উভয়ের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার পাশাপাশি যোগাযোগ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করবে বলে মন্ত্রী দাবি করেন। সেই সঙ্গে তাঁর দাবি, এই প্রকল্প উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করবে এবং নেপাল, ভুটান ও বাংলাদেশের প্রবেশাধিকার উন্নত করবে।
কেন্দ্রীয়মন্ত্রীর এমন ঘোষণায় উচ্ছ্বসিত দার্জিলিংয়ের বিজেপি সাংসদ। তিনি বলেন, ফোর লেনের এই প্রকল্প বাগডোগরা, নকশালবাড়ি, খড়িবাড়ি এবং পানিট্যাঙ্কির যানজট কমাবে। একইসঙ্গে বাগডোগরা বিমানবন্দর এবং গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক কেন্দ্রগুলির সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াবে এবং কৃষি, উদ্যানপালন, চা ও পর্যটন শিল্পের প্রসার ঘটবে। অর্থাৎ, শিলিগুড়ি করিডরের ‘লজিস্টিক নেটওয়ার্ক’ আরও শক্তিশালী হবে। এজন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণমন্ত্রী নীতিন গাদকারি এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।