Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

চাকরি খোয়ানো গ্রুপ-সি, ডি কর্মীদের ভাতার জন্য ডিআই অফিসে আবেদনপত্র নেওয়া শুরু

চাকরি খোয়ানো গ্রুপ-সি, ডি কর্মীদের ভাতার জন্য ডিআই অফিসে আবেদনপত্র নেওয়া শুরু
  • ২৭ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে চাকরি খোয়ানো গ্রুপ-সি ও গ্রুপ-ডি কর্মীদের ভাতা দেওয়ার জন্য জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক অফিসে আবেদন পত্র নেওয়া শুরু হয়েছে। সোমবার থেকেই বিভিন্ন স্কুলের প্রধান শিক্ষকরা তমলুক শহরে মানিকতলায় জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (মাধ্যমিক) অফিসে এসে এই সংক্রান্ত নথি জমা করেন। আগামী ২৮মে-র মধ্যে সকল শিক্ষাকর্মীর নথি জমা করতে হবে বলে ওই অফিস থেকে জানানো হয়েছে। সেইমতো সোমবার থেকেই ডিআই অফিসের রিসিভ সেকশনে প্রধান শিক্ষকদের লাইন পড়ে যায়। আগামী জুন মাসের শুরু থেকেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘোষণা মতো গ্রুপ-সি এবং গ্রুপ-ডি কর্মীদের ভাতা দেওয়ার কাজ শুরু হবে বলে জানা গিয়েছে। গ্রুপ-সি কর্মীরা মাসে ২৫ হাজার এবং গ্রুপ-ডি কর্মীরা মাসে ২০ হাজার টাকা পাবেন। পূর্ব মেদিনীপুরে বিভিন্ন স্কুলে প্রায় ৬০০ জন গ্রুপ-সি এবং গ্রুপ-ডি কর্মী চাকরি খুইয়েছেন। ২০১৬ সালে এসএসসি-র মাধ্যমে নিযুক্ত সকল অশিক্ষক কর্মীর চাকরি বাতিল করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। তাঁরা স্কুলেও যাচ্ছেন না। তাঁদের পরিবারের কথা ভেবে মুখ্যমন্ত্রী প্রত্যেকের জন্য মাসে ভাতা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন। রাজ্য সরকারের শ্রমদপ্তর থেকে এই ভাতা দেওয়া হবে। আগে প্রত্যেক জেলা থেকে অশিক্ষক কর্মীদের নাম পৌঁছবে বিকাশ ভবনে। সেখান থেকে অশিক্ষক কর্মীদের তালিকা পাঠানো হবে রাজ্য শ্রম দপ্তরে। ওই দপ্তর থেকেই চাকরি খোয়ানো অশিক্ষক কর্মীদের অ্যাকাউন্টে ভাতা বাবদ টাকা ঢুকবে।

Advertisement

সোমবার থেকে পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় প্রধান শিক্ষকদের কাছ থেকে অশিক্ষক কর্মীদের নাম সহ পূর্ণাঙ্গ তথ্য চাওয়া হয়েছে। কাঁথির অ্যাডিশনাল ডিস্ট্রিক্ট ইনসপেক্টর (এডিআই) অব স্কুল অফিসে কাঁথি ও এগরা মহকুমা এলাকার অশিক্ষক কর্মীদের তথ্য জমা করা হচ্ছে। হলদিয়ায় অ্যাসিস্ট্যান্ট ইনসপেক্টর (এআই) অফিসে ওই মহকুমার অশিক্ষক কর্মীদের তথ্য জমা নেওয়া হচ্ছে। বিকাশ ভবন থেকে নির্দেশ আসার পরই প্রত্যেক স্কুলকে এনিয়ে অবহিত করা হয়েছে। ২৮ তারিখের মধ্যে জমা দেওয়ার কাজ শেষ করার জন্য প্রত্যেক স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও টিচার ইনচার্জকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।তবে, ভাতা নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা হওয়ায় কিছু শিক্ষাকর্মী এনিয়ে আবেদন করবেন না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তমলুক ব্লকের কেলোমাল সন্তোষিণী হাইস্কুলের একজন শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিল হয়েছে। ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মৃন্ময় মাজি বলেন, আমাদের স্কুলের একজন শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিল হয়েছে। তিনি ভাতার জন্য আবেদন করতে চান না। আমাকে লিখিতভাবে জানিয়েছেন। 
ময়না ব্লকের বিবেকানন্দ কন্যা বিদ্যাপীঠের একজন অশিক্ষক কর্মীর চাকরি বাতিল হয়েছে। প্রধান শিক্ষিকা মধুমিতা ভঞ্জ মণ্ডল বলেন, আমাদের ওই অশিক্ষক কর্মীর নথি ডিআই অফিসে জমা করেছি। জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (মাধ্যমিক) পলাশ রায় বলেন, ২৮ মের মধ্যে চাকরি হারা অশিক্ষক কর্মীদের তথ্য জমা দিতে বলা হয়েছে। তমলুক, হলদিয়া, কাঁথিতে জমা নেওয়া হচ্ছে। প্রায় ছ’শো অশিক্ষক কর্মী আছেন। তাদের নামের তালিকা আসার পরই আমরা বিকাশ ভবনে পাঠিয়ে দেব।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ