সংবাদদাতা, বোলপুর: উৎসবের মরশুমের আগে চিনির দাম কেজি প্রতি এক ধাক্কায় প্রায় ২০ টাকা বেড়েছে। কয়েকদিন আগে ৪৫ টাকা কেজি দরে যে চিনি পাওয়া যেত এখন সেটাই কিনতে হচ্ছে প্রায় ৬৫ টাকা দরে। শুধু চিনি নয়, বেড়েছে বাণিজ্যিক রান্নার গ্যাস, ছানা ও ভোজ্য তেলের দামও। ফলে মিষ্টি তৈরির খরচ অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে রসগোল্লা, পান্তুয়া, ল্যাংচা, সন্দেশ সহ বিভিন্ন মিষ্টির দাম বাড়ানোর পথে হাঁটতে পারেন বোলপুরের ব্যবসায়ীরা।
কয়েক মাস ধরেই বাণিজ্যিক রান্নার গ্যাসের দাম অনেকটা বেড়েছে। ভোজ্যতেল সহ নানা সামগ্রীর দাও ঊর্ধ্বমুখী। গত কয়েকদিনে চিনির দাম অনেকটা বেড়েছে। বোলপুরের মিষ্টি ব্যবসায়ী বিপদতারণ ঘোষ বলেন, চিনি ৪৫টাকা থেকে বেড়ে ৬৫টাকা কেজি হয়েছে। বাণিজ্যিক গ্যাসের খরচও আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। এই অবস্থায় মিষ্টির দাম না বাড়িয়ে ব্যবসা চালানো কঠিন। আবার দাম বাড়ালে ক্রেতাদের উপর চাপ পড়বে। তাই আমরা দোটানায় রয়েছি।
মিষ্টির তৈরির মূল উপকরণ ছানার দামও বেড়েছে। ব্যবসায়ী রঞ্জিত ঘোষ জানান, আগে ২০০টাকা কেজি দরে ছানা কেনা হলেও এখন তা বেড়ে প্রায় ২৫০টাকা হয়েছে। অর্থাৎ কেজিতে ৫০টাকা বেশি খরচ হচ্ছে। পাশাপাশি ভোজ্য তেলের দামবৃদ্ধিতে উৎপাদন খরচ বাড়ছে।
চিনির দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে মুদিখানার দোকানেও। ব্যবসায়ীদের একাংশ জানান, কয়েকদিন আগেও চিনি ৪২-৪৫টাকায় চিনি পাওয়া গিয়েছে। এখন সেই চিনি ক্রেতাদের কিনতে হচ্ছে ৬৫-৬৭ টাকা দরে। তাঁদের আশঙ্কা, খুচরো বাজারে দাম ৭০টাকা কেজি পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
চিনির দাম কেন বাড়ছে, তা নিয়েও নানা কথা বলছেন ব্যবসায়ীরা। তাঁদের একাংশের দাবি, আখের ব্যবহার ও চিনির উৎপাদনে পরিবর্তন হয়েছে। বাজারে চিনির জোগান কমেছে। আবার চাহিদাও বেড়েছে। এর প্রভাবেই দাম বাড়ছে বলে তাঁদের দাবি।
উৎসবের সময় মিষ্টির চাহিদা সাধারণত বাড়ে। সেই সময়েই কাঁচামালের দাম বাড়ায় সমস্যায় পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। তাঁদের আশঙ্কা, এই দাম আরও বাড়লে শেষ পর্যন্ত মিষ্টির দামও বাড়াতে হবে। আর তার চাপ পড়বে সাধারণ ক্রেতার পকেটে। বোলপুর শহরে মিষ্টির দোকানে আসা এক ক্রেতা বলেন, এমনিতেই মিষ্টির দাম বেড়েছে। তার উপর আবার দাম বাড়লে সমস্যা হবে।