


সংবাদদাতা, কাটোয়া: ভোটের দিন এখনও ঘোষণা হয়নি। তবে বসে নেই নীচুতলার কর্মীরা। কাটোয়া, কেতুগ্রামজুড়ে শুরু হয়েছে দেওয়াল লিখনের লড়াই। শাসকদলের পাশাপাশি সিপিএম, বিজেপি কর্মীরা রাত জেগে দেওয়াল লিখনের কাজ করছেন। নানা ইস্যুকে সামনে রেখে দেওয়ালযুদ্ধ চলছে।
রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল লিখছে, ‘যতই করো হামলা, এবার জিতবে বাংলা।’ কোথাও আবার লক্ষ্মীর ভাণ্ডারকে সামনে রেখে দেওয়াল লিখন চলছে। আবার নানা কার্টুন চরিত্র এঁকে দেওয়ালে বিরোধী দলকে খোঁচা দেওয়া হয়েছে। পালটা বিজেপি লিখছে, ‘বাঁচতে এবার বিজেপি তাই।’ সিপিএম লিখেছে, ‘বঙ্গজুড়ে জাতপাতের রাজনীতি বন্ধ করতে সিপিএমকে পুনরুত্থান করুন।’ কাটোয়া, কেতুগ্রামজুড়ে প্রার্থীর নামের জায়গা ফাঁকা রেখেই কর্মীরা দেওয়াল লিখন করছেন।কেতুগ্রামের পাণ্ডুগ্রাম অঞ্চল তৃণমূলের সভাপতি লক্ষ্মণ মণ্ডল বলেন, ভোটের আর বেশিদিন বাকি নেই। নির্ঘণ্ট ঘোষণা হয়ে গেলে দলের কর্মীরা প্রচারে ব্যস্ত হয়ে পড়বেন। তাই এখন থেকেই দেওয়াল লিখন শুরু করে দিয়েছি। কাটোয়া বিধানসভার বিভিন্ন এলাকায় আগে থেকেই বিভিন্ন দেওয়ালে চুনকাম করে রেখেছিলেন শাসকদলের নেতা-কর্মীরা। এখন রাত জেগে কর্মীরা দেওয়াল লিখছেন। পানুহাট, আদর্শপল্লি এসব জায়গায় দেওয়াল লিখন চলছে। পাশাপাশি এলাকায় বাড়ি বাড়ি ঘুরছেন তৃণমূল কর্মীরা। ছোটো ছোটো ঘরোয়া বৈঠক করে দলীয় কর্মীদের রূপরেখা ঠিক করে দেওয়া হচ্ছে। তাছাড়া প্রতিটি বুথে ছোটো ছোটো বৈঠক করে ভুল-ত্রুটি শুধরে নেওয়ার কৌশল বলা হচ্ছে।পিছিয়ে নেই বিরোধীরাও। বিজেপি, সিপিএম কর্মীরাও পাল্লা দিয়ে দেওয়াল লিখছেন।
শাসকদলকে টেক্কা দিতে বিজেপিও কেতুগ্রাম, কাটোয়াজুড়ে গৃহ সম্পর্ক অভিযানে নেমেছেন। বাড়ি বাড়ি চাটাই বৈঠক সারছেন। কেন্দ্রীয় নেতাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে সেই ছবিও তাঁরা পাঠাচ্ছেন। কাটোয়ার বিজেপি নেত্রী সীমা ভট্টাচার্য বলেন, এবার বাংলায় পরিবর্তন হবেই। বিজেপি সরকার গঠন করবে। কেতুগ্রামের সিপিএম নেতা মিজানুল কবীর ধীরাজ বলছেন, কেতুগ্রাম আগে বামেদেরই মাটি ছিল। এবার সেই ধারা অব্যাহত থাকবে। কেতুগ্রামের বর্ষীয়ান সিপিএম নেতা ফারুক মির্জা বলেন, এবারের ভোটে অন্তত কেতুগ্রামে আমাদের বুথভিত্তিক শক্তি বাড়বে। তার প্রমাণ আমরা পাচ্ছি। কেতুগ্রামের তৃণমূল বিধায়ক শেখ শাহনেওয়াজ বলছেন, এবার কমিশন বিজেপির সঙ্গে আঁতাত করেছে। এসআইআরের নামে আসল ভোটারদের বাদ দেওয়ার জন্য ব্লকের অফিসারদের চাপ দিচ্ছে। বিহারের মতো চক্রান্ত বাংলার মানুষ মেনে নেবে না। ফের বাংলায় ফুটবে ঘাসফুল।