নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বর্তমানে দক্ষিণ কলকাতা ও সোনারপুর রাজপুর পুরসভার একাংশের নিকাশি জল সরাসরি টালিনালায় গিয়ে পড়ে। কয়েকটি জায়গায় লকগেট থাকলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তা কাজ করে না। হয় সেগুলি অত পুরনো, না হয় ভাঙা। এর বাইরেও বিভিন্ন এলাকা থেকে বহু নর্দমা এসে টালিনালায় পড়েছে। যা আদি গঙ্গাকে দূষিত করছে। তাই, কেন্দ্রের ‘নমামি গঙ্গে’ প্রকল্পের অধীনে আদি গঙ্গার সংস্কার ও পলি তুলতে বড়ো অংকের টাকা পেয়েছে কলকাতা পুরসভা। জানা গিয়েছে, নোংরা জল আদি গঙ্গায় যাতে না পড়ে, সেকারণে টালিনালামুখী সমস্ত পুরনো পাইপলাইনের পয়েন্ট বন্ধ করে দেওয়া হবে। পরিবর্তে বসবে লকগেট। এইজন্য ৭৪টি লকগেট বানানো হবে। তৈরি হবে তিনটি সুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্লান্ট (এসটিপি), পাতা হবে নতুন পাইপলাইনও। এছাড়াও হবে আরও নানা কাজ। এই কাজ কীভাবে হবে, তা ঠিক করতে ইতিমধ্যেই পরামর্শদাতা নিয়োগ করেছে পুরসভা। আর কিছুদিনের মধ্যেই কাজ শুরু হবে।
সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে আদি গঙ্গা মজে যাওয়া খালের চেহারা পেয়েছে বহুকাল আগেই। এই জলে দূষণের মাত্রা লাগামহীন। দু’পাড়ের বাসিন্দারা যাবতীয় আবর্জনা ফেলে এই জলে। ফলে অস্বাস্থ্যকর হয়ে উঠছে পরিবেশ। আদি গঙ্গা প্রায় সাড়ে ১৫ কিমি দীর্ঘ। এর দু’পাড়ে কলকাতা পুরসভার ২৯টি ও সোনারপুর রাজপুর পুরসভার তিনটি ওয়ার্ড রয়েছে। বিপুল সংখ্যক লোকের বসবাস।
শুধু আদিগঙ্গা নয়, গঙ্গা দূষণ নিয়ে পরিবেশ কর্মীরাও উদ্বিগ্ন। পাশাপাশি পলি তোলা না হওয়ায় আদি গঙ্গা পুরোপুরি নাব্যতা হারিয়েছে। যদিও, কেন্দ্রীয় প্রকল্পের টাকা হাতে পাওয়ার আগেই টালিনালার নাব্যতা ফেরাতে তৎপর হয়েছে পুরসভা। অনেকটাই পলি তোলা হয়েছে। দূষিত আদি গঙ্গার হাল ফেরাতে পুরসভা পেয়েছে প্রায় ৭৫৩ কোটি টাকা। দফায় দফায় এই কাজ হবে।
ইতিমধ্যেই রাজ্যের উদ্যোগে দইঘাট থেকে কুঁদঘাট পর্যন্ত প্রায় ন’ কিলোমিটার অংশ থেকে পলি তোলা হয়েছে। আরও প্রায় ছয় থেকে সাড়ে ছয় কিলোমিটার অংশে এই কাজ হবে। আদি গঙ্গার উপরে থাকা বিভিন্ন সেতু ও পাড় থেকে স্থানীয়রা জলে নোংরা ফেলেন। যার জন্য আদি গঙ্গার উপরে থাকা বেশ কয়েকটি সেতুর দু’ধারে লোহার জাল লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। অন্যান্য সেতুতেও এমন জাল লাগানো হবে বলে জানা গিয়েছে। যাতে কেউ আবর্জনা না ফেলতে পারেন। সব মিলিয়ে টালিনালার দু’পাড়ে প্রায় ৩১ কিমি কিলোমিটার অংশ লোহার জাল দিয়ে ঘেরা হবে। রাজ্যের আর্থিক সহায়তায় ইতিমধ্যেই পাড়ের প্রায় পাঁচ কিলোমিটার অংশে এই কাজ হয়েছে। একইসঙ্গে মোট ৮০টি ঘাটও সংস্কার হবে। আশপাশের ওয়ার্ডের নিকাশি জল যাতে সরাসরি টালিনালায় এসে না পড়ে, তার জন্য পুরনো পাইপের মুখগুলি কোথাও বন্ধ করে দেওয়া হবে, কোথাও আবার লকগেট বসানো হবে। গঙ্গা অভিমুখে যাওয়া বিভিন্ন পাইপলাইন ঘুরিয়ে পাঠানো হবে এসটিপিতে। যার জন্য প্রায় ৫০ মিমি নতুন নিকাশি পাইপলাইন পাতবে পুরসভা। তৈরি হবে ২৩টি পাম্পিং স্টেশনও। এক পুরকর্তা বলেন, আদিগঙ্গার জল আগের তুলনায় এখন কিছুটা পরিষ্কার। কিন্তু, সরাসরি নিকাশিনালার জল টালিনালায় ফেলা বন্ধ করতে পারলে জল আরও পরিষ্কার হয়ে যাবে। পাশাপাশি, ময়লা ফেলাও বন্ধ করতে হবে। তাহলেই আর দূষণ থাকবে না।