‘অর্ণব’-এর প্রভাবে আজ-কাল দক্ষিণবঙ্গে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি, বঙ্গোপসাগরে ফের ঘূর্ণিঝড়! অভিমুখ অন্ধ্র উপকূলই
  • ১ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দিন চারেকের মধ্যে বঙ্গোপসাগরে ফের একটি ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হতে চলেছে। ২ নভেম্বর, সোমবার সন্ধ্যা নাগাদ ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাশু’ (ভারতের দেওয়া নাম) অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের কাছে চলে আসবে। শনিবার এমনটাই জানিয়েছে কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তর। গত ২৮ অক্টোবর সকালে খুব তীব্র ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ অন্ধ্র উপকূল অতিক্রম করেছিল ইয়ানমের কাছাকাছি এলাকা দিয়ে। এবারের ঘূর্ণিঝড়টি  অন্ধ্র উপকূলের ঠিক কোন জায়গা দিয়ে  কখন স্থলভূমিতে ঢুকবে, শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তা জানায়নি আবহাওয়া দপ্তর। তবে এবারও ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে অন্ধ্র এবং ওড়িশায় প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

Advertisement

এই ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে আপাতত পশ্চিমবঙ্গের জন্য কোনো সতর্কতা নেই বলেই জানিয়েছেন আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাঞ্চলীয় অধিকর্তা হবিবুর রহমান বিশ্বাস। আজ, রবিবার ও কাল, সোমবার দক্ষিণবঙ্গের কোনো কোনো জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি মাত্রার বৃষ্টি হতে পারে। তারপর তিনদিন দক্ষিণবঙ্গে আবহাওয়া শুকনো থাকবে। উত্তরবঙ্গেও পাহাড় লাগোয়া কিছু এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি মাত্রায় বৃষ্টি হতে পারে আগামী ৩-৪ দিন। তারপর ওই এলাকাও শুকনো থাকবে। রাজ্যে কিছু জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির কারণ আগের ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাব। 
দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও লাগোয়া আন্দামানের উপর শনিবার সকালেই সুস্পষ্ট নিম্নচাপ তৈরি হয়। এটি পশ্চিম, উত্তর-পশ্চিম অভিমুখে অগ্রসর হওয়ার পথে ক্রমশ শক্তি বৃদ্ধি করে আজ, রবিবারই ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে। তারপর এটি একই অভিমুখে অগ্রসর হয়ে সোমবার সন্ধ্যা নাগাদ পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে অন্ধ্র উপকূলের কাছাকাছি এসে পৌঁছাবে। সাধারণ ঘূর্ণিঝড় হিসাবেই এটি উপকূল অতিক্রম করবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।
এদিকে, কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তর নভেম্বর মাসের পূর্বাভাসে জানিয়েছে, দেশের বেশিরভাগ অংশে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের থেকে বেশি থাকবে। পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রেও একই  ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে এল নিনোর তীব্রতা বেশি থাকবে। ইতিমধ্যে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থাসহ বিভিন্ন আবহাওয়া সংস্থা মার্চ মাস পর্যন্ত এল নিনোর প্রভাবে ভারতসহ বিভিন্ন দেশে উষ্ণতা বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। দেশের বেশির ভাগ অংশে নভেম্বরে স্বাভাবিকের থেকে কম বৃষ্টি হবে। মধ্য, উত্তর পশ্চিম ও উত্তর পূর্ব ভারতের কিছু অংশ ব্যতিক্রম হতে পারে। দক্ষিণ ভারতে এখন উত্তর পূর্ব মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দ্বিতীয় পর্যায়ের বর্ষাকাল শুরু হয়েছে। কিন্তু সেখানেও স্বাভাবিকের থেকে কম বৃষ্টি হতে পারে। জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাসের বর্ষাকালেও দক্ষিণ ভারতের বেশিরভাগ অংশে বৃষ্টি অনেক কম হয়েছে। কারণ, এল নিনো তাপমাত্র বৃদ্ধির সঙ্গে বৃষ্টির উপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।