নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সেচখালের মাধ্যমে কৃষিজমিতে যে জল সরবরাহ করা হয় তার উপর কর পুরোপুরি তুলে দিয়েছে রাজ্য সরকার। কৃষক স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেচকর আদায়ের জন্য যে আধিকারিকরা ছিলেন তাঁদের অন্য কাজে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। এই ব্যাপারে রাজ্য অর্থদপ্তরের প্রয়োজনীয় অনুমোদন চলে এসেছে। সেচদপ্তরে ইতিমধ্যে বৈঠকও হয়েছে এই ব্যাপারে। সেচকর আদায়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত রেভিনিউ অফিসার ও অ্যাসিস্ট্যান্ট ক্যানাল রেভিনিউ অফিসারদের দপ্তরের জমি সংক্রান্ত কাজে যুক্ত করা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সেচদপ্তরের মোট ৯টি রেভিনিউ ডিভিশন রয়েছে। সেচকর ছিল যখন চালু ছিল তখন কর আদায়ের দায়িত্ব ছিল এই ডিভিশনগুলির হাতে। দপ্তর সূত্রের খবব, মোট ১০টি রেভিনিউ অফিসার ও ২২টি অ্যাসিস্ট্যান্ট ক্যানাল রেভিনিউ অফিসারের পদ রয়েছে। এর মধ্যে কিছু পদ খালি আছে।
সেচকর উঠিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ ২০২৩ সাল থেকে শুরু করে রাজ্য সরকার। বিধানসভায় এই সংক্রান্ত বিষয়টি অনুমোদনের পর সেচদপ্তর বিজ্ঞপ্তি জারি করে। প্রথমে ডিভিসি প্রকল্পের আওতায় থাকা এলাকায় সেচখালের মাধ্যমে কৃষিজমিতে জল সরবরাহ করার উপর কর তুলে দেওয়া হয়। ডিভিসি ছাড়াও কংসাবতী, মূয়রাক্ষী, তিস্তা প্রভৃতি বাঁধ প্রকল্পের আওতায় থাকা এলাকার জমির উপর সেচকর তুলে নেওয়া হয় তারপরেই। ফলে রাজ্যের কোথাও এখন চাষিদের সেচকর দিতে হয় না। ফলে সেচকর আদায়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের কর সংক্রান্ত কোনও কাজ করতে হয় না। তাঁদের অধীনস্থ কর্মীদের স্বাভাবিকভাবে কর সংক্রান্ত কোনও কাজ নেই। রাজ্য সরকারি কর্মী সংগঠনের নেতা মনোজ চক্রবর্তী দীর্ঘদিন ধরে সেচদপ্তরে বিভিন্ন পদে কাজ করেছেন। তাঁর কথায় সেচকর উঠে যাওয়ায় দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক ও কর্মীদেরও এই সংক্রান্ত কোনও কাজ নেই। আধিকারিকদের পাশাপাশি কর্মীদেরও অন্য কাজে যুক্ত করা উচিত। রেভিনিউ ডিভিশনের কর্মীরা এখন শুধু কর্মী সংক্রান্ত কিছু কাজকর্ম করেন। তাঁদের দপ্তরের অন্যকোনও গুরুত্বপূর্ণ কাজে লাগানো যায়। সেচকর যখন চালু ছিল তখন তার হার খুব কম ছিল। বোরো মরশুমে প্রতি হেক্টরের জন্য ৫০ টাকা, রবি মরশুমে ২০ টাকা এবং খরিফ মরশুমে ১৫ টাকা কর ছিল। বামফ্রন্ট সরকার ক্ষমতায় এসেও সেচকর বাড়ায়নি। এত কম কর হওয়ায় তা আদায়ের জন্য বিভিন্ন খাতে যে খরচ হতো সেটাই উঠত না। বহু চাষি কর দিতেন না। তা আদায় করার জন্য বাম আমলেও কোনও উদ্যোগ ছিল না। এই অবস্থায় সেচদপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক ও কর্মীদের অন্য কাজে নিযুক্ত করলে সরকারের অর্থ সাশ্রয় হবে।