Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

আসানসোলে জলের পা‌ইপ ফেটে ফের ধস! কতটা নিরাপদ জাতীয় সড়ক, রিপোর্ট দেয়নি ইসিএল

আদৌ নিরাপদ দিল্লি-কলকাতা সংযোগকারী ১৯ নম্বর জাতীয় সড়ক? খনি অঞ্চলে জাতীয় সড়কের উপর একের পর এক ধসের ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে।

আসানসোলে জলের পা‌ইপ ফেটে ফের ধস! কতটা নিরাপদ জাতীয় সড়ক, রিপোর্ট দেয়নি ইসিএল
  • ৩০ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: আদৌ নিরাপদ দিল্লি-কলকাতা সংযোগকারী ১৯ নম্বর জাতীয় সড়ক? খনি অঞ্চলে জাতীয় সড়কের উপর একের পর এক ধসের ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে। কয়েকদিন আগেই জাতীয় সড়কের ধানবাদগামী লেনে ধস নেমেছিল। মঙ্গলবার কলকাতা অভিমুখে যাওয়া লেনে ধস নামল। আগে সেখানে ধস নেমেছিল তার থেকে মাত্র দু’কিলোমিটার দূরেই ধস নামে। আসানসোলের অদূরে এথোড়া মোড়ের কাছে এদিন সকালে ধস নামায় একটি লেনে যান চলাচল স্তব্ধ হয়ে যায়। পুরো এলাকা ঘিরে দেওয়া হয়। দ্রুত সংস্কারের কাজ শুরু হয়। জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ বিষয়টি খতিয়ে দেখে জানায়, জলের পাইপলাইন ফেটে যাওয়ায় ধস নেমেছে।

Advertisement

কয়েকদিন আগে বড় ধসের পিছনে যে এলাকায় অবৈধ কয়লা খাদান ছিল তা কার্যত মেনে নিচ্ছে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ। জাতীয় সড়কের তলায় পরিত্যক্ত খনি বা অবৈধ খাদান রয়েছে কি না জানতে ইসিএলকে চিঠি দিয়েছিল জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ, সেই চিঠির উত্তর তাদের কাছে এখনও আসেনি। তাই খনি অঞ্চলের উপর দিয়ে যাওয়া ১৯নম্বর জাতীয় সড়ক কতটা নিরাপদ তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই গিয়েছে।
জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের প্রজেক্ট ডিরেক্টর প্রমোদ মাহাত বলেন, এদিন ধসটি বড় আকার নেয়নি। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, মাটির নীচে পাইপ ঩ফেটে এই বিপত্তি। কিন্তু চন্দ্রচূড় মন্দিরে অদূরে যে ধসটি নেমেছিল তার পাশেই পরিত্যক্ত খাদানের অস্তিত্ব পাওয়া গিয়েছে। আমরা বিষয়টি নিয়ে ইসিএলকে চিঠি দিয়েছি। জাতীয় সড়কের নীচে কী অবস্থা রয়েছে তা জানতে চেয়েছি। সেই চিঠির উত্তর এখনও আসেনি। 
বাম আমলে আসানসোলের বিস্তীর্ণ এলাকা এক কয়লা মাফিয়ার মুক্তাঞ্চল ছিল বলে অভিযোগ। পরিত্যক্ত বিভিন্ন কোলিয়ারি থেকে কয়লা কেটে লুট করে, অবৈধ খাদান করে মাটি থেকে কয়লা বের করে পাচার করার অভিযোগ উঠত। সেই এলাকার উপর দিয়েই গিয়েছে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ। এবার টানা বৃষ্টিতে সেইসব এলাকার মাটি বসে যাচ্ছে। রক্ষা পাচ্ছে না জাতীয় সড়কও। যে কোনও সময় বড় বিপর্যয়ের আভাস পেয়েই ইসিএল, জেলাশাসক সহ সব পক্ষকে চিঠি দিয়েছে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ। সেই চিঠির উত্তর আসার আগেই আবার ধস নামল। 
শুধু জাতীয় সড়ক নয়, একদা সেই কয়লা মাফিয়াই এখন বড় প্রোমোটার বলে অভিযোগ। একসময় যে মাটির তলার কয়লা কেটে বিক্রি করেছে সেইসব জমিতেই নির্বিচারে প্রোমোটিং চলছে। যেখানে জাতীয় সড়কে ধস নামছে সেখানে আবাসন কতটা নিরাপদ তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় ধসের জন্য যানচলাচল নিয়ন্ত্রণের ঘটনায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে। বিভিন্ন বাস ও ছোট গাড়ি আটকে যাচ্ছে। তেমনই পণ্য পরিবহণেও সমস্যা হচ্ছে। এব্যাপারে প্রতিক্রিয়া জানতে ইসিএলের ডিরেক্টর(টেকনিক্যাল) নীলাদ্রি রায়কে ফোন করা হলেও  ধরেননি। হোয়াটস অ্যাপ মেসেজের কোনও উত্তর দেননি। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ