নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের দুর্নীতি বন্ধ করতে এবার বিশেষ হেল্পলাইন নম্বর (৯৮৩৬২-৩৩৮৯১) চালু করল রাজ্য দুর্নীতিদমন শাখা বা অ্যান্টি করাপসন ব্রাঞ্চ। মঙ্গলবার এই হেল্পলাইন নম্বর চালু করা হয়েছে। দীর্ঘদিনের অভিযোগ, সরকারি অফিসে পরিষেবা নিতে গেলে সাধারণ মানুষকে ঘুষ দিতে হয়। এবার সরকারি কর্মচারী ঘুষ চাইলেই এই হেল্পলাইনে অভিযোগ জানানো যাবে। সেক্ষেত্রে অভিযোগকারীর নাম-পরিচয় গোপন রাখার আশ্বাস দিয়েছেন কর্তারা। হেল্পলাইনের পাশাপাশি ই-মেলেও অভিযোগ জানানো যাবে।
সরকারি অফিসে ঘুষ না দিলে কাজ হয় না, এমনটাই অভিযোগ রাজ্যের ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের। আগামী চার থেকে পাঁচমাসের মধ্যে এই ঘুষ- সংস্কৃতি বন্ধ করতে মরিয়া অ্যান্টি করাপশন ব্রাঞ্চের গোয়েন্দারা। প্রাথমিকভাবে, পুলিশ, মোটর ভেহিকলস, আবগারি দপ্তর, ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দপ্তর, বিক্রয় কর দপ্তর ও পুরসভার দিকে নজর থাকবে এই শাখার গোয়েন্দাদের। গোয়েন্দাদের কাছে ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ এলেই সংশ্লিষ্ট কর্মচারীকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হবে।
উল্লেখ্য, জমি-বাড়ির মিউটেশন সার্টিফিকেট, জন্ম-মৃত্যু শংসাপত্র, বিল্ডিং প্ল্যান, জিএসটি রেজিস্ট্রেশন, যানবাহনের সিএফ, পুরানো অটোর বদলে নতুন অটো মঞ্জুর, মদের দোকানের লাইসেন্স, ট্রেড লাইসেন্স, ফায়ার লাইসেন্স প্রভৃতির জন্য রাজ্য সরকারি অফিসে ঘুষ দেওয়াটাই কার্যত দীর্ঘদিনের নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই ঘুষ সংস্কৃতির বদল চাইছেন। সেই লক্ষ্যে সোমবার এই অ্যান্টি করাপশন ব্রাঞ্চে আইজি (আইবি) মুরলীধর শর্মার নেতৃত্বে একঝাঁক নতুন অফিসারকে বদলি করা হয়েছে। উল্লেখ্য, বর্ধমানে লরি আটকে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে সম্প্রতি মোটর ভেহিকেলস দপ্তরের দুজন ইনস্পেক্টরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। স্বভাবতই প্রশ্ন উঠছে, এরপর কার পালা?