শিবাজী চক্রবর্তী, কলকাতা: ভ্যাপসা গরমে গলগলিয়ে ঘামছেন। দুধসাদা টি-শার্ট শরীরে লেপ্টে। শেষ বাঁশি বাজতেই সাপোর্ট স্টাফেদের ভিড় ঢেকে দিল আন্তোনিও লোপেজ হাবাসকে। স্প্যানিশ কোচই যুবভারতীর নেপথ্য নায়ক। বডি ল্যাঙ্গুয়েজে লাল-হলুদ স্পর্ধা। সিংহের গর্জন, ইস্ট বেঙ্গল কাঁপে না কাঁপায়। ২৯ বছর আগে ফেডারেশন কাপে সেমি-ফাইনালে অমল দত্তের ডায়মন্ড সিস্টেম চূর্ণ করেছিলেন পিকে। ৪-১ গোলে জয়। প্রায় তিন দশক পর ডুরান্ড ফাইনালের স্কোরলাইন ফেরালো সেই ম্যাচের স্মৃতি। পিকে প্রয়াণের পর ৬ বছর অতিক্রান্ত। না ফেরার ড্রেসিং-রুম থেকে কিংবদন্তি পিকেও দেখলেন হাবাসের বাজিমাত। সেদিনের মতো স্রেফ কাউন্টার অ্যাটাকেই বিস্ফোরণ। এডমুন্ডের হ্যাটট্রিকের পরেই লাল-হলুদ গ্যালারিতে উৎসব শুরু। হাবাস তখনও নির্বিকার। তবে ৫ গোল না হওয়ায় আপশোস থাকছেই। শীর্ষ কর্তা দেবব্রত সরকারের মন্তব্য, ‘লড়াই আমাদের রক্তে। কোচ হাবাস সহ গোটা দলকে কুর্নিশ। ৫ গোল আগেও দেখেছি। যারা তা দেখতে পায়নি, এই আপশোস তাদের।’
হেভিওয়েট মোহন বাগান। নামীদামি তারকার ভিড়। পানোসের গলায় মুক্তোর ছড়া। কাগজে-কলমে পিছিয়ে ইস্ট বেঙ্গল। বিদেশি ডিফেন্ডার থেকেও নেই। নাইজেরিয়ান স্ট্রাইকার এফিয়ংয়ের ভিসা সমস্যা। তবু কোন অস্ত্রে মায়াবি সন্ধ্যা আঁকলেন হাবাস? টিম স্পিরিট, নিখুঁত পরিকল্পনার মিশেলে সাজানো বাগান তছনচ। সবুজ-মেরুন দুর্গে আছড়ে পড়ল মিসাইল। গত কয়েকদিন ক্লোজড ডোর অনুশীলনে পরিকল্পনা তৈরি করেছিলেন। তারই বিস্ফোরণ যুবভারতীতে। সেমি-ফাইনালে পেনাল্টি দিয়ে মানসিকভাবে গুটিয়ে ছিলেন সন্দীপ মান্ডি। রাফ অ্যান্ড টাফ লালচুংনুঙ্গাকে স্টপারে এনে সন্দীপকে লেফট-উইং ব্যাকে নামালেন হাবাস। অনভ্যস্ত জায়গায় নড়বড়ে জয় গুপ্তাও অসাধারণ। অভিষেকের ওভারল্যাপ বন্ধের পাশাপাশি আক্রমণেও সাহায্য করলেন। এডমুন্ডের তৃতীয় গোলে জয়ই কারিগর। মাঝমাঠে রশিদ ও জিকসনের ফানেল শুষে নিল জেলকোভিচদের। বসনিয়ার ফুটবলার আনফিট। এমনকি আপুইয়াও নির্বিষ। আসলে রশিদ, হার্দিকদের তাড়ায় দমছুট মোহন বাগান। যুদ্ধ ও লড়াইয়ের ক্যাপসুল গিলদের মস্তিষ্কে ঠেসে দিয়েছিলেন হাবাস। প্যালেস্তাইন রশিদ যেন খাপখোলা তলোয়ার। লাল-হলুদের আরব্য রজনীতে রশিদই রাজকুমার।
ট্যাকটিকাল বদলে পানোসের চোখে ধুতরো ফুল দেখালেন হাবাস। দ্বিতীয়ার্ধে মিগুয়েল, ছাংতেদের নামিয়ে অল-আউট গেলেন পানোস। ততক্ষণে ঝাঁপ ফেলেছেন হাবাস। জোনাল মার্কিংয়ে হাঁসফাঁস করলেন মিগুয়েল। মরশুমের প্রথম বড়ো ম্যাচ হাবাস হেরেছিলেন। সুপার সানডেতেই বদলা। মশালের আগুনে উদ্ভাসিত স্বপ্নের সওদাগর।