মণিরাজ ঘোষ, খড়্গপুর: কালীপুজোর পরই খড়্গপুরে ভাঙাভাঙি শুরু হবে। রাস্তা দখলমুক্ত করা হবে। বাধা দিতে এলে বাড়ির নয়, জেলের ভাত খেতে হবে! রেল শহর খড়্গপুরের রাস্তা দখলমুক্ত করতে এবার চরম হুঁশিয়ারি দিলেন স্থানীয় বিধায়ক তথা রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। সোমবার সাতসকালে খড়্গপুর শহরের ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের বামুনপাড়া এলাকায় চা-চক্রে গিয়ে বিজেপির এই দাবাং নেতা তথা মন্ত্রী বলেন, ‘খড়্গপুর শহরকে আমরা পরিষ্কার, দখলমুক্ত করব। কালীপুজোর পরই ভাঙাভাঙি শুরু হবে। কেউ বাধা দিতে আসবেন না। সবার সহযোগিতা চাই। বাধা দিতে এলে বাড়ির ভাত খেতে দেব না। জেলের ভাত খেতে হবে। স্পষ্ট জানিয়ে দিলাম।’
রেল শহর খড়্গপুরের বিভিন্ন রাস্তা ও জায়গা অবৈধভাবে দখল করা নিয়ে এর আগেও সরব হয়েছিলেন দিলীপবাবু। পুজোর পরই খড়্গপুরে বুলডোজার চালানোর কথা ঘোষণা করেছিলেন তিনি। আর এবার তা নিয়েই চরম হুঁশিয়ারি দিলেন দিলীপবাবু। রবিবার সন্ধ্যায় মেদিনীপুর শহরের পুলিশ লাইনে জেলা পুলিশের বিজয়া সম্মিলনীতে গিয়েছিলেন পঞ্চায়েত মন্ত্রী। সূত্রের খবর, সেখানে পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানার সঙ্গেও এনিয়ে তাঁর কথা হয়েছে। তারপরই দিলীপবাবুর এই কড়া অবস্থান। এদিন তিনি বলেন, ‘কেউ যদি বলে গরিব লোক ব্যবসা করছেন। সেজন্য অন্য জায়গা আছে। সরকার দেবে। একজনের জন্য ২০০ জনের অসুবিধা করতে দেব না। শহরকে মুক্ত করবই আমরা। পুলিশের সঙ্গেও এনিয়ে কথা হয়ে গেছে।’ একই সঙ্গে তাঁর সংযোজন, ‘মানুষ পরিবর্তনের জন্য আমাদের ভোট দিয়েছে। কোনো রাস্তা দখল করে ধান্দা বা ব্যবসা করা চলবে না। গোটা দেশে রেল যেভাবে নোটিস দিয়ে নিজেদের জায়গা দখলমুক্ত করছে, সেভাবেই করা হবে। রেলের জায়গা, সরকারেই জায়গা সরকারের হাতেই থাকবে!’
স্বাভাবিকভাবেই রাজ্যে পুর-ভোটের আগে পঞ্চায়েত মন্ত্রীর এই হুঁশিয়ারি ঘিরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া মিলেছে শহরবাসী ও জেলার রাজনৈতিক মহলের তরফে। ঋতব্রত-তৃণমূলের জেলা সভাপতি প্রদীপ সরকার বলেন, ‘এটা ঠিক গত কয়েক বছরে খড়্গপুর শহরের বিভিন্ন রাস্তা অনেক সংকীর্ণ হয়ে গেছে। যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। সেই সঙ্গেই গরীব ব্যবসায়ীদের কথাও ভাবতে হবে। তাঁদের জন্য উপযুক্ত পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করে সরকারি জায়গা দখলমুক্ত করা হোক। দিলীপ দা সহ সরকারের কাছে আমাদের এটাই আবেদন।’ জেলার বাম ও কংগ্রেস নেতৃত্বও পুনর্বাসনের দাবি তুলেছেন। অন্যদিকে, মমতা তৃণমূলের নেত্রী তথা সদ্য প্রাক্তন চেয়ারপার্সন কল্যাণী ঘোষ বলেন, ‘আমরা এর আগে অনেকবার নোটিস দিয়েছি। রাস্তার উপর দোকান থাকার ফলে একদিকে যেমন রাস্তা সংকীর্ণ হচ্ছে, ঠিক তেমনই নিকাশি-নালা পরিষ্কার করা যাচ্ছে না। সরকারি জায়গা, সরকার তো পদক্ষেপ করবেই।’ শহরের বাসিন্দা রূপম ভট্টাচার্য, বিবেক রাও প্রমুখ বলেন, ‘মিনি ইন্ডিয়া খড়্গপুরের হাল ফেরানো হোক। শহরকে যানজট মুক্ত, আবর্জনা মুক্ত ও দূষণ মুক্ত করা হোক। পাশাপাশি গরিব ব্যবসায়ীদের জন্য বিকল্প জায়গার ব্যবস্থা করা হোক।’



