নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ফের ডায়মন্ডহারবার রোড। ফের বেহালায় মর্মান্তিক পথদুর্ঘটনা। দুই বাসের রেষারেষিতে প্রাণ গেল এক স্কুটারচালকের। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতের নাম অভিরূপ সরকার (৩৮)। ঠাকুরপুকুরের কালীচরণ দত্ত রোডের বাসিন্দা তিনি। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা নাগাদ অফিস টাইমে ডায়মন্ডহারবার রোডে রেষারেষি চালাচ্ছিল মোমিনপুরমুখী দু’টি ভিন্ন রুটের বাস। তার মাঝে পড়ে যান অভিরূপ। পিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয় তাঁর। দু’টি বাসকে ঘিরে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখান নিত্যযাত্রী ও এলাকাবাসীরা। ভেঙে দেওয়া হয় বাসের কাচ। দু’টি বাসকেই বাজেয়াপ্ত করেছে বেহালা থানার পুলিশ। চালকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন তদন্তকারীরা।
২০২৩ সালের ৪ আগস্ট। লরির চাকায় পিষ্ট হয়ে খুদে স্কুলছাত্র সৌরদীপ সরকারের মৃত্যুর স্মৃতি এখনও টাটকা বেহালাবাসীর মনে। সেই ঘটনায় বিক্ষোভের আগুনে রণক্ষেত্র পরিস্থিতি তৈরি হয় বেহালা চৌরাস্তায়। সেই অকুস্থল থেকে ১০০ মিটার দূরে ফের দুর্ঘটনা ঘটল বৃহস্পতিবার অফিস টাইমে। পুলিশ সূত্রে খবর, নিজের স্কুটারে চেপে অফিস যাচ্ছিলেন অভিরূপ। বেসরকারি সংস্থার কর্মী তিনি। ঠাকুরপুকুর থেকে আসছিল এসডি-৮ রুটের একটি বাস। অন্যদিকে, সরশুনার দিক থেকে বেহালা চৌরাস্তা ক্রসিং হয়ে ডায়মন্ডহারবার রোডে ওঠে ১২সি/১ রুটের অপর বাসটি। মোমিনপুর পর্যন্ত দু’টি বাসেরই গন্তব্য অভিন্ন। তাই অফিস টাইমে তারাতলা পর্যন্ত বেশি সংখ্যায় যাত্রী তুলতে দু’টি বাসই রেষারেষি শুরু করে বেহালা চৌরাস্তা থেকে। এমনই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলেছেন বাসের যাত্রীরা। বিপজ্জনকভাবে চালানোর জন্য তাঁরা একাধিকবার চালককে নিষেধ করেন। পাত্তা না দিয়ে বেহালা ব্লাইন্ড স্কুলের কাছে এসডি-৮ বাসটিকে টপকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে ১২সি/১।
মাথায় হেলমেট পরেই এসডি-৮’এর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন স্কুটারচালক অভিরূপ। দু’টি বাসের রেষারেষির মধ্যে পড়ে যান তিনি। দু’দিক থেকে প্রবল চাপে পিষ্ট হয়ে যান। স্কুটারটিও দু’দিক থেকে দুমড়ে মুচড়ে যায়। ছটফট করতে শুরু করেন অভিরূপ। নিত্যযাত্রীরাও চিৎকার করতে থাকেন। দুর্ঘটনার পরই দু’টি বাসের চালক ঘটনাস্থল থেকে চম্পট দেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু, স্থানীয়রা তাঁদের ধরে ফেলেন। রক্তাক্ত অবস্থায় যুবককে উদ্ধার করে অটোয় চাপিয়ে বিদ্যাসাগর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানেই যুবককে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। স্থানীয়দের দাবি, অত্যন্ত দ্রুত গতিতে বাসটি রেষারেষি করছিল। উল্লেখ্য, চলতি বছরেই ডায়মন্ড হারবার রোডে জোকা ইএসআইয়ের কাছে দু’টি দুর্ঘটনায় ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এনিয়ে ৭ মাসে এই রাস্থায় পথদুর্ঘটনায় ৪ জন প্রাণ হারালেন। ফের বাসের গতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশি নজরদারি নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।