নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বড়বাজারের ঋতুরাজ হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হল সাগির আলি নামে এক অভিযুক্তকে। যে সংস্থা এই হোটেলে ইন্টিরিয়র কাজের বরাত পেয়েছিল, সেখানকার ম্যানেজার ছিল অভিযুক্ত। কাজ চলার সময় সাগিরের সেখানে থাকার কথা থাকলেও ছিল না। এমনকী হোটেলে ইন্টিরিয়রের কাজের জন্য দাহ্য মজুত করা হচ্ছে জেনেও বাধা দেয়নি। ঘটনার পর থেকেই সে পলাতক ছিল। রবিবার রাতে তার মধ্য কলকাতায় আসার খবর পায় পুলিস। এরপর সেখানে হানা দিয়ে সাগিরকে গ্রেপ্তার করে জোড়াসাঁকো থানা। সোমবার অভিযুক্তকে ব্যাঙ্কশাল আদালতে তোলা হলে সওয়াল শেষে বিচারক তাকে ৮ মে পর্যন্ত পুলিসি হেফাজতে পাঠান। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার তদন্তে নেমে সিট হোটেলের মালিক আকাশ চাওলাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জেনেছে, হোটেল প্রথমে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা বলে কিছু ছিল না। এই নিয়ে দমকলের তরফে বারবার হোটেলে নোটিস পাঠানো হয়। তারপরেও হোটেল কর্তৃপক্ষ কিছু করার প্রয়োজনীয়তা বোধ করেনি। ফায়ার অফিসাররা হোটেল ভিজিটে এসে দেখেন, উপরে কোনও জানালা নেই। আগুন নেভানোর কোনও ব্যবস্থা নেই। তাঁদের নজরে এসেছিল আপৎকালীন সিঁড়ি ব্লক করা রয়েছে। সেখানে বিভিন্ন সামগ্রী রাখা আছে। সিঁড়ির রাস্তা সাফ রাখার জন্য বলে গেলেও সে কথায় কানই দেয়নি মালিক আকাশ চাওলা। আগুন নেভানোর কোনও ব্যবস্থা না করায় অগ্নিনির্বাপণ দপ্তর লাইসেন্স পুনর্নবীকরণ করেনি। যে কারণে কয়েক মাসে কিছু সেট লাগানো হয়। যদিও আলাদা কোনও জলাধার তৈরি করা বা বিদ্যুৎ সংযোগ আলাদা নেওয়া হয়নি। অভিযুক্ত মালিক পুলিসকে জেরায় জানিয়েছে, এগুলি দেখিয়ে ফায়ার লাইসেন্সের আবেদন করা হতো। তার আগেই এতবড় ঘটনা ঘটে গেল। তদন্তে উঠে এসেছে, পুলিসও আগুন নেভানোর জন্য পরিকাঠামো গড়ে তুলতে বলেছিল। কিন্তু সেই বিষয়টি এড়িয়ে যায় মালিকরা। অভিযুক্ত আকাশ জানিয়েছে, ইন্টিরিয়রের কাজের জন্য দাহ্য এনে হোটেলে রাখা হয়েছে, এটা জানত। তারপরেও সেটি সরিয়ে রাখার নির্দেশ দেয়নি।



