


নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: কুকুরের কামড়, বিড়ালের আঁচড় বা ইদুরের কামড়ে আহত হয়েছেন। কিন্তু তার প্রতিষেধক অ্যান্টি র্যাবিস ভ্যাকসিন (এআরভি) মিলছে না উত্তর ২৪ পরগনার সরকারি হাসপাতালগুলিতে। এমনকী বারাসত মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালেও দীর্ঘদিন ধরে অমিল এই ভ্যাকসিন। তাই, জরুরি প্রয়োজনে রোগীকে নিয়ে ছুটতে হচ্ছে বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে। বিরাট হয়রানি হচ্ছে মানষের। কবে এই ভ্যাকসিন মিলবে, তাও জানেন না স্বাস্থ্যকর্তারা।
জানা গিয়েছে, সরকারি হাসপাতাল বা মেডিক্যাল কলেজে প্রায় ১৫ দিন ধরে মিলছে না জলাতঙ্কের প্রতিষেধক। এনিয়ে হাসপাতাল চত্বরে দাঁড়িয়েই ক্ষোভ উগরে দিলেন কিছু রোগীর পরিজন। সোমবার বারাসতের ছোট জাগুলিয়া হাসপাতালে ছেলেকে ভ্যাকসিন দিতে নিয়ে এসেছিলেন রাজশ্রী পাতি। খেদের সুরে বলেন, ছেলেকে বিড়ালে আঁচড় দিয়েছিল। এদিন তৃতীয় ভ্যাকসিন নেওয়ার দিন ছিল। সকালেই চলে আসি। কিন্তু, হাসপাতাল থেকে বলে দিল ভ্যাকসিন নেই। কিছুদিন পরে খোঁজখবর নিয়ে আসতে বলা হল। নির্দিষ্ট দিনে ভ্যাকসিন না নেওয়া হলে সমস্যা হবে কি না বুঝতে পারছি না।
বারাসত শহরের বছর ন’য়ের রিভু ধরকে মঙ্গলবার দুপুরে পথকুকুরে কামড়ে দেয়। সে তাঁর মায়ের সঙ্গে টিকা নিতে এসেছিল বারাসত মেডিক্যালে। কিন্তু সেখানেও জানিয়ে দেওয়া হয়, অ্যান্টি র্যাবিস ভ্যাকসিন নেই। রিভুর মা মধুমিতা ধরের কথায়, এটা মেডিক্যাল কলেজ। অথচ এখানেও জলাতঙ্কের প্রতিষেধক অমিল। ভাবতেই অবাক লাগছে। এখন ছেলেকে নিয়ে কলকাতায় যেতে হবে ভ্যাকসিন দিতে। একই অভিযোগ দত্তপুকুরের সুভাষ মল্লিকের। তাঁর ছেলেকে বিড়ালে আঁচড়ে দিয়েছে। মঙ্গলবার বারাসত মেডিক্যালে ছেলেকে নিয়ে আসেন। চিকিৎসক দেখে বলেন, অ্যান্টি র্যাবিস ভ্যাকসিন নিতে হবে। কিন্তু হাসপাতালে যেখানে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়, সেখানে গিয়ে জানতে পারি ভ্যাকসিন নেই। পরে আসতে হবে। এদিকে বাইরে থেকে ওই ভ্যাকসিন কিনে দেওয়ার মতো সামর্থ্যও নেই।
এই ব্যাপারে বারাসত মেডিক্যাল কলেজের সুপার সুব্রত মণ্ডল বলেন, অ্যান্টি র্যাবিস ভ্যাকসিনের ঘাটতি রয়েছে। বিষয়টি স্বাস্থ্যভবনকেও জানানো হয়েছে। আশা করি, দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে। স্বাস্থ্যদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করে কিছু এআরভি জোগাড় করেছি আমরা। যেহেতু ঘাটতি রয়েছে, তাই এই মুহূর্তে সবাইকে ওই ভ্যাকসিন দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। যাঁদের খুবই প্রয়োজন, তাঁদের দেওয়া হচ্ছে।
এক ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক জানিয়েছেন, এই সমস্যা প্রায় এক পক্ষকাল ধরে চলছে। মানুষকে জবাবদিহি করতে গিয়ে নাজেহাল অবস্থা আমাদের। এনিয়ে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সমুদ্র সেনগুপ্ত বলেন, আমরা স্বাস্থ্যভবনকে লিখিত জানিয়েছি বিষয়টি। ভ্যাকসিন এলেই তা বিলি করা হবে।