নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: ২০২১ সালের ভোট পরবর্তী হিংসায় ইটভাটা ভাঙচুর ও প্রায় ৩০ লক্ষ টাকার ইট লুটের মামলায় সিউড়ি জেলা জজ আদালতে আগাম জামিনের আর্জি খারিজ হয়ে গেল তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডলের। আদালত সূত্রের খবর, মঙ্গলবার এই মামলার শুনানির পর বিচারক জামিনের আবেদন নাকচ করে দিয়েছেন। এই ঘটনায় বীরভূমের প্রাক্তন জেলা তৃণমূল সভাপতির ওপর আইনি চাপ যে বহুগুণ বাড়ল, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। আদালত রক্ষাকবচ তুলে নেওয়ায় এখন জেলা জুড়ে একটাই প্রশ্ন, এবার কি তবে গ্রেপ্তার হতে চলেছেন অনুব্রত?
আইনি এই টানাপোড়েনের মূলে রয়েছে কঙ্কালীতলা অঞ্চলের পাথরঘাটার দীর্ঘ ৩৫ বছরের পুরনো ইট ব্যবসায়ী তথা বোলপুরের ত্রিসুলাপট্টির বাসিন্দা শুভেন্দু মণ্ডলের একটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ। জুন মাসের শুরুর দিকে অভিযোগের বিষয়টি সামনে আসে। অভিযোগকারীর দাবি, একুশের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে তৃণমূল সরকার গঠিত হওয়ার পরেই অনুব্রত মণ্ডলের নির্দেশে এবং কঙ্কালীতলা গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান মামন শেখের নেতৃত্বে প্রায় ২০০ জন দুষ্কৃতী শুভেন্দুর ইটভাটায় চড়াও হয়ে তাণ্ডব চালায়। কর্মচারীদের মারধর করে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকার ইট লুঠ করে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়। বিজেপি সমর্থক হওয়ার অপরাধেই তাঁর ওপর এই হামলা হয়েছিল এবং তৎকালীন তৃণমূল জামানায় পুলিশকে জানিয়েও কোনো লাভ হয়নি। ব্যবসায়ী শুভেন্দু মণ্ডলের কথায়, ‘তৃণমূল নেতারা বিভিন্ন সময়ে টাকা দাবি করত। টাকা না দেওয়ায় এবং বিজেপি করার অপরাধে আমার ওপর এই হামলা হয়।’ তবে রাজ্যে বিজেপি সরকার আসার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ন্যায়বিচারের আশ্বাস দিলে, ওই ব্যবসায়ী শান্তিনিকেতন থানায় নতুন করে অনুব্রত মণ্ডল সহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। মামলার এক নম্বর অভিযুক্ত অনুব্রত মণ্ডল। ফলে গ্রেপ্তারির আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় সিউড়ি আদালতে আগাম জামিনের আবেদন জানিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু মঙ্গলবার আদালত তা খারিজ করে দেওয়ায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে।
যে নেতার অঙ্গুলিহেলনে একসময় গোটা জেলা কাঁপত, তাঁর এই বিপর্যয়ে বীরভূমের রাজনৈতিক অলিন্দে এখন চরম শোরগোল। এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া নেওয়ার জন্য এদিন অনুব্রত মণ্ডলকে ফোন করা হলেও ও প্রান্ত থেকে কোনো সাড়াশব্দ মেলেনি।