


নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: বিপর্যয় মোকাবিলায় বীরভূম জেলার পরিকাঠামো যথেষ্টই উন্নত। ইতিমধ্যে সিভিল ডিফেন্সের আওতায় অত্যাধুনিক ল্যাডার, চেইন সহ একাধিক যন্ত্রাংশ যুক্ত হয়েছে। যদিও জেলায় সিভিল ডিফেন্সের জন্য সুনির্দিষ্ট কোনও ব্যারাক নেই। বিষয়টি জেলা প্রশাসনের কর্তাদের যথেষ্ট ভাবিয়ে তুলছে। প্রশাসনিক কর্তাদের কথায়, ব্যারাক থাকলে যে কোনও প্রকার বিপর্যয় মোকাবিলার কাজ দ্রুততার সঙ্গে করা সম্ভব। এই ভাবনা থেকেই সম্প্রতি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন পাঠানো হয়েছিল জেলায় উন্নত ধরনের কিউআরটি ব্যারাক গড়ে তোলার বিষয়ে। দপ্তরের তরফে সবুজ সংকেত মিলতেই জেলা প্রশাসন ব্যারাক গড়ে তোলার কাজে হাত দিয়েছে। ইতিমধ্যে জমি খোঁজার কাজ শেষ হয়েছে। সেইসঙ্গে মাটির পরীক্ষা নিরীক্ষাও শেষ হয়েছে। এবার নির্মাণ কাজ শুরুর অপেক্ষা। জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, কিউআরটি ব্যারাক গড়ে উঠলে বিপর্যয় মোকাবিলার কাজ অনেকটাই গতি পাবে। সেইসঙ্গে ওই ব্যারাকে জরুরিকালীন পরিস্থিতির মোকাবিলায় কন্ট্রোল রুম চালু করা হলে অনেকটাই সুবিধা হবে। আশা করছি, অতি দ্রুত ব্যারাক নির্মাণের কাজ শুরু হবে।
সিউড়ি-১ ব্লকের আমাইপুর মৌজায় ০.৪৩ একর অর্থাৎ ৪৩ শতক জমি কিআরটি ব্যারাক গড়ে তোলার জন্য চিহ্নিত হয়েছে। সেখানে বহুতল কিউআরটি ব্যারাক গড়ে উঠলে বিপর্যয় মোকাবিলার কাজে ব্যবহৃত প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ সহ গাড়ি ও স্পিড বোট রাখার ক্ষেত্রে যথেষ্ট সুবিধা হবে। এছাড়াও ওই কিআরটি ব্যারাকে গড়ে তোলা হবে নাইট শেল্টার। সেখানে সিভিল ডিফেন্সের কর্মীদের রাত্রিবাসের ব্যবস্থা থাকবে। প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছে, ওই ব্যারাকে ৪০ জনের থাকার বন্দোবস্ত করা হবে। মূলত ঝড়বৃষ্টি সহ অন্যান্য বিপর্যয় মোকাবিলায় কাজ শুরু করতে হলে লোকবল প্রস্তুত করতেই অনেকটা সময় নষ্ট হয়। তবে নাইট শেল্টার চালু হলে সেই সমস্যা অচিরেই মিটে যাবে। ব্যারাকে উপস্থিত লোকবল যে কোনও পরিস্থিতির মোকাবিলা যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ শুরুর ক্ষেত্রে সক্ষম হবেন। বর্তমান সময়ে গ্রামোন্নয়ন শাখা প্রকল্পের অফিস লাগোয়া সরকারি ভবনে সিভিল ডিফেন্সের গোডাউন রয়েছে। সেখানেই বিপর্যয় মোকাবিলার কাজে প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ সহ গাড়ি মজুত করে রাখা থাকে। তবে বিপর্যয় মোকাবিলায় নিযুক্ত কর্মীদের রাতে থাকার মতো কোনও জায়গা নেই। ফলত কোনও ঘটনা ঘটলে তাঁদের জমায়েতের ক্ষেত্রে অনেকটা সময় অপচয় হয়। এছাড়াও অপ্রতুল জায়গার জেরে সেখানে গাড়ি সহ অন্যান্য যন্ত্রাংশ মজুত করে রাখার বিষয়টিও রীতিমতো চ্যালেঞ্জের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।