Bartaman Logo
১৯ আগস্ট, ২০২৬

ডিএ কেন প্রভিডেন্ড ফান্ডে, রাজ্যকে প্রশ্ন শীর্ষ আদালতের

রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা ডিয়ারনেস অ্যালাউন্স (ডিএ) কেন পাঠানো হচ্ছে প্রভিডেন্ড ফান্ডে?

ডিএ কেন প্রভিডেন্ড ফান্ডে, রাজ্যকে প্রশ্ন শীর্ষ আদালতের
  • ১৯ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা ডিয়ারনেস অ্যালাউন্স (ডিএ) কেন পাঠানো হচ্ছে প্রভিডেন্ড ফান্ডে? তাও আবার দু’ বছরের লক-ইন পিরিয়ড? রাজ্য সরকারের কাছে জানতে চাইল সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার শীর্ষ আদালতে বিচারপতি সঞ্জয় কারোল এবং বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্রর বিশেষ বেঞ্চে ছিল পশ্চিমবঙ্গের ডিএ মামলার শুনানি। রাজ্য সরকারের পক্ষে আইনজীবী তথা দেশের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতে জানান, ৬৫ শতাংশ বকেয়া ডিএ দেওয়া হয়ে গিয়েছে। এখনো পর্যন্ত ৭ হাজার ৭০০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে।

Advertisement

যদিও তা সব কর্মচারী পাননি বলেই পালটা সওয়াল করেন করুণা নন্দী, মানেকা গুরুস্বামী, বিকাশ ভট্টাচার্যদের মতো আইনজীবীরা। বলেন, মোট বকেয়া প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা। তার মধ্যে সাত হাজার কোটি টাকা কিছুই নয়। তাছাড়া যারা পেয়েছেন তাদেরও টাকা তোলার কোনো অধিকার নেই। টাকা চলে যাচ্ছে প্রভিডেন্ড ফান্ডে। দু বছরের আগে সেই টাকা তোলা যাবে না। বাকি টাকাই বা কবে দেওয়া হবে, তা নিয়েও সরকার কিছু বলছে না। কর্মচারীদের পক্ষে এই সওয়াল শুনে রাজ্য সরকারের উদ্দেশে বিচারপতি সঞ্জয় কারোলের বিষ্ময়কর প্রশ্ন, ‘কেন লক-ইন পিরিয়ড? আমাদের মূল রায়ে তো এমন কোনো কথা বলা ছিল না। তাহলে?’ গোড়ায় ২৫ শতাংশ একলপ্তে দেওয়ার নির্দেশ ছিল। বাকি অংশ কীভাবে কত কিস্তিতে কী হারে দেওয়া হবে, তা ঠিক করতে সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রার নেতৃত্বে কমিটি গড়া হয়েছিল। তাহলে? রাজ্যকে প্রশ্নের মুখে পড়তে হল সর্বোচ্চ আদালতে। 
একইসঙ্গে মঙ্গলবার শুনানিতে আদালতের নির্দেশ, ইন্দু মালহোত্রা কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে কী হারে কত কিস্তিতে বকেয়া মেটানো যায়, তা নিয়ে আলোচনা করুন। আবেদনকারী সংগঠনের পক্ষ থেকে একটি প্রতিনিধি তালিকা তৈরি করুন। আজ বুধবার আদালতের সামনে সেই তালিকা তুলে হবে। আজ ফের হবে শুনানি। ডিএ মামলায় কনফেডারেশন অব স্টেট গভর্মেন্ট এমপ্লয়িজ, সরকারি কর্মচারী পরিষদ, সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ, ইউনিটি ফোরামের মতো চারটি সংগঠন রয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, সুপ্রিম কোর্ট গত ৫ ফেব্রুয়ারি ১২৪ পাতার রায়ে রোপা (রিভিশন অব পে অ্যান্ড অ্যালাউন্সেস) মেনে এবং এআইসিপিআই (অল ইন্ডিয়া কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স) অনুসরণ করে মহার্ঘ ভাতা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। বলা হয়েছিল, ১০০ শতাংশ বকেয়া মেটাতে হবে। যদিও রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর গত ২১ জুলাই শুভেন্দু অধিকারীর সরকার সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করে জানিয়েছে, ১০০ শতাংশ নয়। বকেয়া মহার্ঘ ভাতার ৮৫ শতাংশ মেটাতে চায় রাজ্য। একইসঙ্গে আবেদন, ধাপে ধাপে চার কিস্তিতে মেটানো হবে। প্রথমটি ইতিমধ্যেই দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় কিস্তি ২০২৭ সালের জানুয়ারি, তৃতীয় কিস্তি আগামী বছর জুলাই এবং চতুর্থ কিস্তি দেওয়া হবে ২০২৮ সালের জানুয়ারিতে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ