Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

অভিবাসী-বিরোধী বিক্ষোভ লন্ডনে, দক্ষিণপন্থীদের হুঁশিয়ারি প্রধানমন্ত্রীর

অভিবাসীদের তাড়ানোর দাবিতে উত্তাল ব্রিটেন। অতি-দক্ষিণপন্থী টমি রবিনসনের নেতৃত্বে শনিবার লন্ডনের রাস্তায় নামল প্রায় দেড় লক্ষ বিক্ষোভকারী।

অভিবাসী-বিরোধী বিক্ষোভ লন্ডনে, দক্ষিণপন্থীদের হুঁশিয়ারি প্রধানমন্ত্রীর
  • ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ১৬:০৯
Prefer us on Google

লন্ডন: অভিবাসীদের তাড়ানোর দাবিতে উত্তাল ব্রিটেন। অতি-দক্ষিণপন্থী টমি রবিনসনের নেতৃত্বে শনিবার লন্ডনের রাস্তায় নামল প্রায় দেড় লক্ষ বিক্ষোভকারী। হাতে সেন্ট জর্জের আমলের সাবেক লাল-সাদা পতাকা ও ইউনিয়ন জ্যাক। সেইসঙ্গে অভিবাসন বিরোধী পোস্টার-ব্যানার। শরণার্থীদের হোটেলের বাইরে দাঁড়িয়েও স্লোগান দেন আন্দোলনকারীরা। একাধিক স্থানে হিংসাও ছড়িয়েছে বলে খবর। পুলিসের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন আন্দোলনকারীরা। এরইমধ্যে পাল্টা সুর চড়িয়েছেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার। তাঁর সাফ বার্তা, দক্ষিণপন্থী আন্দোলনকারীদের কাছে কোনওভাবেই আত্মসমর্পণ করবে না সরকার। তিনি আরও বলেন, ব্রিটিশ পতাকা দেশের বৈচিত্রের প্রতীক। গাত্রবর্ণের নিরিখে কাউকে আক্রমণের শিকার হতে দেব না। একই সুরে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্র সচিব সাবানা মেহমুদও। তিনি জানিয়েছেন, বিক্ষোভের নামে হিংসাত্মক কাজকর্ম কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।

Advertisement

অভিবাসীদের থেকে দেশ ‘পুনর্দখলে’র দাবিতে ‘ইউনাইট দ্য কিংডম’ কর্মসূচির ডাক দিয়েছিলেন রবিনসন। পাশে দাঁড়িয়েছেন মার্কিন ধনকুবের এলন মাস্ক, ফ্রান্সের অতি-ডানপন্থী রাজনীতিবিদ এরিক জেমোর, জার্মানির অভিবাসন বিরোধী নেতা পেটর বাইস্ট্রন। 
আন্দোলনকারীদের দাবি,  অশ্বেতাঙ্গরাই সবকিছু দখল করে নিচ্ছে। অনিয়ন্ত্রিত অভিবাসন নীতির কারণেই দেশের প্রভূত ক্ষতি হচ্ছে। তাই ব্রিটেনের অতীত ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে হবে। বহু দেশে থেকে নৌকো করে অভিবাসীরা ব্রিটেনে চলে আসেন। এদিন বিক্ষোভ থেকে ‘ওদের দেশে ফেরত পাঠাও’, ‘নৌকো আসা বন্ধ করো’, ‘ অনেক হয়েছে, এবার আমাদের সন্তানদের রক্ষা করতেই হবে’—এরকম অনেক স্লোগান ওঠে। আন্দোলনের মাঝেই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখান থেকে গান ভেসে আসে— পশ্চিমী দুনিয়াকেও মধ্যপ্রাচ্যে পরিণত করা হয়েছে। 
কর্মসূচিতে জমায়েত নিয়ে উচ্ছ্বসিত রবিনসন। তিনি জানান, অবশেষে ব্রিটেন জেগে উঠেছে। এদিনের ভিড়কে দেশপ্রেমের ঢেউ বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি। শনিবার ভিডিও লিংকের মাধ্যমে কর্মসূচিতে যোগ দেন টেসলা কর্তা মাস্ক। তিনি বলেন, ‘আপনি হিংসা পছন্দ করুন বা না করুন, হিংসা আপনার কাছে এগিয়ে আসছে। এই পরিস্থিতিতে আপনাকে লড়াই করতেই হবে, না হলে মরতে হবে। এটাই সত্যি।’ স্টারমার সরকারের পতনও চেয়েছেন মাস্ক। 
মাস্কের মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন লিবারেল ডেমোক্র্যাট নেতা ইডি ড্যাভে। তিনি বলেন, আমাদের গণতন্ত্র কোনও বিদেশি শিল্পপতির খেলার জিনিস নয়। এলন ব্রিটেনের মানুষ বা তাদের অধিকার নিয়ে মোটেই ভাবিত নন। তিনি শুধু নিজের স্বার্থসিদ্ধির চেষ্টা করছেন। 
রবিনসনদের পাল্টা আন্দোলনের ডাক দেয় ‘স্ট্যান্ড আপ টু রেসিজম’। সেই কর্মসূচি থেকে এমপি ডায়না অ্যাবট ব্রিটেনে আশ্রয়প্রার্থীদের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেছেন। ছবি: পিটিআই

সম্পর্কিত সংবাদ